পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২১৩
অমৃতসরের হত্যাকাণ্ড।

গিয়াছেন, তাহা কিছুতেই সত্য বলিয়া স্বীকার করিতে সাহস হয় না![১]

 ইংরাজ-ইতিহাস-লেখকমাত্রেই হলওয়েল-বর্ণিত অন্ধকুপ-হত্যাকাহিনী সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়া লইয়াছেন। কিন্তু কাহার দোষে এরূপ দুর্ঘটনা সংঘটিত হইয়াছিল, সে বিষয়ে তাঁহাদের মধ্যেও বিস্তর মতভেদ উপস্থিত হইয়াছে। মুর্শিদাবাদের ভূতপূর্ব্ব বিচারপতি স্বনাম খ্যাত মহাত্মা বিভারিজ বলেন যে, “আমাদের পক্ষে অন্ধকূপ হত্যার কথা তুলিয়া নবাব সিরাজদ্দৌলার নিষ্ঠুর স্বভাবের কলঙ্কঘোষণা করা শোভা পায় না। এ বিষয়ে বোধ হয় বাঙ্‌নিষ্পত্তি না করাই কর্ত্তব্য। ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দের ১লা আগষ্ট অমৃতসর প্রদেশে কি দুর্ঘটনাই না সংঘটিত হইয়াছিল।”[২] বিভারিজ সাহেব যে দুর্ঘটনার উল্লেখ করিয়াছেন, তাহার নিকট অন্ধকুপ-হত্যা লজ্জায় মলিন হইয়া যায়। একটি ক্ষুদ্রায়তন গোলাকার কক্ষের মধ্যে বহুসংখ্যক সিপাহীকে কারারুদ্ধ করিয়া ইংরাজেরা তাহার মধ্য হইতে একটি একটি করিয়া ২৩৭ জন হতভাগাকে বাহিরে টানিয়া আনিয়া গুলি করেন; তখন বন্দীদিগের মধ্যে

  1. অন্ধকূপহত্যা নামে যে কাহিনী ইতিহাসে স্থান লাভ করিয়াছে, এই পরিচ্ছেদে তাহাই সমালোচিত হইয়াছে। প্রকৃত প্রস্তাবে কি ঘটিয়াছিল, তাহা কে বলিবে? হলওয়েল ও তাঁহার সহকারিগণ সে রজনীতে কারারুদ্ধ ছিলেন-সুতরাং তাঁহাদের পক্ষে সে নিদাঘ সন্তপ্ত রজনী সুখকর না হইবারই কথা। কিন্তু তাহা যে কাহারও অকাল মৃত্যুর কারণ হইয়াছিল, সে কথা সমসাময়িক কাগজপত্রে উল্লিখিত নাই। আলিনগরের সন্ধিপত্রে সকলের ভাগ্যেই ক্ষতিপুরণ নির্দ্দিষ্ট হইয়াছিল; কারারোধে মৃত্যু ঘটিয়া থাকিলে, তাহাদের বংশধরগণের পক্ষেও সুব্যবস্থা হইত। হতাহত ব্যক্তিগণ যে হলওয়েল-লিখিত মৃতের সংখ্যা বর্দ্ধন করে নাই, তাহ কে বলিবে? বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের মনেও সে সন্দেহ রহিয়া গিয়াছে!
  2. Calcutta Review, April, 1892.