পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সিরাজদ্দৌলা

রাত্রি জাগিয়া, লাঠি ঘুরাইয়া, মশাল জ্বালাইয়া, তরবারি ভাজিয়া, বর্ষা চালাইয়া আত্মরক্ষা করিত। দস্তু-তস্কর ধরা পড়িলে, গ্রামবাসীরাই দশজনে মিলিয়া প্ৰয়োজনাতীত উত্তম মধ্যম দিয়া সংক্ষেপে, বিচার কাৰ্য্য সমাধা করিয়া ফেলিত।

 ইহাতে যেমন দুঃখ ছিল, সেইরূপ সুখও ছিল। আজকাল দস্যু-তস্করে উপদ্রব করিলে, কেহ কাহারও সাহায্য করিতে বাহির হয় না; অসহায় গৃহস্থ ঘরে পড়িয়া আৰ্ত্তনাদ করিতে থাকে! দাস্যুদল সৰ্ব্বস্ব লুটিয়া, মানসন্ত্ৰম পদদলিত করিয়া হেলিতে দুলিতে ধীরে ধীরে বহুদূরে চলিয়া গেলে, গৃহস্থ পঞ্চায়েৎ ডাকিয়া থানায় গিয়া পুলিসে সংবাদ দিয়া আসে। দারোগা, বকসী, কনেষ্টবল্ এবং চৌকিদার মহাশয় অবসর অনুসারে একে একে শুভাগমন করিলে, গৃহস্থ ব্যস্তসমস্ত হইয়া একহাতে চোখের জল মুছিতে মুছিতে, আর এক হাতে তাহাদের যথাযোগ্য মৰ্য্যাদা রক্ষার জন্য ঋণ গ্রহণে বাহির হয়! দস্যু-তস্কর ধরা পড়ুক বা না পড়ুক, সন্দেহে পড়িয়া অনেক গরীবকে নিৰ্য্যাতন সহ করিতে হয়; দুই একস্থলে মিথ্যা অভিযোগ বলিয়া গৃহস্থকেও রাজদ্বারে বিলক্ষণ বিড়ম্বনা ভোগ করিতে হয়। সেকালে সুবিচারের সূক্ষ্মযন্ত্র ছিল না, সুতরাং কাহাকেও বিচার-বিড়ম্বনা ভোগ করিতে হইত না।

 অনেক বিষয়ে অসুবিধা ছিল; কিন্তু অনেক বিষয়ে সুবিধাও ছিল। পথ ঘাট ছিল না, ত্বরিত গমনের সদুপায় ছিল না, দাতব্যচিকিৎসালয় এবং বিনামূল্যে বিতরণীয় ঔষধালয় ছিল না;—কিন্তু লোকের ধন-ধান্য ছিল, স্বাস্থ্য ও বাহুবল ছিল; হা অন্ন! হা অন্ন! করিয়া দেশে ছুটিয়া বেড়াইবার বিশেষ আবশ্যক হইত না। লোকে ঘরে বসিয়া হাতে লেখা তুলট কাগজের রামায়ণ মহাভারত পড়িত, অবসর সময়ে