পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৫
ইন্দ্রিয়-পরায়ণতা।

অপবাদ রটনা করিয়াছিলেন, তাহাই এখন ইতিহাসে বাস্তব ঘটনা বলিয়া সমাদরে স্থানলাভ করিয়াছে।

 মোগল সাম্রাজ্যের অধঃপতনসময়ে ভারতবর্ষের সকল প্রদেশেই অল্পাধিক পরিমাণে অরাজকতার সূত্রপাত হইয়াছিল। বাঙ্গলাদেশে আবার দীর্ঘস্থায়ী বর্গীর হাঙ্গামা উপস্থিত হইয়া সেই অরাজকতা শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছিল। আলিবর্দ্দী সুযোগ পাইয়া বাদশাহকে কর প্রদান করিতে ভুলিয়া গিয়াছিলেন; জমীদারগণও অবসর পাইয়া প্রকারান্তরে স্বাধীন হইয়া উঠিতেছিলেন;—সিরাজদ্দৌলা সেই অরাজকতার গতিরোধ করিয়া কঠোরহস্তে দুষ্টের দমন করিবার আয়োজন করিবেন এবং আবশ্যক হইলে পাষণ্ডদলনে কিছুমাত্র ইতস্ততঃ করিবেন না; অঙ্কুরেই তাহার পরিচয় পাওয়া গিয়াছিল। সকলে মিলিয়া, সেই জন্য সময় থাকিতে সিরাজদ্দৌলার সর্ব্বনাশের আয়োজন করিতে ছিল! আত্মপক্ষসমর্থনের জন্য বখন যাহা প্রয়োজন হইয়াছে, কি ইংরাজ কি বাঙ্গালী,—কেহই তাহাতে পশ্চাৎপদ হন নাই। সুতরাং তাঁহাদের বর্ণনা সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়া ইতিহাস সিরাজদ্দৌলার জন্য লঘুপপে গুরুদণ্ডের ব্যবস্থা করিয়া আসিয়াছে।

 ইংরাজদিগের ইতিহাসে সিরাজদ্দৌলার অনেক কুকীর্ত্তির উল্লেখ আছে, আমরা যথাস্থানে তাহার আলোচনা করিব। বাঙ্গালীর নিকট সিরাজদ্দৌলা কেবল ইন্দ্রিয়পরায়ণ অর্থপিপাসু উচ্ছৃঙ্খল যুবক বলিয়াই পরিচিত;—এই পরিচয় কিয়দংশে অতিরঞ্জিত হইলেও, একেবারে মিথ্যা নহে। কিন্তু সত্য হইলেও যে যে কারণে সিরাজদ্দৌলার ইন্দ্রিয়বিকার এবং অর্থপিপাসা উপস্থিত হইয়াছিল, তাহার মূলানুসন্ধান করা আবশ্যক।