পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৪১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪০৩
মহম্মদী বেগ।

প্রভুহত্যার জন্য অগ্রসর হইল। বলা বাহুল্য যে, যাহারা ন্যায় ও ধর্মানু- সারে সিরাজদ্দৌলার সিংহাসনরক্ষার্থ ঈশ্বর এবং মনুষ্যের নিকট দায়ী হই- যাও পাকে চক্রে সিংহাসন কাড়িয়া লইয়া অন্নদাতা রাজাধিরাজকে দস্য তস্করের ন্যায় হত্যা করিবার জন্য নির্মম হৃদয়ে কারারুদ্ধ করিয়াছিল, তাহাদের আদেশ মস্তকে ধারণ করিয়া স্নেহানুপালিত মহম্মদী বেগ যে প্রতিপালকের মস্তকে খঘাত করিবে ইহাতে আর বিস্ময়ের কথা কি?

 উন্মুক্ত খরসান হস্তে দুর্দান্ত মহম্মদী বেগ কারাকক্ষে প্রবেশ করিবামাত্র সিরাজদ্দৌলা উন্মত্তবৎ ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন। মুহূর্তের মধ্যে সকল আশা বিলীন হইয়া গেল; মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুদেগে সৰ্বাঙ্গ ব্যাপিয়া এক অব্যক্ত আকুল আৰ্তনাদ ধ্বনিত হইয়া উঠিল। সিরাজ আৰ্ত্তকণ্ঠে বলিয়া উঠিলেনঃ-

 “কে? মহম্মদী বেগ? তুমি! তুমি! তুমিই কি অবশেষে আমাকে হত্যা করতে আসিয়াছ? কেন? কেন? কেন? ইহারা কি আমাকে বহুবিস্তৃত জন্ম- ভূমির নিভৃত নিকেতনে যৎসামান্য গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করিতে পারিল না।”

 পরক্ষণেই সিরাজদ্দৌলার তেজস্বী হৃদয়ের আত্মগরিমা প্রবুদ্ধ হইয়া উঠিল। তিনি মহম্মদী বেগের নিকট আর কারোক্তি করিলেন না; তাহার মুখের ভীষণ সংকল্পের পাপ কথায় কর্ণপাত করিলেন না, নিজেই বলিয়া উঠিলেন -

 “না–না–আমি বাঁচিতে পারি না! তাহা কদাচ হইতে পারে না! আর কোন অপরাধে না হউক!