পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সিরাজদৌলা

কেহ কোষাধ্যক্ষ, কেহ বা সেনানায়ক হইয়া বুদ্ধিব উন্মত্ত পিশাচের বাহুবিক্রমে বাঙ্গালাদেশের ভাগ্য বিবৰ্ত্তন করিতেন। সংস্থাপন

 মুসলমান নবাব আপনাকে বাঙ্গালী বলিয়া পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করিতেন না! বাঙ্গালাদেশই তাঁহার স্বদেশ, এবং বাঙ্গালী জাতিই তাঁহার স্বজাতি হইয়া উঠিয়াছিল। রাজকোষের ধনরত্ন বাঙ্গালাদেশেই সঞ্চিত থাকিত; যাহা ব্যয় হইত, তাহাও বাঙ্গালীগণ কেহ দ্রব্য-বিনিময়ে কেহ শ্ৰম-বিনিময়ে কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়া লইতে পারিত। দেশের টাকা দেশেই থাকিত, তাহা সাত সমুদ্র তের নদীর পারে চির-নির্ব্বাসিত হইত না।

 সেই একদিন, আর এই একদিন! আজ সে দিনের বিলুপ্ত কাহিনীর আলোচনা করিতে হইলে অতীতের স্বপ্ন-সমুদ্র সন্তরণ করিয়া সেকালের বাস্তব রাজ্যের বাস্তব চিত্রপটের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইতে হইবে; সেকালের চক্ষু লইয়া, সেকালের প্রাণ লইয়া সেকালের ইতিহাস অধ্যয়ন করিতে হইবে। সে ইতিহাস কেবল হতভাগ্য সিরাজদ্দৌলার মৰ্ম্ম-বেদনার ইতিহাস নাহে;—তাহা আমাদিগের পূজনীয় পিতৃপিতামহের সুখদুঃখের ইতিহাস।

 সিরাজদ্দৌলার সময়ে বাঙ্গালাদেশ ১৩ চাকলায়, এবং ১৬৬০ পরগণায় বিভক্ত ছিল[১]। পরগণাগুলি কোন না কোন জমীদারের অধিকারভুক্ত ছিল। তাঁহারা বাহুবলে আপনি আপন রাজ্য রক্ষা করিয়া বিচারবলে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করিয়া, যথাকালে নবাব-সরকারে রাজস্ব দিতে পারিলে তাঁহাদের স্বাধীন শক্তির প্রবল প্ৰতাপে

  1. Grant's Analysis of Finances of Bengal.