পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭০
সিরাজদ্দৌলা।

না;[১]—এই অপরূপ রূপলাবণ্যের কথা সিরাজদ্দৌলার নিকট অধিক দিন লুক্কায়িত রহিল না। তখন সেই রূপরাশি সিরাজদ্দৌলার অন্তঃপুরে আসিয়া উপনীত হইল![২]

 মহারাজ মানসিংহ মুসলমানকে ভগিনীদান করিয়া মোগলের বিজয়পতাকা দেশ বিদেশে বহন করিয়াছিলেন। তাঁহার অগণিত সন্তানবৃন্দ, কেহ অশ্বারোহী, কেহ পদাতিকদলের সেনানায়ক হইয়া উচ্চ-রাজপদ উপভোগ করিয়াছিলেন;—একদিনের জন্যও বলদর্পিত মানসিংহের ক্ষত্রিয়-শোণিত অপমানচিন্তায় উত্তপ্ত হইয়া উঠে নাই। একবার এই ভগিনীদান লক্ষ্য করিয়া রাণা প্রতাপ ব্যঙ্গ করিয়াছিলেন, তাহাতে লজ্জা বা ঘৃণা বোধ হওয়া দূরে থাকুক, সেই অপরাধের সমুচিত দণ্ডবিধানের জন্য সম্রাটকে উত্তেজিত করিয়া, রাজপুত-গৌরবরবি মহারাণা প্রতাপ সিংহকে শত যুদ্ধে পরাজিত, মর্ম্মপীড়িত, গৃহতাড়িত, বন-নির্ব্বাসিত করিয়াও মানসিংহের মনঃক্ষোভ দূর হয় নাই। ইহার একমাত্র কারণ এই যে, মানসিংহ জানিয়া শুনিয়াই মোগলকে ভগিনীদান করিয়াছিলেন।

  1. "The translator of the Sayer tells us that the Indian idea of a beautiful woman is that her skin be of a golden colour, and so transparent, that when she eats pan, the red fluid can be seen passing down her throat, and that she weigh only twenty-two sirs (44. lbs.) Stewart's 64 is perhaps, a mistake for 44."—H, Beveridge. C. S.
  2. শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় এই ভগিনীদান কাহিনী বিশ্বাস করেন না। মুতক্ষরীণের অনুবাদক হাজি মুস্তাফা নামধারী ফরাসী পণ্ডিত টীকাচ্ছলে এই কাহিনী লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন, তাহা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের মতে ‘অমূলক”, কারণ মোসলমান রচিত ইতিহাসে ইহার উল্লেখ নাই।