পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১২
সিরাজদ্দৌলা।

জন যোদ্ধা গণিত হইয়াছিলেন, তন্মধ্যে ৬০ জন মাত্র ইউরোপীয়।[১] ইহাদের মধ্যে গভর্ণর ড্রেক, সেনাপতি মিন্‌চিন্‌, কাপ্তান গ্রান্ট, মিষ্টার ম্যাকেট, ম্যানিংহাম, ফ্রাঙ্কল্যাণ্ড, রেভারেণ্ড কাপ্তান লেপ্‌টেনান্ট মেপল্‌ফট, কাপ্তান হেন্‌রী ওয়েডারবরণ, সম্‌নার, চার্লস ডগলাস, প্রভৃতি দশজন বীরপুরুষের পলায়নের কথা হলওয়েলের পুস্তকেই প্রকাশিত আছে। ইঁহাদের পলায়নের পর ১৭০ জন দুর্গমধ্যে অবরুদ্ধ ছিল; তন্মধ্যে ২৫ জন গতাসু এবং ৭০ জন আহত ও মৃতকল্প হইয়াছিল।[২] হলওয়েলের হিসাব অনুসারে দুর্গজয়ের সময়ে দুর্গমধ্যে ৫০ জনের অধিক ইউরোপীয় থাকা প্রমাণ হয় না। পঞ্চাশজনের মধ্যে ১২১ জন ইউরোপীয় অন্ধকূপে মরিল, ১০ জন অন্ধকূপে আবদ্ধ হইয়াও জীবিত রহিল,—ইহা কি নিতান্তই হাস্যাস্পদ কথা নহে?

 ইংরাজবন্দীদিগের জন্য সিপাহীরা যে সে রজনীতে সুকোমল পুষ্প, শয্যা রচনা করিয়া দেয় নাই, তাহা সত্য হইলেও হলওয়েল যেরূপ ক্ষুদ্ৰকক্ষে যে পরিমাণ নরনারী কারারুদ্ধ করিবার কথা লিখিয়া

  1. The troops in garrison consisted, by the muster rolls laid before us about the 6th or 8th of June, of 145 in battalion, and 45 of the train, officers included in both only 60 Europeans.—Holwell's letter to the Hon'ble the Court of Directors, dated Fulta 30th November 1756. (para.36)
  2. Those remaining, including officers, volunteers, soldiers, and militia, did not exceed 170 men; and of these there were 25 killed and about 70 wounded before noon of the 20th. —Ibib. অথচ এই হলওয়েলই লিখিয়া গিয়াছেন যে, অন্ধকূপে ১২১ জন ইউরোপীয় প্রাণত্যাগ করে তন্মধ্যে ৫২ জনের নাম জ্ঞাত, ৬৯ জনের নাম তাঁহার অজ্ঞাত!!