পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪৫
জগৎশেঠের লাঞ্ছনা।

উত্যক্ত করিয়া তুলিলেন। জগৎশেঠ মুখপাত্র হইয়া বুঝাইতে লাগিলেন,—“দিল্লীশ্বরই বাঙ্গালা, বিহার, উড়িষ্যার স্বামী; সুবাদার তাঁহার সনন্দবলে শাসনভার পরিচালন করেন। সিরাজদ্দৌলার সনন্দ নাই; শওকতজঙ্গ সনন্দ পাইয়াছেন। এরূপ ক্ষেত্রে কে রাজা কে প্রজা তাহার মীমাংসা হইতে পারে না।” সিরাজ বুঝিলেন যে চক্রান্ত বড়ই কুটিল পন্থা অবলম্বন করিয়াছে। তিনি ক্রোধান্ধ হইয়া জগৎশেঠকে কারারুদ্ধ করিবার আদেশ দিয়া সভাভঙ্গ করিয়া দিলেন; কেহ কেহ এরূপও রটনা করিতে লাগিলেন যে, নবাব ক্রোধকম্পিতকলেবরে জগৎশেঠের গণ্ডদেশে চপেটাঘাত করেন, তাহাতেই সভাভঙ্গ হইয়া গেল।[১] বলা বাহুল্য, সিরাজদ্দৌলার আর কিছুমাত্র ইতস্ততঃ রহিল না;—তিনি বাহুবলে পূর্ণিয়া আক্রমণের জন্য সসৈন্যে ধাবিত হইলেন।

 শাহজাদা শুভাগমন করিবার পূর্ব্বে পূর্ণিয়া আক্রমণ করিতে হইলে পূর্ব্ব পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক হইতে একসঙ্গে আক্রমণ করা আবশ্যক;— উত্তরে হিমালয়, সে পথে আক্রমণ করাও অসম্ভব, পলায়ন করাও অসম্ভব। সিরাজদ্দৌলা তিনদিক হইতে তিনদল সেনাসহায়ে পূর্ণিয়া আক্রমণ করাই স্থির করিলেন, কিন্তু বিশ্বস্ত রণকুশল তিনজন সেনাপতি কোথায়? জগৎশেঠকে কারারুদ্ধ করিবার আদেশ প্রদান করায় মীরজাফর সর্ব্বসমক্ষে অসিস্পর্শ করিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন, তিনি আর সিরাজদ্দৌলার জন্য অস্ত্রধারণ করিবেন না। বিদ্রোহের স্পষ্ট সূচনায় সিরাজদ্দৌলা কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন। জগৎশেঠকে কারামুক্ত

  1. ওয়ারেণ হেষ্টিংশ্ এই কথা রটনা করিয়া গিয়াছেন;—ইহার সত্য মিথ্যা নির্ণয় করিবার উপায় নাই।