পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮১
জগৎশেঠ।

হইল কি না, কে বলিতে পারে? প্রকৃত ঘটনা কতদিন গোপনে থাকিবে?” সিরাজদ্দৌলা যখন শুনিবেন যে, তারা ঠাকুরাণী এখনও জীবিত রহিয়াছেন, তখন সে রাজরোষ কে নিবারণ করিবে? সুতরাং সময় থাকিতে জমীদারদল গোপনে গোপনে সিরাজদ্দৌলার সর্বনাশসাধনের চিন্তা করিতে লাগিলেন। তাঁহারা বুঝিলেন যে, আর না,— ইহার পরেও যদি তাঁহারা সিরাজদ্দৌলাকে সিংহাসনে আরোহণ করিবার অবসর দেন, তবে আর জাতিধর্ম্ম রক্ষা করিবার উপায় থাকিবে না! সিরাজ যে সত্য সত্যই কাহারও নিষ্কলঙ্ককুলে কালিমা ঢালিয়া দিয়াছিলেন, তাহা নহে; তিনি যে সিংহাসনে আরোহণ করিলেও শত্রুসঙ্কুল বাঙ্গলাদেশে এই সকল ঘৃণিত ব্যাপারে লিপ্ত হইবার অবসর পাইবেন, তাহাও নহে; পাছে সিরাজদ্দৌলা নবাব হইলে লোকের জাতিধর্ম্মে হস্তক্ষেপ করেন, এই আশঙ্কাতেই লোকে ব্যাকুল হইয়া উঠিল। “ভবানীর ন্যায় অতুল ঐশ্বর্য্যশালিনী প্রতিভাময়ী বীররমণীও যাহার ভয়ে নগর ছাড়িয়া পলায়ন করিলেন, দুর্ব্বল জমীদারল যে তাঁহার ভয়ে জীবন্মৃত হইবেন, তাহাতে আর আশ্চর্যের কথা কি? সরফরাজ খাঁ যখন জগৎশেঠের পুত্রবধুর অপমান করিয়াছিলেন, তখন বাঙ্গালী জমীদারগণ জগৎশেঠের অপমানে অপমান বোধ করিয়া একপ্রাণ একমন হইয়া সরফরাজের সর্ব্বনাশসাধনের সহায়তা করিয়াছিলেন। এবারেও সকলে মিলিয়া সেই উদ্দেশ্যে জগৎশেঠের সহিত মন্ত্রণা করিতে আরম্ভ করিলেন। জগৎশেঠ জমীদারদিগের আশ্রয়বৃক্ষ, আবার জমীদারগণ অনেকেই জগৎশেঠের ধনগৌরব বর্জ্জন করিবার মূল কারণ; সুতরাং স্বার্থ রক্ষার জন্যই হউক, আর স্বদেশের কল্যাণ সাধনের জন্যই হউক, জগৎশেঠকে জমীদার দলের সহায়তা করিতে