এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অতিবেগুনী রশ্মি প্রবেশ করিলে দর্শনের অনুভূতি জন্মায় তাহাকে দৃশ্যমান বর্ণালী (visible spectrum) বলে। ইহার একপ্রান্তে বেগুনী আলল, তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০০ অ্যাংস্ট্রম ( এক অ্যাংস্ট্রম =১০-৮ সেন্টিমিটার) অন্য প্রান্তে লাল আলাে, তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫০; অ্যাংস্ট্রম। বর্ণালীকে যদি একটি ফোটোগ্রাফিক প্লেটে ফেলিয়া ছবি তােলা হয় তবে লক্ষ্য করা যাইবে বর্ণালীর যে অংশে কোনও আলো চোখে দেখা যায় নাই সেখানেও প্লেটটি কালো হইয়াছে। ইহাতে বেগুনী হইতে লাল এই সীমার বাহিরে অদৃশ্য আলােকরশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। বর্ণালীতে বেগুনী আলাের বাহিরে যে অদৃশ্য আলো তাহাকেই অতিবেগুনী রশ্মি বলা হয়। ইহার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০০ অ্যাংস্ট্রম অপেক্ষা কম। অতিবেগুনী রশ্মি সহজেই কাচ, বাতাস প্রভৃতি দ্বারা শােষিত হয়। সূর্যের আলােতে যে পরিমাণ অতিবেগুনী রশ্মি আছে তাহার বেশির ভাগ বাতাস শােষণ করে। ৩০০০ অ্যাংস্ট্রমের ছােট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আমাদের কাছে পৌঁছায় না। সর্বপ্রকার আলােকউংস হইতেই কমবেশি অতিবেগুনী রশ্মি পাওয়া যায়।। বেশি পরিমাণে এই আলো সৃষ্টির জন্য মার্কারি ভোের ল্যাম্প ব্যবহার করা হয়। সাধারণ কাচের পরিবর্তে এই ল্যাম্পে কোয়ার্টজ, বা সিলিকা ব্যবহার করিলে শােষণের পরিমাণ কম হয়। কোনও কোনও বস্তু (যেমন কুইনাইনের দ্রবণ) অতিবেগুনী রশ্মি শােষণ করিয়া দৃশ্য আলােক (visible light) বিকিরণ করে। ইহাকে ফুরেসেন্স বলা হয়। ফ্লরেসেন্ট টিউবে অতিবেগুনী রশ্মি শােষণ করিয়া দৃশ্য আলাে সৃষ্টির জন্য টিউবের গায়ে ফুরেসেন্ট পাউডার লাগানাে থাকে। অতিবেগুনী রশ্মি চোখের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এইজন্য ওয়েলডিং প্রভৃতি কাজে চোখে রঙিন চশমা ব্যবহার করিতে হয়। অতিবেগুনী রশ্মি জীবাণুনাশক। ইহার দ্বারা জল জীবাণুমুক্ত করা হয়। এই রশ্মি চামড়ার উপর বাদামী রঙ সৃষ্টি করে। এইজন্য সুর্যের আলােয় দেহের রঙ পরিবর্তিত হয়। অনেক সময় ঘা শুকাইবার জন্য অতিবেগুনী রশ্মি ব্যবহার করা হয়। অধিক পরিমাণে ও অত্যন্ত ছােট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনী রশ্মি দেহের পক্ষে ক্ষতিকর। চর্বিজাতীয় বস্তুর উপর অতিবেগুনী রশ্মি প্রয়ােগ করিলে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়। এইজন্য তৈলাক্ত দেহে সূর্যস্নান উপকারী। অতিবেগুনী রশ্মিতে ফুরেসে লক্ষ্য করিয়া অনেক সময় খাদ্যে ভেজাল ধরা যায় এবং আসল ও নকল পাথরের প্রভেদ নির্ণয় করা হয়। আলোেক । শ্যামল সেনগুপ্ত