পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৭
নবাবের প্রিয়পুত্তল।

 সেকালের ইংরাজদিগের চরিত্রেও ইন্দ্রিয়বিকার কিয়ৎপরিমাণে পরিস্ফুট হইয়া উঠিয়াছিল। পলাসির যুদ্ধাবসানে সিরাজদ্দৌলার শিবিরের অনেক বারবনিতাই পলায়ন করিবার অবসর পায় নাই। মীরজাফর তাহাদিগকে সমাদরে সম্মিলিত করিয়া লর্ড ক্লাইবের শিবিরে পাঠাইয়া দিয়াছিলেন।[১] ইচ্ছা না থাকিলেও পদস্থ ব্যক্তিদিগকে দশ জনে মিলিয়া পাপের পথে টানিয়া আনে। সিরাজদ্দৌলাকেও সেই দশ জনে মিলিয়াই ইন্দ্রিয়বিকারের পাপপঙ্কে টানিয়া আনিতেছিল।

 রূপ ছিল, যৌবন ছিল, নবাবের প্রিয়পুত্তল বলিয়া সকলের নিকটেই সমাদর ছিল; তাহার পর লোকে যখন শুনিতে পাইল যে, সিরাজদ্দৌলাই বাঙ্গালা, বিহার, উড়িষ্যার ভবিষ্যত নবাব, তখন দশজনে মিলিয়া বিবিধ উপায়ে তাঁহার উপর আধিপত্যবিস্তারের চেষ্টা করিতে লাগিল। সিরাজ যেরূপ উচ্ছৃঙ্খল-স্বভাব, স্বাধীনচেতা তেজস্বী যুবক, তাহাতে অন্য কোন উপায়ে তাঁহার উপর অধিপত্যবিস্তারের সম্ভাবনা ছিল না;—সুতরাং লোকে যৌবনসুলভ চাঞ্চল্যের সহায়তায় তাঁহার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করিতে আরম্ভ করিল।

 সিরাজ যৌবনোদ্গমের পূর্ব্বেই সঙ্গদোষে একটু একটু করিয়া সুরাপান করিতে শিখিয়াছিলেন। যখন যৌবন-জল-তরঙ্গে দেহমন তরঙ্গায়িত হইয়া উঠিল, তখন সঙ্গগুণে আনুষঙ্গিক পাপ-লিপ্সাও চরিতার্থ করিতে শিক্ষা করিলেন! ইহাতে সিরাজদ্দৌলার যত দোষ, তাঁহার প্রলোভনদাতা, উৎসাহদাতা সহকারীদিগের ততোধিক অপরাধ।

  1. “Many of Suraj-a-Dowla's women taken in the camp had been offered to Clive by Meerjaffier immediately after the battle of Plassey."—Travels of a Hindu.