পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৯৭
সিরাজের প্রত্যুত্তর।

জিজ্ঞাসা করিলেন। সিরাজদ্দৌলা ইহাকে সাধারণ ভাবের পত্র মনে করিয়া সাধারণ ভাবেই প্রত্যুত্তর লিখিলেন:—

১০ মার্চ ১৭৫৬।
 

 “আমার পত্র পাইয়া যে প্রত্যুত্তর দানে বাধিত করিয়াছ, তাহা আমার হস্তগত হইয়াছে। তুমি লিখিয়াছি যে, “তোমাদের সকল সন্দেহ দূর হইয়াছে, আমার পত্র পাইয়া চন্দননগর আক্রমণ করিবার সংকল্প পরিত্যাগ করিয়াছ, ফরাসীদিগের সঙ্গে লেখা পড়াও শেষ করিয়াছিলে, কিন্তু ফরাসিরা নাকি স্বাক্ষর করিবার সময়ে বলিয়াছে যে তাহাদের সেনাপতিগণ এই সন্ধি পালন করবেন কি না তাহার নিশ্চয়তা নাই।” একজন ফরাসি যাহা স্বাক্ষর করিল, আর একজন আসিয়া তাহার অন্যথা করিলে তাহাদিগকে আর কেমন করিয়া বিশ্বাস করা যায়? সে যাহা হউক আমার অধিকারে যুদ্ধকলহ করিতে আমি নিতান্ত অসম্মত; তাহার কারণ এই যে, ফরাসিরাও আমার প্রজা এবং তোমাদের ভয়ে আমার শরণাগত হইয়াছে। সেই জন্যই আমি সন্ধি করিতে বলিয়াছিলাম। তাহাদিগকে যে অনুগ্রহ দেখাইব বা সহায়তা করিব এমন অভিসন্ধি ছিল না। তুমিও ত একজন বিজ্ঞ বিচক্ষণ সদাশয় মহাত্মা, তুমিই বিচার করিয়া দেখ যে, পরম শত্রুও যদি শরণাগত হয় তবে তাহাকে প্রাণভিক্ষা প্রদান কর কি না? তাহার সরলতায় যদি সন্দেহ না থাকে, তবে তুমিও তাহাকে দয়া করিয়া থাক; সরলতায় সন্দেহ হইলে পৃথক কথা,—তখন যেমন বুঝিতে পার সেইরূপ আচরণ করিয়া থাক।”[১]

 এই পত্রের শেষোক্ত কথাগুলি সিরাজদ্দৌলার লিখিত কি না, তদ্বিষয়ে মতভেদ দেখিতে পাওয়া যায়। একজন সমসাময়িক ইংরাজ লিখিয়া গিয়াছেন যে, পত্রখানি যাহাতে এইরূপ ভাবে লিখিত হয়, তজ্জন্য মুন্সিখানায় সময়োচিত অর্থব্যয় করিতে ক্রটি হয় নাই।[২]

  1. Ive's Journal.
  2. Scrafton's Reflection, 70.