এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অজ্ঞাবাদ অজিত সিংহ ( রাঠোর) যােধপুরের রাজা যশােবন্ত সিংহের পুত্র। পিতার মৃত্যুর (১০ ডিসেম্বর, ১৬৭৮ খ্ৰী ) পর ১৬৭৯ খ্ৰী, ফেব্রুয়ারি অজিত সিংহ জন্মগ্রহণ করেন। যােধপুরের রানারূপে মনােনয়নলাভের জন্য তাহাকে | দিল্লীতে ঔরঙ্গজেবের নিকট লইয়া যাওয়া হয়। কিন্তু সম্রাট ইতঃপূর্বে ছত্রিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইন্দ্র সিংহ রাঠোর নামে যশােবস্তের এক ভ্রাতুষ্পপুত্রকে যােধপুরের রানা রূপে স্বীকার করিয়া লইয়াছিলেন। অজিত সিংহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিলে তাহাকে সিংহাসন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইল ; অন্যথায় সম্রাট তাহাকে আপন হারেমে পালনের সংকল্প করিলেন। এই প্রস্তাবে রাঠোরেরা অত্যন্ত অপমানিত বােধ করিল। যশােবন্তের মন্ত্রীপুত্র দুর্গাদাস রাঠোর অপরিসীম বীরত্ব ও কৌশলের সাহায্যে অজিত সিংহকে দিল্লী হইতে উদ্ধার করিয়া যােধপুরে লইয়া গেলেন। ঔরঙ্গজেব শাহজাদা আজম, মুয়াজ্জম ও | আকবরের সহিত যােধপুরের বিরুদ্ধে সসৈন্যে অগ্রসর হইলেন। যােধপুর অধিকৃত ও লুণ্ঠিত হইল। কিন্তু মেবারের শিশদীয় বংশীয় রানা রাজসিংহ অজিত সিংহের পক্ষে যােগ দিলেন। ঔরঙ্গজেবের জীবদ্দশায় এই যুদ্ধের মীমাংসা হয় নাই। তাহার মৃত্যুর পর ত্রিশবর্ষব্যাপী যুদ্ধের পর ১৭০৯ খ্ৰীষ্টাব্দে সম্রাট প্রথম বাহাদুর শাহ, অজিত সিংহকে রানা রূপে স্বীকার করিয়া লন।। বাহাদুর শাহের মৃত্যুর পর অজিত সিংহ মােগল | সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন এবং ১৭১৪ খ্রীষ্টাব্দে স্বীয় কন্যাকে মোগল সম্রাটের সহিত বিবাহ দিয়া সুন্ধি করেন। অজিত সিংহ ১৭২১ খ্ৰীষ্টাব্দ পর্যন্ত আজমীর ও গুজরাটের শাসনকর্তা-পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। পরে মারাঠাদের সহিত সহযােগিতার অভিযােগে তঁহাকে গুজরাটের শাসনকর্তার পদ হইতে অপসারিত করা হয়। স্বীয় পুত্র ভক্তসিংহের দ্বারা তিনি নিহত হন। সৌরীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অজ্ঞাবাদ (agnosticism) একটি দার্শনিক মতবাদ। ইহার অর্থ এই যে, অতীন্দ্রিয় সত্তা (যথা আত্মা ঈশ্বর ইত্যাদি) সম্বন্ধে কোনও জ্ঞানলাভ আমাদের পক্ষে সম্ভব নহে। তথাকথিত অতীন্দ্রিয় তত্ত্বগুলি বাস্তবিক আছে কি নাই, অজ্ঞাবাদী সে বিষয়ে কিছুই বলিতে চাহেন না। কারণ তাহার মতে এ বিষয়ে কোনও জ্ঞানই তাহার হয় নাই এবং হইতে পারে না। অজ্ঞাবাদী অবশ্য এ কথা বলেন না যে আত্মা নাই বা ঈশ্বর নাই। অতীন্দ্রিয় তত্বসমূহের অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেন জড়বাদী ও