পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫৯
পলাশীর যুদ্ধকাব্য।

সমর ত্যাগ করাইয়া ছাড়িয়া দিয়াছেন![১] মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় এবং তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র কুমার শিবচন্দ্র ইংরাজের পক্ষাবলম্বী বলিয়া নবাব মীর কাশিমের আদেশে ১৭৬৩ খৃষ্টাব্দে প্রাণদণ্ডের প্রতীক্ষায় “মঙ্গীর দুর্গে” কারারুদ্ধ থাকিয়া ইংরাজ-কৃপায় মুক্তিলাভ করেন।[২] কবি সময়-শ্রোত উত্তীর্ণ হইয়া সিরাজদ্দৌলাকেই তাহার জন্য অপরাধী সাজাইয়া, “কোন একজন বঙ্গ-সাহিত্য-সমাজে সুপরিচিত বন্ধুর মুখে” শুনিয়াছেন বলিয়া নিষ্কৃতিলাভ করিয়াছেন![৩] যে দেশের কবি-কাহিনী ইতিহাস রচনার ভার গ্রহণ করিয়াছে, সে দেশে সিরাজ-কালিমা যে উত্তরোত্তর দুরপনেয় হইয়া উঠিবে, তাহাতে আর বিস্ময়ের কথা কি?

  1. ইতিহাসের হুগলীর সমর-কাহিনী অন্যরূপ। সিরাজ তাহাতে আদৌ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি “দাঁতে তৃণ লয়ে “সভয়ে” সমরত্যাগ করা দূরে থাকুক,—ইংরাজেরা তাঁহার অগোচরে গোপনে তস্করের ন্যায় হুগলী লুণ্ঠন করায়, তাহাদিগকে সমুচিত শিক্ষা দিবার জন্যই দ্বিতীয়বার কলিকাতা আক্রমণ করেন। ক্লাইব তাঁহার গতিরোধ করিতে গিয়া তাঁহার দুই জন সেনানায়ক এবং সেক্রেটারী পঞ্চত্বলাভ করিয়াছিলেন; নিশারণে শত্রুসংহার করিতে গিয়া স্বয়ং ক্লাইব হেটমুণ্ডে পলায়ন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। “কবির পথ” অবশ্যই “নিষ্কণ্টক", ইতিহাসের পথ সেরূপ হইলেই ভাল হইত।
  2. ইংরাজি ইতিহাস ভিন্ন সুপ্রসিদ্ধ “ক্ষিতীশ বংশাবলি চরিতেও” (১২৩-১২৬ পৃষ্ঠা) এই ঘটনা আনুপূর্ব্বিক বর্ণিত রহিয়াছে। “ক্ষিতীশ বংশাবলি চরিতের” চারি বৎসর পরে “পলাশির যুদ্ধকাব্য” প্রকাশিত হয়। অথচ শ্রীযুক্ত নবীনচন্দ্র সেন মহাশয়ের ন্যায় লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্য সেবক এবং তাঁহার “বঙ্গ সাহিত্য সমাজে সুপরিচিত” কোন একজন বন্ধু মহাশয় চারি বৎসরের মধ্যেও “ক্ষিতীশবংশাবলি চরিতের” ন্যায় “বঙ্গ সাহিত্য সমাজে সুপরিচিত” গ্রন্থখানি একবার মাত্রও পাঠ করিবার অবসর প্রাপ্ত হন নাই। অহো! স্বদেশের ইতিহাসের অপরিসীম সৌভাগ্য!
  3. পলাশির যুদ্ধকাব্য পরিশিষ্ট।