পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৭৯
নিশারণ।

কুটিল কৌশল। নবাবের সেনাদল আসিয়াছে, কিন্তু কামানগুলি এখনও পশ্চাতে পড়িয়া রহিয়াছে; সেইজন্য তোমাদিগকে সন্ধির কথা উঠাইয়া প্রতারিত করিতেছে। কামান আসিলে আর এক মুহূর্ত্তও বিলম্ব হইবে না। তোমরা কয়জন? সিরাজদ্দৌলার সেনাতরঙ্গের সম্মুখে কতক্ষণ দাঁড়াইতে পারিবে?” ইংরাজদ্বয়ের হৃৎকম্প উপস্থিত হইল। কি সর্ব্বনাশ! এই সাদর-সম্ভাষণ, এই সন্ধির শান্তি-সূচনা, সকলই কেবল কালহরণের কুটিল কৌশল? এখন উপায় কি? মুখের ভাব দেখিয়া উমাচরণ বুঝিলেন যে,—ঔষধ ধরিয়াছে! তিনি অবসর পাইয়া বলিয়া উঠিলেন, “আর উপায় কি? দেওয়ানের পটমণ্ডপে গমন করিলেই বন্দী হইতে হইবে। এখনও সাবধান হও। মশাল নিভাইয়া দিয়া আঁধারে আঁধারে দুর্গমধ্যে পলায়ন কর।” যে কথা সেই কাজ;—ইংরাজেরা আর মুহুর্ত্তমাত্র বিলম্ব করিলেন না।[১] কিন্তু কেহই ভাবিয়া দেখিলেন না যে, সিরাজদ্দৌলা কি কামান না লইয়া রিক্তহস্তে এতদূর অগ্রসর হইয়াছেন?

 সিরাজদ্দৌলা এই কুটিল চক্রান্তের বিন্দুবিসর্গও জানিতে পারিলেন না; কিন্তু সে রজনীতে ইংরাজ-শিবিরে একজনও ঘুমাইবার অবসর পাইল না। ক্লাইব তপ্তাঙ্গারের ন্যায় প্রদীপ্ত প্রতাপে ওয়াট সনের নিকট ছুটিয়া চলিলেন; তাঁহার নিকট হইতে ছয়শত জাহাজী গোরা চাহিয়া লইয়া আপন পদাতিক সেনার সহিত সম্মিলিত করিলেন; এবং রজনী তিন ঘটিকার সময়ে নিঃশব্দপদসঞ্চারে সসৈন্যে নবাব-শিবির আক্রমণ করিতে অগ্রসর হইলেন। নবাবশিবির ৬০০০০ সিপাহী এবং ১৮০০০ অশ্বারোহী ৪০টি কামান লইয়া নিরুদ্বেগে নিদ্রাময়;—তাহারা জাগিয়া উঠিলে যে ইংরাজের কি সর্ব্বনাশ ঘটিবে, ক্লাইব তাহা চিন্তা করিবার অবসর পাইলেন না।

  1. Orme, ii, 131.