পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৮
সিরাজদ্দৌলা।

উয়াহ্ মার্‌তাবা এজ্জাৎ ও সার্‌ওয়ারী দিয়া কে মুঝে জেল্লাৎ হায় কে বারওয়াক্ত মা-বেদাৎ বারদোয়ান্‌কে মেরে এস্তেক্‌বাল্‌কো এক কাদাম্‌ভি না বাঢ়া! আওর সাহামাৎজাঙ্গকো বেলায়েৎ আহাদ্ দে কার্ সাওলাৎ জাঙ্গকো পুর্‌ণীয়াকি ফৌজদারী আতা ফার্‌মায়ী। মেরে হাল্ পার্ বজুজ এনায়াৎ জোবানিকে কোই সেফাক্কাৎ ও নাওয়াজেস্‌ জো এজ্‌দিয়াদ্ মান্‌সাব আওর্ এক্ তেদার্ কে লায়েক হো না হই; হালা হারগেজ তাস্‌রিফ নালাইয়েগা ওয়ার্‌না আপকা শের মেরে দামান্‌মে ইয়াকে মেরী শের্ আপ কে জের্ পায়্ ফিল হোগা!”[১]

 পত্র পড়িয়া আমরা একালের লোক একেবারে শিহরিয়া উঠিতে পারি; অকৃতজ্ঞ, নরাধম পশুপ্রকৃতি বলিয়া অভিধান বাছিয়া— সিরাজদ্দৌলাকে অভিসম্পাত করিতে পারি, আবশ্যক হইলে উপন্যাস লিখিয়া বসুন্ধরাকে দ্বিধা বিভক্ত হইবার জন্য নির্ব্বন্ধাতিশয়ে অনুরোধ জানাইতে পারি; আলিবর্দ্দী ইহার কিছুই করিলেন না।

 দোষ কাহার? সিরাজদ্দৌলার কথা দুরে থাকুক, প্রবীণ আলিবর্দ্দীকে কোন রাজপ্রতিনিধি এরূপ করিয়া অপমান করিলে তিনিও কি তাহা নীরবে সহ্য করিতেন? সুতরাং আলিবর্দ্দী সিরাজের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন না, কেবল পাছে যুদ্ধকলহে সিরাজের কোন অকল্যাণ হয়, সেই চিন্তাতেই ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন। মহারাষ্ট্রদমন পড়িয়া থাকিল, রাজ্য ও রাজধানীর চিন্তা পড়িয়া থাকিল, অল্প কয়েকজনমাত্র অনুচর লইয়া আলিবর্দ্দী পাটনাভিমুখে ছুটিয়া চলিলেন। সিরাজের উদ্ধৃত লিপির প্রত্যুত্তরে যাহা লিখিত হইল, তাহার নিম্নে আলিবর্দ্দী স্বহস্তে একটা ফারশী কবিতায় কেবল এইমাত্র লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “যাহারা ধর্ম্মের জন্য সম্মুখ সংগ্রামে জীবন বিসর্জ্জন করিতে অগ্রসর হয়, তাহারা প্রায়ই ভুলিয়া যায় যে, যাহারা সংসার

  1. Mutakherin.