পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সিরাজদ্দৌলা

দ্বিখণ্ডিত করে, শোণিত লোলুপ জনসাধারণ তখন উন্মত্ত পিশাচের মত ভৈরব নৃত্যে করতালি দিয়া কিছুদিনের জন্য প্রজাতন্ত্র সংস্থাপন করিয়াছিল! কিন্তু তখন ও তাঁহাদের দেশের কুটীরে কুটীরে দুৰ্গে-দুর্গে, প্রাসাদে প্রাসাদে, কত কৃষক, কত সৈনিক, কত সন্ত্রান্ত পরিবার দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিয়াছিল! বাঙ্গালী যখন ষড়যন্ত্র করিয়া সিরাজদ্দৌলাকে গৃহতাড়িত করে, মীরণের নৃশং আদেশে সিরাজমুণ্ড যখন দেহবিচুত হয়, দেশের রাজা প্ৰজা তখন সকলে মিলিয়া বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরকে সিংহাসনে বসাইয়া তাঁহার কৃপা কটাক্ষের প্রতীক্ষায় করাজোড়ে দাড়াইয়াছিলেন;—সিরাজের শোচনীয় পরিণামে তাঁহার জন্য কেহই একবিন্দু আশ্রমোচনের অবসর পান নাই।

 এ সকল এখন পুরাতন কথা। দেশের আর সে অবস্থা নাই, লোকের আর সে তীব্ৰ প্ৰতিহিংসা নাই, সিরাজ এবং তাঁহার সমসাময়িক রাজা প্ৰজা সকলেই ইহলোক হইতে অবসর গ্রহণ করিয়াছেন। এখন বোধ হয়, বাঙ্গালী যথার্থ নিরপেক্ষভাবে সিরাজচরিত্র আলোচনা করিবার অবসর প্রাইরেন।

 সিরাজদ্দৌলা নাই। তাহার সময়ে যে বাঙ্গালা দেশ ছিল, সে বাঙ্গালা দেশও নাই। মোগল বাদশাহেরা যাহাকে “সমুদয় মানব জাতির স্বৰ্গতুল্য বঙ্গভূমি”[১] বলিয়া অনুশাসনপত্রে উল্লেখ করিতেন, সে স্বৰ্গ এখন গৌরবচ্যুত হৃত-সর্ব্বস্ব কাঙ্গাল ভূমি! সে শিল্প নাই, সে বাণিজ্য নাই, বাঙ্গালীর সে রাজপদ মন্ত্রিপদ নাই, জমীদারদিগের সে জীবনমরণের বিচারক্ষমতা নাই;—সে বাহুবল, সে রণকৌশল,

  1. Akbar and A urangzeb.