পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪৩
শওকতের স্বভাব।

তাঁহাকে পরাজয় করা কঠিন কার্য্য নহে। কিন্তু শাহজাদা যদি শওকতজঙ্গের সঙ্গে মিলিত হন, তবে সে সম্মিলিত শক্তি পরাজয় করা বড়ই অসাধ্য হইয়া উঠিবে। যদিও দিল্লীর প্রবল প্রতাপ চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া গিয়াছিল, তথাপি বাদশাহের নামের ঐন্দ্রজালিক মহাশক্তি সর্ব্বথা বিলুপ্ত হইয়াছিল না। সিরাজদ্দৌলা জানিতেন যে, সেই বাদশাহের নামের দোহাই দিয়া বাদশাহজাদা সম্মুখসমরে দণ্ডায়মান হইলে এ দেশের গণ্যমান্য সকল লোকেই মুহূর্ত্তমধ্যে বাদশাহের পক্ষে ঢলিয়া পড়িবে, সিরাজকে হয়ত বিনাযুদ্ধে তাঁহার আত্মপক্ষীয় পাত্রমিত্রেরাই বাদশাহের নিকট বাঁধিয়া পাঠাইয়া দিবে। সুতরাং তিনি আর কালক্ষয় না করিয়া শাহজাদার শুভাগমনের পূর্ব্বেই পূর্ণিয়ার বিদ্রোহদলনে কৃতসংকল্প হইলেন।

 শওকতজঙ্গ রাজবিদ্রোহী। তথাপি শওকতজঙ্গ পরমাত্মীয়। আলিবর্দ্দীর বংশধর বলিয়া তিনিও লোকসমাজে সবিশেষ সুপরিচিত। সুতরাং সহসা তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করিলে পাত্রমিত্রগণ নানারূপ চক্রান্ত করিয়া সিরাজদ্দৌলার মনোরথ পূর্ণ করিবার অবসর প্রদান করিবেন না। সিরাজ সেইজন্য কৌশলজাল বিস্তার করিলেন।

 পূর্ণিয়া প্রদেশে বীরনগরে একজন ফৌজদার থাকিত। সেই পদ শূন্য রহিয়াছে দেখিয়া সিরাজদ্দৌলা রাসবিহারী নামক এক জন অনুগত ব্যক্তিকে ফৌজদার নিযুক্ত করিয়া শওকতজঙ্গের নিকট পত্র লিখিয়া পাঠাইলেন।[১] সিরাজ যাহা চাহেন, তাহাই হইল শওকত-

  1. Stewart's History of Bengal.