পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৬
সিরাজদৌলা।

দ্দৌলার নিস্তার নাই;—যেমন করিয়া হউক, সিরাজদ্দৌলাকে শীঘ্রই সিংহাসনচ্যুত করিয়া ঘসেটি বেগমের নামে মহারাজ রাজবল্লভই বাঙ্গালা, বিহার, উড়িষ্যায় নবাবী করিতে আরম্ভ করিবেন। আলি-' বর্দ্দী জীবিত থাকিতেই ইংরাজের ইহার কিছু কিছু আভাস পাইয়া- ছিলেন; এবং কোনরূপে রাজবল্লভকে হস্তগত রাখিবার জন্য তাঁহার পূৰ্ব্বকৃত সমুদায় অত্যাচার বিস্মৃত হইয়া, ইংরাজেরা তাঁহার পলায়িত পুত্র কৃষ্ণবল্লভকে কলিকাতায় আশ্রয়দান করিয়াছিলেন। ওয়াটস সাহেব প্রায় প্রত্যহই লিখিতে লাগিলেন যে, “সিরাজদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করিলে কি হইবে? এখনও ঘসেটি বেগমের আশা নির্ম্মূল হয় নাই।” সুতরাং ইংরাজেরা রাজবল্লভকে হাতছাড়া করিয়া সিরাজদ্দৌলার পক্ষাবলম্বন করিতে সাহস পাইলেন না।

 উত্তরকালে যখন রাজবল্লভের সমুদয় আশা ভরসা একেবারে নির্ম্মূল হইয়া গেল, এবং সিরাজদ্দৌলাই সগৌরবে রাজ্যশাসন করিতে, আরম্ভ করিবেন, তখন ইংরাজ ইতিহাসলেখকদিগের গলদঘর্ম্ম উপস্থিত হইল। তাঁহার আদ্যোপান্ত সকল কথা গোপন করিয়া কেবল এইমাত্র লিখিয়া রাখিলেন যে, “একজন রাজদূত আসিয়াছিল, তাহা সত্য কথা। কিন্তু নবাব সিরাজদ্দৌলাই যে সেই রাজদূত পাঠাইয়াছিলেন, তাহা আমরা কেমন করিয়া বুঝিব? রাজদূত সামান্য ফেরিওয়ালার ন্যায় ছদ্মবেশে নগর প্রবেশ কৱিয়া আমাদের পরমশত্রু “উমিচাঁদের” বাটীতে প্রবেশ, করিয়াছিল কেন? উমিচাঁদের সঙ্গে আমাদের কলহ বিবাদ-আমরা ভাবিয়াছিলাম যে, উমিচাঁদ আদর বাড়াইবার জন্য এই কৌশলজাল বিস্তার করিয়াছেন। সেই জন্যই ত আমরা রাজদূতকে উপেক্ষা করিয়া- ছিলাম। নচেৎ, আমরা যদি ঘুণাক্ষরেও বুঝিতাম যে, স্বয়ং সিরাজ-