পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭১
মোহনলালের পদোন্নতি।

 মোহনলালের ইতিহাসও সেইরূপ। তিনি সামান্য পদবী হইতে সিরাজদ্দৌলার প্রধান মন্ত্রিপদে আরোহণ করিয়াছিলেন, নগণ্য সৈনিক হইয়াও উত্তরকালে “মহারাজ” উপাধি লাভ করিয়াছিলেন, তাঁহার পুত্র পূর্ণিয়ার নবাব হইয়াছিলেন; এবং যখন দেশের সমুদয় রাজা জমিদার মিলিয়া সিরাজদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করিতে অগ্রসর, তখন মোহনলাল একাকী অসাধারণ বীরপ্রতাপে সিরাজের সিংহাসন রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জ্জন করিয়াছিলেন। মোহনলালের ন্যায় বীরপুরুষ কি স্বেচ্ছায় ভগিনীদান না করিলে এতাধিক উৎসাহের সঙ্গে আমরণ সিরাজদ্দৌলার কল্যাণসাধন করিতে সম্মত হইতেন?[১]

 মোহনলালের ন্যায় আরও কতলোকে এইরূপে সিরাজদ্দৌলার উপর আধিপত্যবিস্তারের চেষ্টা করিয়াছিলেন, ইতিহাসে তাহার পরিচয় পাইবার উপায় নাই। তবে রাজ্যপরিদর্শন উপলক্ষে সিরাজদ্দৌলা নানা

  1.  “নবাবী আমলে হিন্দু কর্ম্মচারী” নামক “সাহিত্যে” প্রকাশিত একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধে (জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫) বন্ধুবর শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিয়াছেন, যে, “ইংরাজ মহাত্মারা বীর-প্রবর মোহনলালের যে অপবাদ রটাইবার চেষ্টা করিয়াছেন—তাহার সমালোচনা এখানে নিষ্প্রয়োজন।” আমরা ইহাকে “অপবাদ” বলিয়া গ্রহণ করিতে প্রস্তুত নহি। মহারাজ মানসিংহ এবং মোহনলাল উভয়েই সমাদরের পাত্র;—মোগলকে ভগিনীদান করিয়াছিলেন বলিয়া বীরত্ব-গৌরব অবসন্ন হইতে পারে না। বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় স্বকৃত বাঙ্গালার ইতিহাসে (১৩০৮) বলিয়াছেন—“মোহনলালের এই অত্যধিক উন্নতিই সিরাজের অধঃপতনের বীজ বপন করিয়া রাখিল।” কিন্তু সে উন্নতির মূল কি তাহা প্রদর্শিত না হওয়ায় মুস্তাফা বর্ণিত ভগিনীদান কাহিনী কেবল মুখের কথায় উড়াইয়া দিতে সাহস হয় না।