পাতা:১৫১৩ সাল.pdf/৬০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৭
১৫১৩ সাল।

করণ করা হউক। অবশেষে তাঁহার মধ্যস্থতায় উহার নাম “সোনার ভারত” রাখা হইল।

 পরে জাহাজের কার্য্যকারিতা পরীক্ষার জন্য একটী দিন নির্দ্দিষ্ট হইল। সেদিন আকাশ অতি নির্ম্মল। মৃদমন্দ বায়ু বহিতেছিল। সমুদ্র নিস্তদ্ধ। ক্বচিৎ দুই একটী ঢেউ দেখা যাইতেছিল। নির্দ্দিষ্ট সময়ে সকলে ডকে উপস্থিত হইলাম। পরে জাহাজে আরোহণ করিলাম। ঢং ঢং করিয়া ১১টা বাজিল। বন্ধুবর একটা বন্দুকধ্বনি করিলেন। তৎক্ষণাৎ কাপ্তেন ইঞ্জিনিয়ারদিগকে জাহাজ চালাইতে হকুম দিলেন। অর্দ্ধঘণ্টার মধ্যে হংসের ন্যায় হেলিয়া দুলিয়া উহা চলিতে আরম্ভ করিল। ক্ৰমে আমরা neutral zone এর সীমানা পার হইয়া গেলাম। তখন সুবৰ্ণ প্রস্তুত করিবার যন্ত্রাদির কার্য্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বন্ধুবর নিম্নে গেলেন। আমরা সাগ্রহে তাঁহার পশ্চাৎ গমন করিলাম।

 যন্ত্রগুলির বিবরণ দেই এমন ক্ষমতা অামার নাই। আমরা দেখিলাম এই যে, তিনি যে যন্ত্রগুলির সাহায্যে সুবর্ণ উৎপাদন করিয়া আমাদিগকে দেখাইয়াছিলেন তাহার অপেক্ষা অধিক সংখ্যক যন্ত্র প্রস্তুত করা হইয়াছে।

 আমরা সকলে একত্রিত হইলে পর, বন্ধুবর আমাদিগকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন:—

 “এতদিন পরে আমাদের আশা ফলবতী হইতে চলিল। সকলই প্রস্তুত। কেবল কার্য্যারম্ভ বাকী। আপনারা আমার কার্য্যাবলীর উপর লক্ষ রাখুন।”

 এই বলিয়া তিনি একটা বোতাম টিপিলেন। অমনি এক বিকট শব্দ হইয়া যন্ত্রগুলি চলিতে আরম্ভ করিল। একটা বৃহৎ মার্ব্বেল-নির্ম্মিত চৌবাচ্চায় সমুদ্রের জল পম্প হইয়া পড়িতে লাগিল। পরে সেই জল উক্ত চৌবাচ্চার সহিত নলের দ্বারা যুক্ত আর এক চৌবাচ্চায় পড়িয়া