পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৯
পিতৃব্য-রমণী।

কৈফিয়ৎ আবৃত্তি করাইয়া সসম্রমে আসনগ্রহণ করিলেন। ইংরাজেরা যে সিরাজদ্দৌলাকে দুর্দ্দান্ত নরপিশাচ বলিয়া বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, সেই-উদ্ধত যুবক বাঙ্গালা, বিহার, উড়িষ্যার প্রবল প্রতাপান্বিত মোগল রাজসিংহাসনে বসিয়া পদাশ্রিত বণিক সমিতির এইরূপ উদ্ধত ব্যবহারের পরিচয় পাইয়াও কোনরূপ হৃদয়বিকার প্রকাশ করিলেন না। তিনি বুঝিলেন যে, কেবল গৃহকলহের ছিদ্রানুসন্ধান পাইয়াই ইংরাজ বণিক উদ্ধত স্বভাবের পরিচয় প্রদান করিতে ইতস্ততঃ করিতেছেন না। সুতরাং সর্ব্বাগ্রে ঘসেটি বেগমের চক্রান্ত চূর্ণ করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিলেন।

 ঘসেটি বেগম বিধবা। সিরাজদ্দৌলা ভিন্ন তাঁহার আর কেহ পরমা- ত্মীয় নাই। সুতরাং বৈধব্যদশায় একাকিনী মতিঝিলের রাজ প্রাসাদে স্বাধীনভাবে বিচরণ না করিয়া রাজান্তঃপুরে সিরাজদ্দৌলার মাতা ও আলিবর্দ্দীর মহিষীর সহিত একত্র বাস করিবার জন্য সিরাজদ্দৌলা বিনীত-ভাবে আত্ম-নিবেদন করিলেন। রাজবল্লভের স্বার্থসিদ্ধির সহজ পথ চিররুদ্ধ হইতেছে বলিয়া তিনি তুরী ভেরী বাজাইয়া মতিঝিলের সিংহদ্বারে সেনাসমাবেশ করিতে আরম্ভ করিলেন। সিরাজদ্দৌলা ইহাতে উত্ত্যক্ত না হইয়া তাহাকে রাজসদনে আহ্বান করিলেন, এবং তাঁহার সকল প্রকার কুচরিত্রের কথা অবগত থাকিয়াও তাঁহার পদগৌরব অক্ষুন্ন রাখিয়া বিরক্তপাতে মতিঝিল অধিকার করিয়া পিতৃব্যরমণীকে রাজাপুরে আনয়ন করিলেন। যেরূপ সুকৌশলে বিনা রক্তপাতে এই প্রধুমিত বিবাদবহ্নি নির্ব্বাণলাভ করিল, তাহার জন্য ইতিহাস একবারও সিরাজদ্দৌলাকে সাধুবাদ প্রদান করে নাই;—বরং প্রকৃত কাহিনী গোপন করিয়া লিখিয়া রাখিয়াছে যে, “সিরাজদ্দৌলার