পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫০
সিরাজদ্দৌলা

 ক্লাইবের প্রত্যুত্তরে স্পষ্টই বুঝা যায় যে, তিনি ২২শে জুন অপরাহ্ন পর্যন্তও যুদ্ধযাত্রা করেন নাই; তখনই পত্র পাইবার পর যুদ্ধযাত্রা করিতে কৃতসংকল্প হইয়া মীরজাফরকে সংবাদ পাঠাইয়াছিলেন। মীরজাফরের উপদেশ না পাইয়া ইংরাজেরা সসৈন্যে কাটোয়ায় অপেক্ষা করিতেছিলেন; এবং তজ্জন্য সমরসভার অধিবেশন হইয়াছিল। মীরজাফরের উপদেশ পাইবামাত্রই যে আবার ইংরাজসেনাপতির শৌর্য্যবীর্য্য জাগরিত হইয়া উঠিয়াছিল, ইহাই প্রমাণীকৃত হইতেছে! ক্লাইব নিজেও স্বীকার করিয়া গিয়াছেন যে, “সমরসভার অধিবেশন শেষ হইলে, ২৪ ঘণ্টার বিশেষ গবেষণার পরে তাঁহার মতপরিবর্ত্তন সংঘটিত হয়; এবং ২২শে জুন অপরাহ্ণ ৫ ঘটিকার সময়ে সেনাদল গঙ্গাপার হয়।”[১] সুতরাং স্ক্রাফ্‌টন যাহা লিখিয়া গিয়াছেন তাহা সত্য হইয়া দাঁড়ায়; অথচ ক্লাইব স্পষ্টাক্ষরে বলিয়া গিয়াছেন যে, “কাহারও কথায় কি উপদেশে তাঁহার মত পরিবর্ত্তন হয় নাই।”

  1. After about twenty-four hours mature consideration, his Lordship said, he took upon himself to break through the opinion of the Council, and ordered the army to cross the river; and what he did upon that occasion, he did without receiving any advice from any one.—First Report.