পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩১৬
সিরাজদ্দৌলা।

আর ফিরিয়া আসিবে না।”[১] সুতরাং স্বদেশের কল্যাণকামনায় সিরাজদ্দৌলা শান্তিসংস্থাপনের জন্য ব্যাকুল হইলেন; তিনি ফরাসিদিগকে বিদায় দান করিয়া, ওয়াট্‌সন কে লিখিয়া পাঠাইলেন:—“স্বার্থান্ধ লোকের উত্তেজনায় ভুলিও না; সন্ধিভঙ্গ করাই তাহাদের উদ্দেশ্য! যদি কলহ বিবাদ বৃদ্ধি করিবার প্রবৃত্তি না থাকে তবে আর আমাকে সন্ধির বিরোধী প্রস্তাব লিখিও না। বরং লিখিবার পূর্ব্বে সন্ধিপত্রখানি আর একবার পাঠ করিয়া দেখিও।”[২]

 ফরাসিদিগকে পথিমধ্যে ধ্বংস করিবার জন্য ইংরাজেরা পল্টন পাঠাইবার আয়োজন করিতে লাগিলেন। সিরাজদ্দৌলা আর ক্রোধ সম্বরণ করিতে পারিলেন না। তিনি তৎক্ষণাৎ ইংরাজের উকীলকে দরবার হইতে বাহির করিয়া দিয়া, ওয়াটস্ সাহেবকে বলিয়া পাঠাইলেন:—“হয় এখনই মুচলিকা লিখিয়া দিয়া ফরাসির পশ্চাদ্ধাবনাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ কর,—না হয়, এই মুহূর্ত্তেই রাজধানী হইতে দূর হইয়া যাও![৩] এ সংবাদে ক্লাইব ক্ষিপ্রহস্তে

  1. It is now in your power to settle ever-lasting peace in your country; and if you suffer the opportunity to slip, it may never offer again.—Watson's letter to the Nabob.
  2. I have written before and now repeat that if the English Company want to establish their trade, do not write me what is not conformable to our agreement, by the instigation of self-interested and designing men, who want to break the peace between us. If you are not disposed to come to a rupture with me, you have my agreement under my hand and seal, when you write, look upon that, and write accordingly.-Nabob's letter to Admiral Watson, 14 April, 1757.
  3. Orme. vol. ii. 147.