এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অতুলপ্রসাদ সেন বলিয়া স্বীকার করিয়া জনসেবার যােগে তৎপ্রদেশবাসীর ঐকান্তিক শ্রদ্ধা অর্জন করিয়াছিলেন অতুলপ্রসাদ সেনের নাম তাঁহাদের মধ্যে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করিয়া আছে। প্রবাসী বঙ্গ-সাহিত্য-সম্মিলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও | পৃষ্ঠপােষক হইয়াও, চিরদিন বাংলা ভাষার সেবা ও | জন্মভূমির স্মৃতি অন্তরে বহন করিয়াও, বঙ্গেতর প্রদেশে তিনি নিজেকে কখনও প্রবাসী বলিয়া মনে করেন নাই— “নিজেদের প্রবাসী বলতে আমি সংকোচ বােধ করি। ভারতে বাস করে ভারতবাসী নিজেকে পরবাসী কি করে বলবে ?••এ দেশও আমাদের দেশ,” আর এই দেশের কল্যাণকর্মে তিনি শ্রম অর্থ ও প্রীতি অকুণ্ঠভাবে নিয়ােগ করিয়াছিলেন। যুক্তপ্রদেশ, বিশেষতঃ লক্ষ্ণৌ নগরীর সংস্কৃতি ও জীবনধারার সহিত তিনি সম্পূর্ণ একাত্ম হইয়াছিলেন ; লক্ষ্ণৌ শহরের যে রাজপথে তিনি | গৃহনির্মাণ করিয়া বাস করিতেন, তঁাহার জীবিতকালেই তাহার নামে সেই রাজপথ সরকারি ভাবে চিহ্নিত হইয়াছিল ; দীনদুঃখীকে উদারহস্তে দান করিয়া, সার্বজনিক নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মভার গ্রহণ করিয়া তিনি সর্বসাধারণের হৃদয়ে যে শ্রদ্ধার আসন লাভ করিয়াছিলেন। মৃত্যুর পর তাহার স্মরণে তাহার গুণানুরাগীগণ লক্ষ্ণৌ শহরে তঁাহার মর্মরমূর্তি প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত তিনি বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন, তথায় তাহার স্মরণে একটি হল চিহ্নিত হইয়াছে। রাষ্ট্রনৈতিক কর্মের সহিতও তাহার ঘনিষ্ঠ যােগ ছিল। গােখলের অনুবর্তীরূপে তিনি কংগ্রেসের সহিত যুক্ত ছিলেন, পরে লিবারাল ফেডারেশন বা উদারনীতিক সংঘভুক্ত হন ও ইহার বার্ষিক সম্মিলনে সভাপতি নিযুক্ত হইয়াছিলেন। প্রবাসী (বর্তমানে নিখিল-ভারত) বঙ্গসাহিত্য-সম্মিলন প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ইহার অন্যতম প্রধান ছিলেন ; সম্মিলনের মুখপত্র 'উত্তরা’র তিনি অন্যতম সম্পাদক ছিলেন। সম্মিলনের কানপুর ও গােরখপুর | অধিবেশনে তিনি সভানেতৃত্ব করেন। তাহার উপার্জিত অর্থের বৃহৎ অংশ জীবিতকালেই লােকসেবায় ব্যয়িত হইয়াছিল ; অবশিষ্ট সম্পত্তির অধিকাংশ, তঁাহার আবাসগৃহ এবং গ্রন্থস্বত্বও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করিয়া গিয়াছেন। দ্ৰ দিলীপকুমার রায়, অতুলপ্রসাদ ও তাহার সঙ্গীত, | প্রবাসী, ফান ১৩৩১; উত্তরা, আশ্বিন ১৩৪১ ‘অতুল সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধাবলী ; রাজ্যেশ্বর মিত্র, ‘অতুল| প্রসাদ’, ‘বাংলার গীতকার’ গ্রন্থ। পুলিনবিহারী সেন