পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৪১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৯৮
সিরাজদ্দৌলা।

সন্দেহ নাই। কিন্তু সেই কূটনীতি বিশারদ কে? যাহার পরামর্শে বা ইঙ্গিতে নীরজাফরের আত্ম-হৃদয়ের স্নেহমমতা ভাসিয়া গিয়াছিল, অবশেষে তাহাকে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় নিরস্ত করিয়া সিরাজদ্দৌলাকে নিহত করিবার অদেশ প্রচারিত হইয়াছিল, তাহার নাম গোপন করিবার জন্যই কি ইতি- হাসলেখকেরা সপ্তদশবষীয় মুসলমানশিশুর নামে রাজহত্যার দূরপনেয় কলঙ্ক নিক্ষেপ করেন নাই? আদ্যোপান্ত সমস্ত অবস্থা বিচার করিলে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, সকলেই জানিতেন, কিন্তু কেহই তাহা দন্তস্ফট করিতে সাহস না পাইয়া ইতিহাসের মর্যাদা পদবিদলিত করিয়া গিয়াছেন; সেই জন্য একমাত্র রিয়াজ উস্-সালাতিনের অভিযোগ ভিন্ন ক্লাইবের নামে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে হত্যাপরাধের কিছুমাত্র প্রমাণ দেখিতে পাওয়া যায় না।

 এই সকল অবস্থা বিবেচনা করিলে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ক্লাইবের বিরুদ্ধে প্রমাণ নাই বলিয়াই তাহাকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ বলিতে পারা যায় না। তিনি ইচ্ছা করিলে যে অনায়াসেই সিরাজদ্দৌলার জীবনরক্ষা করিতে পারিতেন, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। তিনি তজ্জন্য কিছুমাত্র চেষ্টা করা দূরে থাকুক, প্রকারান্তরে মীরজাফরের কাৰ্য্য সমর্থন করিবার জন্য বলিয়া গিয়াছেন যে, সিংহাসন রক্ষার জন্যই এরূপ হত্যাকাণ্ড আবশ্যক হইয়া উঠিয়াছিল! যাহার, নিকট জালসন্ধিপত্র এবং উমাচরণকে প্রতারণা করা কিছু মাত্র অন্যায় কাৰ্য বলিয়া প্রতীয়মান হয় নাই, বরং “আবশ্যক হইলে আরও একশত- বার সেরূপ কাৰ্য্য অনুষ্ঠিত হইতে পারিত, তাহার নিকট যে সিংহাসন- রক্ষাৰ্থ সিরাজদ্দৌলাকে হত্যা করা বিশেষ দোষাবহ বলিয়া বোধ হইবে, তাহার সম্ভবনা কোথায়?

 যাহারা সাধারণ ইষ্টসিদ্ধির উদ্দেশ্যে পরস্পরের সহায়তা করিবার জন্য। কোনরূপ গুপ্ত চক্রান্তে মিলিত হয়, তাহারা সভ্যসমাজের বিচারে একে