পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৯৫
আৰ্তনাদ।

গুলি করিয়া মার—আমাকে আগে মার-আমাকেই আগে মার,— চারিদিক হইতে কেবল এই ভয়ঙ্কর কোলাহল! অনেকে প্রহরীদিগকে উত্তেজিত করিবার জন্য, নবাব এবং মাণিকচাঁদের নামোল্লেখ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে করিতে উন্মত্তের মত জানালার উপর আছড়াইয়া পড়িতে লাগিল! যাহারা অবসন্ন হইয়া পড়িল, তাহারা গৃহমধ্যে সহকারীদিগের শবদেহ আলিঙ্গন করিয়া চিরনিদ্রায় অভিভূত হইতে লাগিল। যাহারা জীবিত রহিল, তাহারা জানালা আক্রমণের জন্য প্রচণ্ডবেগে সহকারীদিগকে পদদলিত করিয়া ছুটিয়া চলিল! কেহ দাঁড়াইয়া, কেহ কাহারও কাঁধের উপর চড়িয়া প্রাণপণে জানালার গরাদে চাপিয়া ধরিতে লাগিল;—তখন আর কাহার সাধ্য যে তাহাদিগকে সরাইয়া দেয়। আমার কাঁধের উপর যেন পাষাণ চাপিয়া পড়িল। গুরুভারে অবনত হইলেও পরিত্রাণ নাই; যে দুর্গন্ধ! যেন নাসারন্ধ্র জ্বলিয়া উঠিতে লাগিল।

 “এমন নিদারুণ পরীক্ষায় পড়িয়া ধর্ম্মবুদ্ধি স্থির রাখিতে পারিলাম না। সহসা মনে হইল যে, আমার কাছে একখানি ছুরিকা রহিয়াছে কেন? সেই ছুরিকা বাহির করিয়া শিরা উপশিরা খণ্ড খণ্ড করিবার আয়োজন করিলাম! অকস্মাৎ যেন ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা প্রত্যাবর্ত্তন করিল। কাপুরুষের ন্যায় আত্ম-হত্যা করা বড়ই নীচকার্য্য বলিয়া মনে হইতে লাগিল। তখন প্রায় ২টা বাজে বাজে। এরূপ ভাবে আর অধিকক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিতে পারিলাম না। আমার কাছে কেয়ারী নামে একজন নৌ-সেনানায়ক দাঁড়াইয়া ছিলেন। তিনি সমস্ত দিন অতুল বিক্রমে দুর্গরক্ষা করিয়াছিলেন। তাঁহাকে আমার স্থান অধিকার করিবার জন্য আহ্বান করিয়া আমি গৃহমধ্যে মৃত্যুশয্যায় শয়ন