পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৯
মাতামহের প্রতুত্তর।

সংগ্রামে স্নেহের অত্যাচার সহ্য করে, তাহারাই প্রকৃত বীর! ইহাদের মধ্যে পরকালেও তুলনা হইতে পারে না; ধর্ম্মবীর শত্রুহস্তে নিহত হন, কিন্তু সংসারবীর কেবল স্নেহভাজন আত্মীয়গণের নির্য্যাতনেই জীবন বিসর্জ্জন করেন!”[১]

 সিরাজদ্দৌলা অনেক গোলাবর্ষণ করিয়াও দুর্গজয় করিতে পারিলেন না। তাঁহার প্রধান সেনাপতি মেহেদী নেশার খাঁ[২] নিহত হইতে না হইতেই অশিক্ষিত সৈন্যদল পলায়ন করিতে আরম্ভ করিল! সিরাজ তখন রোষে ক্ষোভে জর্জ্জরিত হইয়া একখানি পর্ণকুটীরে আশ্রয় গ্রহণ করিলেন। রাজা জানকীরাম সংবাদ পাইবামাত্র তাঁহার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান নির্দ্দেশ করিয়া দিলেন; কিন্তু তথাপি দুর্গদ্বার উন্মোচন করিলেন না।

 সিরাজ পঞ্চদশ বৎসরের তরুণ যুবক। পলায়িত দুর্ব্বল শত্রুর প্রতি রাজা জানকীরাম এরূপ সদয় ব্যবহার করিতেছেন কেন, সে কথা কেহ

  1. সে কবিতাটি এইরূপ—

    “গাজি কে পায়ে সাহাদাৎ আন্দার তাগো পোস্ত
    গাফেল্ কে শাহীদে এস্‌ক্ ফাজেল্‌তার্ আজ্ দাস্ত্।
    ফার্‌দায় কেয়ামাৎ ইঁ বা আঁ কায়মানাদ্।
    ইঁ কোস্তা দুষ্‌মানাস্ত্ ওঁ য়া কোস্তায়ে দোস্ত।”

    —মুতক্ষরীণ।
  2. ইনি মুতক্ষরীণ-প্রণেতা সাইয়েদ গোলাম হোসেনের মাতুল। মুতক্ষরীণে প্রকাশ যে, ইঁহার বুদ্ধিতেই সিরাজদ্দৌলা পাটনা আক্রমণ করিয়াছিলেন। মেহেদী নেশার খাঁ নিহত হইলে, সিরাজ আত্মকার্য্যের হিতাহিত চিন্তা করিয়া বোধ হয় মনে মনে লজ্জিত হইয়াছিলেন, এবং বোধ হয় সেই জন্যই নবাব শুভাগমন করিবামাত্র নিজেই তাঁহার শিবিরে উপনীত হইয়া সকল বিবাদ ভাসাইয়া দিয়াছিলেন।