পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৫
হেষ্টিংস দপ্তর।

 ঘসেটি বেগমকে বশীভূত করিয়াই সিরাজদ্দৌলা নিশ্চিন্ত হইবার অবসর পাইলেন না। উত্তরে পূর্ণিয়াধিপতি শওকতজঙ্গ, এবং দক্ষিণে কলিকাতাবাসী উদ্ধত ইংরাজ তখনো প্রবল স্পর্ধায় তাঁহার রাজশক্তিকে উপহাস করিতে ছিলেন। সুতরাং সিরাজদ্দৌলা রাজধানীর ষড়যন্ত্র চূর্ণ করিবামাত্র, পূর্ণিয়ার ষড়যন্ত্র চূর্ণ করিবার জন্য সসৈন্যে রাজমহলের পথে পূর্ণিয়াভিমুখে যুদ্ধযাত্রা করিলেন। গমনকালে কলিকাতাবাসী উদ্ধত ইংরাজকে পুনরায় তর্জ্জন গর্জ্জন করিয়া লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “ইংরাজ-গবর্ণর ড্রেক সাহেব পত্রপাঠ দুর্গপ্রাচীর চূর্ণ না করিলে সিরাজদ্দৌলা সশরীরে শুভাগমন করিয়া ড্রেক সাহেবকে ভাগীরথীগর্ভে নিক্ষেপ করিবেন।”[১]

 যথাকালে এই পত্র ইংরেজ-দরবারের হস্তগত হইল। তাঁহারা এত দিন মহারাজ রাজবল্লভ এবং ঘসেটি বেগমের মুখের দিকে চাহিয়া, সিরাজদ্দৌলার প্রেরিত সন্ত্রান্ত রাজদূতদিগকে অপমান করিয়া নগর বহিষ্কৃত করিতে কিছুমাত্র ইতস্ততঃ করেন নাই; রাজলিপি পাইয়াও তাহার প্রত্যুত্তর প্রদান করা আবশ্যক বলিয়া স্বীকার করেন নাই; কিন্তু এখন সেই সিরাজদ্দৌলা আবার তর্জ্জন গর্জ্জন করিয়া পত্র লিখিতেছেন দেখিয়া, সকলেই আতঙ্কযুক্ত হইলেন। এবার পত্রোত্তর প্রদত্ত হইল, কিন্তু তাহাতে প্রকৃত প্রস্তাবের কিছুমাত্র উত্তর প্রদত্ত হইল না।

 মহামতি ড্রেক লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “সর্ব্বৈব মিথ্যা কথা। কে বলিল যে, ইংরাজেরা কলিকাতায় নগর-প্রাচীর রচনা করিতেছেন?

  1. That unless upon receipt of that order, he (Mr. Drake) did not immediately begin and pull down those fortifications, he “would come down himself and throw him in the river.—Hastings Mss. vol., 29209.