পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৮
সিরাজদ্দৌলা।

শেষ বর্ত্তমান আছে, তাহাও বন জঙ্গলে, লতাগুল্মে ঢাকিয়া পড়িয়াছে। চারি দিক হইতে কি যেন এক বিষাদের উষ্ণশ্বাস বহিতেছে যে, সেখানে পদার্পণ করিলে আর অশ্রুসংবরণ করা যায় না। সে ঐশ্বর্য্য কোন্ মন্ত্রবলে বেলাশায়িত ধূলিপটলের ন্যায় উড়িয়া গিয়াছে! মহিমাপুরের সে উজ্জ্বল মহিমা কোন্ অভিসম্পাতে যেন মসীমলিন বিকটমূর্ত্তি ধারণ করিয়াছে! সে রত্নদীপালোকিত রাজভবনে আর সায়াহ্নে প্রদীপশিখাও ভাল করিয়া আলোক বিস্তার করে না! চারি দিকে ভগ্নস্তুপ, তাহারই মধ্যে কয়েকটি জীর্ণকক্ষে ইতিহাস বিখ্যাত জগৎশেঠের বর্ত্তমান বংশধর ইংরাজদত্ত মাসিক বৃত্তির উপর নির্ভর করিয়া কোনরূপে জীবনধারণ করিতেন; এখন তাহাও রহিত হইয়া গিয়াছে![১]

 জগৎশেঠ এবং প্রধান প্রধান জমীদারগণের যেরূপ ক্ষমতাবৃদ্ধি হইয়াছিল, তাহাতে সিরাজদ্দৌলা মনে মনে বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিলেন;—তাহাতে জমীদারদলও তাঁহার উপর অসন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। এই অসন্তোষ কালে বিলীন হইতে পারিত। জমীদারদলকে সাদর সম্ভাষণে আপ্যায়িত করিলে কালে তাহাদিগের সাহায্য ও সহানুভূতি লাভ করাও অসম্ভব হইত না।[২] কিন্তু স্বভাব-দোষে সিরাজদ্দৌলা সেই সুযোগ

  1.  ১৮৯৫ খ্রীষ্টাব্দে মুর্শিদাবাদ প্রাদেশিক সমিতির সম্মিলনসময়ে, অনরেব্‌ল্‌ শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতি অনেক গণ্যমান্য বাঙ্গালী মহিমাপুরের ভগ্নাবশেষ দেখিতে গিয়াছিলেন; তখন অল্প অল্প বৃষ্টি হইতেছিল; জগৎশেঠের বর্ত্তমান বংশধর তাঁহাদিগকে অভ্যর্থনা করিয়া বসিতে বলেন, এমন একটু স্থানও খুঁজিয়া পাইলেন না!
  2.  প্রভুপুত্র সরফরাজকে নিহত করিয়া সিংহাসনে আরোহণ করায় লোকে আলিবর্দ্দীর নামে যেরূপ শিহরিয়া উঠিয়াছিল, কালে তাহা সম্পূর্ণরূপে বিলীন হইয়া গিয়াছিল।