পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২১
কবি-কাহিনী।

নামে এমন মিথ্যা কলঙ্ক রটনা করিতে কিছুমাত্র ইতস্ততঃ করেন নাই, তিনি যে সর্ব্বস্বান্ত ও কারারুদ্ধ হইয়া প্রতিহিংসা সাধনের জন্য অন্ধকূপহত্যার অলীক কাহিনী রচনা করেন নাই, তাহার প্রমাণ কি? হলওয়েল যেরূপ সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়া গিয়াছেন, তাহাতে তাঁহার সম্বন্ধে এরূপ অনুমান কি নিতান্তই অসঙ্গত? এই সকল স্বাধীন সমালোচনায় উত্যক্ত হইয়া কলিকাতার জনৈক ‘ইংলিশম্যান’—সম্পাদক এই গ্রন্থের কঠোর সমালোচনা করেন। কিছুদিন পরে উক্ত সম্পাদক পুনরায় লিখিয়াছেন যে, হলওয়েলের বর্ণনার উপর নির্ভর করা যে নিরাপদ নহে, তাহা আধুনিক ঐতিহাসিক আন্দোলনে বিশেষরূপে সংস্থাপিত হইয়া গিয়াছে।

 সিরাজদ্দৌলার অদৃষ্টবিড়ম্বনা! ঘসেটি বেগম সিরাজদ্দৌলার জননীর সহিত সসম্ভ্রমে রাজান্তঃপুরে বসতি করিলেন, পলাশির যুদ্ধাবসানে মীর জাফরের সুশাসনে ঢাকায় কারারুদ্ধ হইলেন, অথচ ইতিহাসে তাহার সমুচিত সমালোচনা না হওয়ায় কল্পনাকুশল বাঙ্গালী কবি অবলীলাক্রমে সিরাজশিবিরে ঘসেটি বেগমের প্রেতাত্মাকে উপনীত করিয়া তাঁহার মুখে সিরাজদ্দৌলাকে শুনাইয়া দিলেন:—

“সিরাজ, তোমার আমি পিতৃব্য-কামিনী;
হরি মম রাজ্যধন, করি দেশান্তর,
অনাহারে বধিলি এ বিধবা দুঃখিনী;
কেমনে রাখিবি ধন, এবে চিন্তা কর্।”[১]

  1. পলাশির যুদ্ধকাব্য—তৃতীয় সর্গ; দ্বিতীয় স্বপ্ন।