পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮৮
সিরাজদ্দৌলা।

পাঠাইয়া দিবে। এই ত সেদিন সন্ধি করিয়াছ! এত অল্পদিনের মধ্যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা কি ভদ্রনীতি? মহারাষ্ট্রীয়দিগের বাইবেল নাই;—কিন্তু তারা ত সন্ধি লঙ্ঘন করে না। বড়ই আশ্চর্যের কথা,—সহসা বিশ্বাস করিতেও ইতস্তত হয়,—বাইবেলের ধর্ম্মশিক্ষা করিয়া, পরমেশ্বর এবং যীশুখ্রীষ্টের দোহাই দিয়া সন্ধিসংস্থাপন করিয়াছ, অথচ কার্য্যকালে তাহা পালন করিতে পারিতেছ না!”[১]

 এই পত্রখানি যেরূপ শ্লেষাত্মক, সেইরূপ সুতীব্র ভাষায় লিখিত। বোধ হয় পত্র পড়িয়া ইংরাজদিগেরও চক্ষুলজ্জা হইয়াছিল। তাঁহারা নবাবের অনুমতি না লইয়া বাহুবলে চন্দননগর্ আক্রমণ করিতে সম্মত হইলেন না। তখন ওয়াট সন অনন্যোপায় হইয়া নূতন এক ধূয়া ধরিয়া প্রত্যুত্তর লিখিতে বসিলেন:—

 “আপনার ১৯শে ফেব্রুয়ারীর পত্র অদ্য ২১শে ফেব্রুয়ারী তারিখে হস্তগত হইল। পত্রপাঠে জানিতে পারিলাম যে, ফরাসীদিগের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করা আপনার অভিপ্রেত নহে। ইহাতে আপনি যে এতদূর অসন্তুষ্ট হইবেন, এ কথা জানিতে পারিলে আমরা আপনার রাজ্যের শান্তিভঙ্গ করিবার আয়োজন করিতাম না। ফরাসিরা সন্ধি সংস্থাপন করিলে আমরা আর যুদ্ধ করিতে চাহি না। কিন্তু তাহারা সন্ধি করিলেই ছাড়িব না, সুবাদারস্বরূপ আপনাকে তাহার জামিন থাকিতে হইবে। পৃথিবীতে আমাদের মত সত্যপরায়ণ লোক যে আর কোন দেশে নাই, তাহা বোধ হয় আপনার অজ্ঞাত নাই। আমি আপনাকে সত্যশপথ করিয়া বলিতেছি, আমরা কিছুতেই সত্যলঙ্ঘন করিব না। প্রভু যীশু খ্রীষ্ট এবং পরমেশ্বরকে সাক্ষী কৃরিয়া আবার বলিতেছি যে, আপনি যদি ফরাসীদের সঙ্গে সন্ধি করাইয়া দেন, তবে আর কিছুতেই আমরা সত্যভঙ্গ করিব না।”[২]

  1. Ive's Journal.
  2. Ive's Journal.