এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ জড় বা অচেতন শক্তি বলিয়া আপনা-আপনি পরিণামপ্রাপ্ত হইতে পারে না। শক্তিমান পরব্রহ্ম তাহার দৃষ্টিদ্বারা প্রকৃতিতে শক্তিসঞ্চার না করিলে প্রকৃতির বিক্ষোভ এবং সাম্যাবস্থার নাশ হইতে পারে না। জগতের বিভিন্ন বস্তুর উপাদানরূপে পরিণত হওয়ার যােগ্যতা প্রকৃতির নাই। অগ্নির শক্তিতে লৌহ যেমন দাহক হওয়ার যােগ্যতা লাভ করে সেইরূপ ঈশ্বরের শক্তিতে গুণমায়া জগতের উপাদানরূপে পরিণত হওয়ার যােগ্যতা লাভ করে। অগ্নির শক্তি ব্যতীত লৌহ যেমন কোনও কিছু দগ্ধ করিতে পারে না, সেইরূপ পরব্রহ্মের শক্তি ব্যতীত গুণমায়াও জগতের উপাদানে পরিণত হইতে পারে । পরন্তু লৌহের সাহচর্য ব্যতীতও অগ্নি যেমন অনায়াসে দহনকার্য করিতে পারে সেইরূপ গুণমায়ার সাহচর্য ব্যতীতও পরব্রহ্মের স্বরূপ শক্তির ভগবদ্বাসাদির | উপাদানরূপে পরিণত হইতে পারে। দহনকার্যের মুখ্য কারণ লৌহ নহে, অগ্নি। জগতের মুখ্য উপাদানকারণ গুণমায়া বা প্রকৃতি নহে, পরব্রহ্মের চেতনাময়ী শক্তিই জগতের মুখ্য উপাদান কারণ। গুণমায়া বা প্রকৃতি জগতের গৌণ উপাদানকারণ মাত্র। মায়ার সৃষ্টি-স্থিতিসংহারকারিণী বৃত্তির নাম জীবমায়া। ইহা তাহার আবরণাত্মিক৷ বৃত্তি দ্বারা জীবের স্বরূপ আবৃত করিয়া রাখে এবং বিক্ষেপাত্মিকা বৃত্তি দ্বারা জীবকে জড়বস্তুতে আকৃষ্ট করিয়া তাহার চিত্তবৃত্তিকে বিক্ষিপ্ত করে। অনাদি বহির্মুখ জীব জীবমায়ার প্রভাবে প্রাকৃত ভােগ-লালসা | চরিতার্থ করিবার উদ্দেশ্যে প্রকৃত দেহ স্বীকার করিয়া মায়িক ব্রহ্মাণ্ডে প্রবেশ করে। মায়ামুগ্ধ জীবের প্রাকৃত সুখভােগের নিমিত্ত প্রাকৃত ব্ৰহ্মাণ্ড এবং প্রাকৃত দেহের সৃষ্টি হইয়া থাকে। সুতরাং জীবমায়াকে সৃষ্টির নিমিত্তকারণ বলিয়া মনে হইতে পারে। কিন্তু জীবমায়া দ্বারা সৃষ্টির আনুকূল্য সাধিত হইলেও জীবমায়। জগতের মুখ্য নিমিত্তকারণ নহে। জীবমায় পরব্রহ্মের চিৎশক্তিতে শক্তিমান হইয়াই সৃষ্টির আনুকূল্য করিয়া থাকে। পরব্ৰহ্মই সৃষ্টির মুখ্য নিমিত্তকারণ। দণ্ড-চক্রাদি যেমন ঘটের গৌণ নিমিত্তকারণ, জীবমায়াও সেইরূপ বিশ্বের গৌণ | নিমিত্ত-কারণ। কুম্ভকার যেমন ঘটের মুখ্য নিমিত্তকারণ, পরব্রহ্ম সেইরূপ জগতের মুখ্য নিমিত্তকারণ। | বঙ্গীয় বৈষ্ণবাচার্যগণ পরিণামবাদী। তাহারা শংকরের | বিবর্তবাদ সমর্থন করেন না। শংকরের মতে ব্রহ্মের সত্তা | পারমার্থিক, জগতের সত্তা ব্যবহারিক। বৈষ্ণবাচাৰ্যদিগের মতে জগৎ নশ্বর হইলেও মিথ্যা নহে। সাংখ্যমতাবলম্বী পরিণামবাদীগণের মতে কার্যের সত্তা কারণের সত্তার