পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৯
আশঙ্কা।

মশাল লইয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে! ৭॥৹ টার সময়ে কতিপয় সেনানায়ক মশাল লইয়া প্রাচীয়-সংলগ্ন কক্ষগুলি তন্ন তন্ন করিয়া দেখিতে লাগিলেন। তখন আর সন্দেহ রহিল না; আমাদের অনুমানই ঠিক হইল ভাবিয়া ব্যাকুল হইয়া উঠিলাম। ভাবিলাম যে, শীঘ্র শীঘ্র অগ্নি-সৎকার শেষ করিবার জন্য নিকটস্থ কক্ষগুলিতেও অগ্নিসংযোগ করিতে আসিতেছে! তখন সকলেই স্থির করিলাম,আর না, এইবার প্রহরী দিগের উপর লাফাইয়া পড়িব, তরবারি কাড়িয়া লইব, সম্মুখে যে সকল গোলন্দাজ দাঁড়াইয়া আছে, তাহাদিগকে সদর্পে আক্রমণ করিয়া, বীরের ন্যায় জীবনবিসর্জ্জন করিব,—কাপুরুষের মত রহিয়া রহিয়া আগুনে পুড়িয়া মরিব না! বেলি, জেন্‌কস্‌ ও রেভেলী বলিলেন,—‘সহসা এত বড় দুঃসাহসের কার্য্য করিয়া কি হইবে? আগে ব্যাপার কি দেখিয়া আইস।’ আমি একটু উঠিয়া গিয়া দেখিতে লাগিলাম। কিন্তু যাহা দেখিলাম তাহাতে ভ্রম দূর হইয়া গেল! আমাদিগকে কোথায় রাত্রিবাস করিতে হইবে, তাহা স্থির করিতে না পারিয়া, মশাল লইয়া স্থানান্বেষণ করিতেছে;—“দেখিলাম যে, পাহারাবারিকের ঘরগুলির অনুসন্ধান চলিতেছে।

 “এইখানে একজন লোকের পরিচয় দিয়া রাখি। ইহার নাম লিচ্;—ইনি কোম্পানীর কলিকাতার কুঠীর কর্ম্মকার ছিলেন। আগে ইঁহাকে কেবল বন্ধু বলিয়াই সমাদর করিতাম, কিন্তু বন্ধু আজি যেরূপ ব্যবহার করিলেন, তাহতে অধিকতর সমাদর করা আবশ্যক। মুসলমানেরা যে সময়ে তুমুল কোলাহল করিয়া প্রবেশ করিতেছিল, লিচ্ সেই অবসরে পলায়ন করিয়াছিলেন। অন্ধকার হইলে ফিরিয়া আসিয়া আমাকে চুপি চুপি বলিতে লাগিলেন যে, তিনি নদীতীরে নৌকা প্রস্তুত