পাতা:১৯০৫ সালে বাংলা.pdf/২১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

[ ১১ ]

 ইহার উত্তরে আমরা এই মাত্র বলিব, প্রাণের যে উচ্চতা, সৎসাহস ও মহানুভবতা সর্ব্বত্র সমাদৃত হয় আমাদিগের লাঞ্ছিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সেই সকল গুণের অসদ্ভাব ছিল না, যাঁহারা সম্মানিত হইতেছেন, আমরা তাঁহাদিগকে এই মাত্র জানাইতেছি যে, তাঁহারা রাজদ্বারে নিগ্রহ ভোগ করিলেও দেশের লোক তাঁহাদিগের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে; আমরা তাঁহাদিগকে সম্মানিত করিয়া নিজের সম্মানই বাড়াইতেছি, তাঁহাদিগের ইহাতে ব্যক্তিগত লাভ নাই, আমাদিগেরই জাতিগত লাভ। রাজপুরুষেরা এই কার্য্যে জানিতে পারিবেন যে, তাঁহাদিগের অকারণ লাঞ্ছনায় মানের হ্রাস না হইয়া বৃদ্ধিই হইয়া থাকে। দুর্ব্বল চিত্ত ব্যক্তিরাও ঈদৃশ সম্মান প্রদর্শন দর্শনে উন্নতচেতা হইয়া থাকে।

 দ্বিতীয় আপত্তি, রাজপুরুষেরা বিরক্ত হইবেন, তাঁহারা রীতিমত বিচার করিয়া যাহাদিগকে দোষী সাব্যস্ত করিলেন, প্রজা হইয়া আমরা তাহাদিগকে সম্মানিত করি কিরূপে? যাঁহারা বিরক্ত হন হউন আমরা কি করিব? মান্যবর বাবু ভূপেন্দ্রনাথ বসুর পত্রে, ইহার একটি সদুত্তর দেওয়া হইয়াছে। ফলতঃ ইংরাজের দেবতা পাশ্চাত্য জগতের উপাস্য প্রভু ও যীশুখৃষ্টও প্রকাশ্য আদালতে রীতিমত বিচারে “দোষী সাব্যস্ত” হইয়া কঠোরতম প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছিলেন, ইহা বাইবেলের উক্তি।

 তৃতীয় আপত্তি, যাহারা স্বদেশের কার্য্য করেন নাই, অকারণে রাজপুরুষদিগের ভ্রমে বা কাহারও চক্রান্তে লাঞ্ছিত, তাঁহাদিগকে