পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬১
হলওয়েলের অভিযোগ।

 ইংরাজ এখন ভারতবর্ষের রাজা—যাহা করেন, তাহাই শোভা পায়। যে দেশের প্রজাশক্তিকে পদদলিত করিয়া মোগল পাঠান মুসলসান ভূপতিরা বহুশতাব্দী ধরিয়া বাহুবলে রাজ্যশাসন করিয়াছেন, সে দেশের লোকের পক্ষে অল্প বিস্তর অত্যাচার অবিচার নীরবে সহ্য করা অভ্যাস হইয়া গিয়াছিল; সুতরাং রাজা একটু সামান্য উৎপীড়ন করিলেও তাহারা সহসা হৃদয়-বেদনা প্রকাশ করিতে চেষ্টা করিত না। কিন্তু সেকালের ইংরাজ, বণিক হইয়াও, নিরীহ লোকের উপর উৎপীড়ন। করিবার সুযোগ পাইলে ছাড়িতেন না এদেশে পদার্পণ করিয়াই “কালা আদ্‌মি” বলিয়া ইংরাজ যে নাসিকা-কুঞ্চন করিয়াছিলেন, আজ পর্যন্ত তাহা দূর হয় নাই! সুতরাং “কালা আদ্‌মি”দিগের বড়ই কষ্ট হইতে লাগিল। সেই কালা আদ্‌মির স্বার্থরক্ষার জন্য সিরাজদ্দৌলা অগ্রসর হইলেন। তিনি চৌকিতে চৌকিতে ইংরাজদের নৌকা আটক করিয়া তাহা সত্য সত্য কোম্পানীর নৌকা কি অন্য কোন অর্থলোলুপ ইংরাজ বণিকের নৌকা, তাহার অনুসন্ধান আরম্ভ করিয়া দিলেন। সে অনুসন্ধানে যখন প্রকাশ পাইল যে, কোম্পানীর দোহাই দিয়া ইংরাজ মাত্রেই বিনাশুল্কে বাণিজ্য করিয়া আসিতেছেন, তখন যেগুলি সত্য সত্যই কোম্পানীর নৌকা, তাহার উপরেও সন্দেহ জন্মিতে লাগিল। অগত্যা কোম্পানীর লোকেরাও কথঞ্চিৎ উৎকোচ না দিয়া পরিত্রাণ পাইতে পারিলেন না।[১] এই সূত্রে কোম্পানীর কলিকাতাস্থ দরবারে অভিযোগ উপস্থিত হইতে লাগিল। “কালা

  1. Native cloth-merchants complain of the detention of their goods by the exorbitant exactions of the chowkey that what used formerly to come down in ten days was now twenty days on its way."-Long's Selections.