পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৩
যুদ্ধযাত্রা।

এই সকল স্বার্থান্ধ মন্ত্রিদল, আপনারা অন্তরালে থাকিয়া, প্রকারান্তরে ইংরাজদিগের স্পর্ধাবৃদ্ধির সহায়তা করিতেছেন! সুতরাং তিনি আর কাহারও কথায় কর্ণপাত না করিয়া, সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রা করিবার আদেশ প্রদান করিলেন। খোজা বাজিদ এই সময়ে হুগলীতে অবস্থান করিতেছিলেন; ইংরাজদিগের প্ররোচনায় তিনিও নবাবকে নিবৃত্ত হইবার জন্য অনুরোধ করিতে অগ্রসর হইয়াছিলেন। কিন্তু সিরাজদ্দৌলা বলিলেন যে, “ড্রেক সাহেব তাঁহাকে বড়ই অপমান করিয়াছেন;— নবাব মুর্শিদকুলীখাঁর আমলে ইংরাজেরা যেরূপভাবে বাণিজ্য লইয়াই সন্তুষ্ট ছিলেন, এখনও যদি তাঁহারা সেইরূপভাবে বাস করিতে সম্মত থাকেন, তবেই ইংরাজদিগকে আশ্রয়দান করা কর্ত্তব্য; নচেৎ ইহাদিগকে আর কোন কারণে এ দেশে বাস করিবার প্রশ্রয় দেওয়া যাইবে না!”[১]

 তৎকালে কলিকাতায় যে অল্প কয়েক সহস্র ইংরাজ বণিকের বসতি ছিল, তাঁহারা যেমন সংখ্যায় নগণ্য, সেইরূপ সমরকৌশলে নিতান্ত অশিক্ষিত। তাঁহাদিগকে পরাজয় করিতে সবিশেষ আড়ম্বর করা নিষ্প্রয়োজন। সিরাজদ্দৌলা তাহা জানিতেন। কিন্তু পাছে তাঁহার অনুপস্থিতিকালের অবসর পাইয়া কুচক্রিদল শওকতজঙ্গকে সিংহাসনে বসাইয়া দিয়া সর্ব্বনাশসাধন করে, এই ভয়ে যাঁহার যাঁহার প্রতি সন্দেহ সমধিক প্রবল, তাঁহাদের সকলকেই সঙ্গে লইয়া যুদ্ধযাত্রা করিলেন;— নিতান্ত অনুগত কয়েক জন সেনানায়ক রাজধানীরক্ষার জন্য মুর্শিদাবাদে অবস্থান করিতে লাগিলেন। ইচ্ছা না থাকিলেও, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর, মাণিকচাঁদ,—সকলকেই সসৈন্যে নবাবের অনুগমন করিতে হইল।

  1. Orme, vol. II. 58.