পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৫
জনাপবাদ না সত্য-কথা।

তাহারা যে অন্য কাহাকেও সম্মান প্রদর্শন করিবে, তাহার কিছুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। হয় ত পূর্ব্বে কোনরূপ আভাস পাইলে রাজদূতকে কলিকাতায় পদার্পণ করিতেও বাধা প্রদান করিতে পারে; সুচতুর চরাধিপতি রামরাম সিংহ তজ্জন্য এক নুতন কৌশল অবলম্বন করিলেন। তাহার ভ্রাতাকে * দৌত্যকার্যে নিযুক্ত করিয়া তাঁহাকে ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে একখানি ডিঙ্গী নৌকায় কলিকাতায় পাঠাইয়া দিলেন। রাজদূতকে কেহ চিনিতে পারিল না, তিনি নিরাপদে উমিচাঁদের গৃহে আশ্ৰয়লাভ করিলেন, এবং বণিকরাজের সঙ্গে ইংরাজ-দরবারে উপস্থিত হইয়া আত্মপ্রকাশ করিলেন। কিন্তু তাঁহার ভাগ্যেও লাঞ্ছনার একশেষ। হইল!

 এই সকল পুরাকাহিনী পাঠ করিতে করিতে স্বতঃই জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা হয়, ইংরাজেরা এত দূর উদ্ধত হইয়া উঠিয়াছিলেন কেন? অথবা এ সকল নিতান্ত অলীক জনাপবাদ বলিলে ক্ষতি কি? যাহারা পদাশ্রিত বিদেশীয় বণিক, তাহাদের এত স্পর্ধা, এত সাহস, এত বাহুবল? বাস্তবিক পূৰ্ব্বাপর সমস্ত ঘটনার আলোচনা না করিলে, এ সকল কথা নিতান্ত জনাপবাদ বলিয়া পরিত্যাগ করিতে ইচ্ছা হয়। কিন্তু ইহা জনাপবাদ নহে;—ইহার নিগূঢ় রহস্য উদঘাটন করিলে কাহারও আর বিস্ময়ের কারণ থাকিবে না।

 সিরাজদ্দৌলা যদিও নিরুদ্বেগে সিংহাসনে পদার্পণ করিয়াছিলেন, তথাপি অনেকেই বিশ্বাস করিত যে, রাজবল্লভ জীবিত থাকিতে সিরাজ

 * এযুক্ত বিহারীলাল সরকার জন্মভূমিতে” লিখিয়াছেন যে, স্বয়ং মুন্না সিংহই এই দৌত্যকাব্যে গমন করিয়াছিলেন। আমরা কিন্তু কোনস্থানে তাহার নিদর্শন পাইলাম না।