পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৫
মহারাষ্ট্রীয়দিগের সহিত সন্ধি।

ছুটাছুটি করিয়া পরিশ্রান্ত হইয়া পড়িলেন। কিন্তু যাহাদিগের ধন মান রক্ষার জন্য জীবনপাত করিলেন, এক বৎসরের জন্যেও তাহাদের দুঃখের হাহাকার নিবারণ করিতে পারিলেন না? এ দিকে মহারাষ্ট্র সেনাপতিও আলিবর্দ্দীর ন্যায় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীর সহিত নিয়ত যুদ্ধকলহে লিপ্ত হইয়া একদিনের জন্যও বিশ্রাম-সুখ লাভ করিবার অবসর পান নাই। সুতরাং ১৭৫১ খৃষ্টাব্দে সন্ধির প্রস্তাব উপস্থিত হইলে, উভয় পক্ষই সানন্দে সাগ্রহে সন্ধিসংস্থাপন করিতে স্বীকৃত হইলেন।

 বহু বৎসরের পর যুদ্ধকোলাহল শান্ত হইল। মহারাষ্ট্রীয়দিগের সহিত সন্ধি সংস্থাপিত হইয়া, সুবর্ণরেখা নদী উড়িষ্যা ও বাঙ্গলাদেশের সীমান্ত রেখা বলিয়া নির্দিষ্ট হইল। মহারাষ্ট্রসেনা আর সুবর্ণরেখা পার হইবার চেষ্টা না করিলে, নবাব তাহাদিগকে বৎসর বৎসর ১২ লক্ষ টাকা “চৌথ” প্রদান করিবেন, এইরূপ সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হইয়া গেল।[১]

 সন্ধি হইল বটে, কিন্তু চৌথ প্রদানের উপায় হইল না। অগত্যা আলিবর্দ্দী জমিদারদিগের সহিত মন্ত্রণা করিয়া, “চৌথ মারহাট্টা”[২] নামে এক নূতন বাজে জমা বার করিলেন; এবং নবাব-সরকারের ব্যয়-সংক্ষেপ করিবার জন্য, অধিকাংশ সৈন্যদলকে পদচ্যুত করিলেন। দেশে শান্তি সংস্থাপিত হইল।

 আলিবর্দ্দীর পূর্ব্ববর্তী নবাবদিগের আমলে বাঙ্গালী জমীদারদিগের বিশেষ আধিপত্য ছিল না। যথাসময়ে রাজকর পরিশোধ করিতে না পারিলে, সকলকেই সবিশেষ লাঞ্ছনা ভোগ করিতে হইত। কেহ

  1. Stewart's History of Bengal.
  2. Fifth Report, vol. I.