পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৮
সিরাজদ্দৌলা

পারিল না। অনেক চেষ্টায় খালের ধারের একটি ক্ষুদ্র ঝোপের মধ্যে কয়েকজন সিপাহী ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়াছিল; কিন্তু পিস্‌কার্ড নামক একজন ইংরাজসেনানী রজনীযোগে তাহাদিগকে নিতান্ত অসহায় অবস্থায় খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিলেন। ক্ষণিক উল্লাসে নির্ব্বাণোন্মুখ দীপশিখার ন্যায় ইংরাজপ্রতাপ চারিদিকে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল![১]

 উমাচরণের আহত জমাদার অলক্ষিতভাবে নগর হইতে পলায়ন করিয়া একেবারে নবাব-শিবিরে উপনীত হইলেন; এবং সিরাজদ্দৌলার নিকট আদ্যোপান্ত সকল কথা নিবেদন করিয়া দক্ষিণ এবং পূর্ব্বাঞ্চল হইতে নগরাক্রমণের সন্ধান প্রকাশ করিয়া দিলেন। রজনী প্রভাত হইবামাত্র উত্তরের কামানগর্জ্জন নীরব হইয়া গেল, পুর্ব্ব এবং দক্ষিণদিক হইতে যুগপৎ লৌহপিণ্ড ছুটিয়া আসিতে লাগিল। ইংরাজেরা তাড়াতাড়ি তোপমঞ্চে আরোহণ করিয়া নগরক্ষার জন্য কামানে অগ্নিসংযোগ করিতে ধাবিত হইলেন!

 লালবাজারের রাস্তার উপর যে পূর্ব্বতোপমঞ্চ নির্ম্মিত হইয়াছিল, তাহার কিয়দ্দূর সম্মুখেই “জেলখানা”। ইংরাজেরা তাহার উত্তর প্রাচীরে ছিদ্র ফুটাইয়া কয়েকটি কামান পাতিয়া রাখিয়াছিলেন, এবং লালবাজারের রাজপথে নবাব-সেনাদল নগরপ্রবেশ করিবামাত্র, জেলখানা ও পূর্ব্বতোপমঞ্চ হইতে যুগপৎ অনলবর্ষণ করিয়া শত্রুসেনার সর্বনাশ করিবেন ভাবিয়া কথঞ্চিৎ হৃষ্টান্তকরণেই যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হইতেছিলেন। কিন্তু নবাব-সেনা নির্ব্বোধের সরল রাজপথ

  1. Orme, vol, ii, 62.