পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২৫
জাল সন্ধিপত্র।

সংলগ্ন করিতে প্রতিশ্রুত,—সুতরাং তাঁহারা যাহা চাহিয়াছিলেন মীরজাফরকে তাহাতেই ‘তথাস্তু’ বলিতে হইয়াছিল।[১]

 পাণ্ডুলিপি পাঠাইবার সময়ে ওয়াট্‌স্ সাহেব লিখিয়াছিলেন,—“উমিচাঁদ যাহা চাহিতেছে, তাহা স্বীকার করিতে ইতস্ততঃ করিলে সর্ব্বনাশ হইবে! সে সহজ পাত্র নহে;—নবাবের নিকট এখনই সকল চক্রান্ত প্রকাশ করিয়া দিবে!” এই সংবাদে ইংরাজেরা উমিচাঁদের উপর খড়্গহস্ত হইয়া উঠিলেন। যাঁহারা মীরজাফরকে কামধেনুর ন্যায় যথেচ্ছ দোহন করিতে লালায়িত, তাঁহারাই উমিচাদকে অর্থগৃধ্নু, স্বার্থপিশাচ বলিয়া ফাঁকি দিতে কৃতসংকল্প হইলেন। কিন্তু তাঁহাকে কেমন করিয়া ফাঁকি দেওয়া যাইতে পারে, সে কথার কেহ মীমাংসা করিতে পারিলেন না!

 অবশেষে একদিন এক রাত্রির গভীর গবেষণার পর ক্লাইবের “প্রত্যুৎপন্নমতি সমস্যাপূরণে কৃতকার্য্য হইল। তিনি দুইখানি সন্ধিপত্র লিখাইলেন; একখানি সাদা কাগজে,—সে খানি আসল, আর একখানি লাল কাগজে,— সে খানি জাল![২] এই জাল সন্ধিপত্রে উমিচাঁদের ত্রিশ লক্ষের উল্লেখ রহিল। ওয়াট্‌সন্ ইহাতে সাক্ষর করিতে ইতস্ততঃ করিয়া ক্লাইবকে একটু বিপদে ফেলিয়াছিলেন, কিন্তু ক্লাইবের আদেশে লসিংটন সাহেব ওয়াট্‌সনের নাম

  1. The plain truth was that the so-called treaties were mere agreements patched up on the eve of a revolution. The English were in a position to demand anything; the Nawab-expectant could refuse nothing. There was not even a shadow of deliberation, for there was no time to haggle over terms.—Early Records of British India, p. 316.
  2. His Lordship himself formed the plan of the fictitious treaty—First Report.