পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২৯
ফাল্‌তায় ইংরাজ॥

জাহাজ নোঙ্গর করিয়া ফেলিলেন। পলায়িত ইংরাজগণ তথন পৰ্যন্তও জীবিত, কিন্তু সকলেই জীবন্মত! অনেকে চিররুগ্ন হইয়া পড়িয়াছেন, যাঁহারা সুস্থ সবল, তাঁহারাও ভগ্নহৃদয়ে মলিনমুখে সতৃষ্ণনয়নে অকুল সমুদ্রের উত্তালতরঙ্গের দিকে চাহিয়া চাহিয়া, কতদিনে মাদ্রাজ হইতে সেনাদল আসিবে—কেবল সেই চিন্তায় শীর্ণ হইয়া উঠিয়াছেন।

 দুর্দশার দিনে দুৰ্ম্মতি আসিয়া ইংরাজদিগের দুংখলৈ দ্বিগুণ করিয়া তুলিল! কেন তাহাদের এরূপ শোচনীয় দুর্গতি উপস্থিত হইল,সেই কথা লইয়া তুমুল গৃহকলহ উপস্থিত হইল। নব্যতন্ত্রের ইংরাজযুবকেরা ইংরাজদরবারের উপরেই সকল অপরাধ আরোপ করিতে লাগিলেন। যাঁহারা দরবারের সদস্য, তাঁহারাও পরস্পর পরস্পকে অপরাধী করিবার জন্য আয়োজনের ত্রুটি করিলেন না! এই সূত্রে ইংরাজদিগের মধ্যে নানা বাগ্‌বিতণ্ডা চলিতে লাগিল। কথায় কথায় বন্ধুবিচ্ছেদ ঘটিতে লাগিল; সর্বপ্রকার সমবেদনা দূরীভূত হইয়া গেল। অবশেষে অনেকেই বলিতে লাগিলেন যে—“যাঁহারা উৎকোচ লোভে কৃষ্ণবল্পভকে কলিকতায় আশ্রয় দিয়াছিলেন, এবং যাহাকে তাহাকে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করিবার জন্য কোম্পানীর নামাঙ্কিত পয়োনা বিক্রয় করিয়া অর্থোপাৰ্জন করিতেছিলেন, তাঁহারাই সকল অনর্থের মূল।[১] পরবর্তী ইতিহাস-লেখকগণ অনেক যুক্তি তর্ক উপস্থিত করিয়া লিথিয়া গিয়াছেন যে, এ সকল কথা নিতান্তই অমূলক! এতকালের পর সে সকল অভি যোগের সত্য মিথ্যা নির্ণয় করা সহজ নহে। যাঁহারা এ বিষয়ে সাক্ষ্যদান করিতে পারিতেন, তাঁহারা বলিয়া গিয়াছেন যে, ইংরাজদরবারের

  1. Orme, vol. ll. 82-83.