পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮৯
ফরাসী দলনে অসম্মতি।

 ওয়াট্‌সনের প্রত্যুত্তর পাইয়া সিরাজদ্দৌলা বলিলেন,—তথাস্তু। তিনি কলহপ্রিয় চঞ্চল যুবক হইলে, এই উপলক্ষে ইংরাজকে বিলক্ষণ দশকথা শুনাইয়া দিতে পারিতেন; বলিতে পারিতেন, ফরাসির সঙ্গে তোমাদিগের সন্ধি হয় হউক, না হয় না হউক, তাহার সঙ্গে আমার সংস্রব কি? আমার অধিকারে আর কলহ বিবাদ করিবে না বলিয়া সেদিন যে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করিয়াছ, তাহার সহিত ফরাসিদিগের সম্বন্ধ কি? কিন্তু সিরাজদ্দৌলা এ সকল কূটতর্ক উপস্থিত না করিয়া অম্লান-বদনে লিখিয়া পাঠাইলেন:—

 “ফরাসিযুদ্ধ সংক্রান্ত পত্র পাইয়া তন্মর্ম্ম জ্ঞাত হইলাম। আমি ফরাসিদিগকে কলহবৃদ্ধির সহায়তা করিব না, সে জন্য নিশ্চিন্ত থাকিবা। বরং তাহারাই যদি গায়ে পড়িয়া বিবাদ বাধাইবার চেষ্টা করে, তবে সসৈন্যে বাধা প্রদান করিব। তোমরা চন্দননগর আক্রমণ করিবে শুনিয়া যাহা সঙ্গত বোধ হইয়াছিল, তাহাই লিখিয়া পাঠাইয়াছিলাম। আমি ফরাসিদিগকে উৎসাহ দিবার জন্য সেনাবল পাঠাই নাই; তোমরা কলহবিবাদ উপস্থিত করিলে আমারই প্রজাদিগের সর্ব্বনাশ হইবে, সুতরাং প্রজারক্ষার জন্যই (স্থানে স্থানে) সেনাসমাবেশ করিয়াছিলাম। আমার পত্র পাইয়া তোমরা যে চন্দননগর আক্রমণ করিবার সংকল্প ত্যাগ করিয়াছ, এ সংবাদে আমি যারপর নাই প্রীতিলাভ করিলাম। ফরাসিদিগকে সন্ধিসংস্থাপন করিবার জন্য পত্র লিখিলাম। সন্ধি হইলে, আমি একজন রাজ কর্ম্মচারী পাঠাইয়া দিব, এবং তোমাদের সন্ধিপত্র আমার দপ্তরে জারি করাইয়া রাখিব। মিত্রভাবে থাকিবার জন্যই সন্ধি করিয়াছি,—সে কথার কখনও অন্যথা হইবে না।

 “আর এক কথা। শুনিতেছি যে দিল্লীর ফৌজ আমার রাজ্য আক্রমণ করিতে আসিতেছে। তজ্জন্য বোধ হয় শীঘ্রই পাটনা অঞ্চলে গমন করিব। এ সময়ে তোমরা সেনাসাহায্য করিলে আমি লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করিব।” [১]

  1. Ive's Journal.অনেকে এই পত্রখানির অনেকরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ইংরাজেরা বলেন যে, সিরাজদ্দৌলা পাঠানসেনার আক্রমণভয়ে জীবন্মৃত হইয়াই ইংরাজের নিকট সেনাবল ভিক্ষা করিয়াছিলেন। কিন্তু সিরাজচরিত্র বিচার করিয়া আমাদিগের এইরূপ ধারণা হইয়াছে যে, ইংরাজদিগকে সেনাহীন করাই তাঁহার প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি পাটনায় প্রস্থান করিলে ইংরাজ হয় ত সসৈন্যে চন্দননগর আক্রমণ করিবেন, বোধ হয় সেই আশঙ্কা নিবারণের জন্যই এরূপ প্রস্তাব করিয়াছিলেন।