বাহ্যবস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার/দ্বিতীয় অধ্যায়

৪০ মমুষ্যের ভোতিক প্রকৃতি সহিত ভোতিক নিয়মের কি প্রকার সম্বন্ধ, তাহাও নিৰ্দেশ করিতে হয় । এই সমুদার সম্পন্ন হইলে । আমরা ভৌতিক নিয়মানুয।য়ী কাৰ্য্য করিয়৷ তদ্বারা কত উপকৃত হইতে পারি তা নিশ্চয় করিতে পার। যায় ; এবং ভৌতিক পদার্থের অনিবার্য শক্তি দ্বারাই বা আমাদিগের কত দুঃখ হয়, আর অজ্ঞান প্রযুক্তই বা কত দূর হইয়া থাকে, তাহাও । নির্ধারিত করা বাইতে পারে । পশ্চাৎ এ বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ কর। ঘা ইবে, সম্প্রতি ইহা নিশ্চয় জানা উচিত, যে স্বথ নিয়মে ভৌতিক পদার্থের নিয়োগ করিতে ন পারিলেই দুঃখোৎপত্তি হয়। অগ্নির দাহিকা শক্তি । আছে। তদ্দার লোকের অন্নপাক, অস্ত্রাদি নির্মাণ ৰাষ্পীয় যন্ত্রের কার্য্য সম্পাদন, ইত্যাকার সহS । প্রকার উপকার দর্শিতেছে। তবে যে অগ্নিদ্বারা কাহা বুও গৃহদাহ হইয়া সৰ্ব্বনাশ বা শরীর দগ্ধ হইয়। প্রাণ সংহার অথবা অ্য প্রকার অশুভ ঘটনা হয়, তাহ৷ অসাবধানতা প্রযুক্তই হইয়া থাকে । বল ও বুদ্ধি চালনাম্বারা ঐ সমস্ত বিপৎপাত নিবারিত হইতে পারে কি না তাহ বিবেচনা করা উচিত । এই প্রকার যুক্তি-পরম্পরাক্রমে পর্যালোচনা করিয়৷ দেখিলে ইহা নিশ্চিত প্রতীড হইবে, যে পরমেশ্বর মমূয্যের মুখাভিপ্রায়েই সমস্ত ভৌতিক নিম্নম সংস্থা পন করিয়াছেন, এবং তদ্বারা যে দুঃখের উৎপত্তি হয়। তাছা প্রায়ই আমদিগের নিয়ম প্রতিপালনে সটিএতই হইয়া থাকে। যদি অাগর বিশ্বসভ্র মনুষ্যের শারীরিক প্রকৃতি । ৪১ টের সমুদায় ভৌতিক ও অত্যান্ত নিয়ম প্রতিপালনে সমর্থ হই, তবে ভূলোক পরম মুখাম্পদ স্বৰ্গলোক হইয় উঠে। মনুষ্যের শারীরিক প্রকৃতি। মনুষ্য শরীরী জীব, সুতরাং শারীরিক নিয়মের অধীন। পূর্বেই নির্দেশ করা গিয়াছে, শরীরী বস্তু শরীরান্তর হইতে উৎপন্ন হয়, আাহার যারা জীবিত থাকে, এবং ক্রমে ক্রমে তাহার বৃদ্ধি হ্রাস ও ভঙ্গ হয়। এই সমুদায় বিষয় যথানিয়মে সম্পন্ন হইলে সুখোপতি হয়, আর তাহা না হইলেই অনিষ্ট ঘটে। প্রথমতঃ । বীজ সর্বাঙ্গসুন্দর হইলে তত্ত্বৎপন্ন শরীরী বস্তুও সৰ্ব্ব-সুলক্ষণসম্পন্ন হয়, আর বীজের ৰৈলক্ষণ হইলে তাহা হইতে যে বস্তুর উৎপত্তি হর তাহারও বৈলক্ষণ্য ঘটে। যাহার কোন জীবনোপযোগী অংশ নষ্ট হইয়াছে, এমত বীজ বপন করিসে ত্যুৎপন্ন তৃণও তত্তৎ অংশে হীন হয়। যদি কোন | বীজের সমুদায় অংশ পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু কুস্থানে স্থিতি বা কারণাস্তর যারা তাহার ব্যতিক্রম ঘটে, অধব তাহ। সুন্দররপ পরিপক না হইয়া ধাকে, তবে তদ্যুৎ পর বৃক্ষ সতেজ হয় না, এবং দীর্ঘকাল সঙ্গীরও থাকে না। মনুষ্যের বিষয়েও এই প্রকার নিয়ম অল্প বয়সে বা পীড়িতাবস্থায় সন্তান উৎপাদন করিলে সে সস্তান কথা আর হক্ট পুষ্ট ও যাগিষ্ট হয় না ; বরঞ্চ অল্পকাসেই ৪২। মন্বয্যের শারীরিক প্রভূতি। জরাগ্রস্ত ও মৃতুগ্রাসে পতিত হইয়৷ অপরাধী পিতা। মাতাকে শোকাকুল করিয়া যায় । দ্বিতীয়ত: । শরীরী জীবদিগের আপন আপন স্বভাবানুযায়ী উৎকৃষ্টগুণাদ্বিত পরিমিতরূপ জল, বায়ু, । জ্যোতিঃ ও খাদ্য সামগ্ৰীএবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য অজন্ম মরণান্ত ব্যবহার করা নিতান্ত আবশ্যক । এই নিয়ম প্রতিপালন করিলে দেহের শক্তি ও মনের বৃত্তি সমুদায় তেজস্বিনী হয়, শরীরের সুস্থতা বোধে চিতের স্কপ্তি জন্মে, এবং অন্তঃকরণ সর্বদ প্রফুল্প থাকে। রোগ, যন্ত্রণাঅকাল-মৃতু এ সমুদায় ঐ নিয়ম লন্ডনের ফল । পশ্চাৎ এক উদাহরণ প্রদর্শন করা । যাইতেছে, তাহা পাঠ করিয়া দেখিলে এ বিষয় । রূপে হৃদয়ঙ্গম হইতে পারে । পূর্বে অয়লণ্ড দ্বীপে এক সাধারণ সূতিকাগারে উত্তম বায়ু সঞ্চারের উপায়। ছিল না, এ নিমিত্ত, তথায় ঘত । সন্তান জম্বিত, ভূৰিষ্ঠ হইবার পর ময় দিনের মধ্যে তাহার যষ্ঠ অংশের মৃত্যু হইত। পরে অধ্যক্ষের তথায় উপাদেয় বায়ু সঞ্চারণের উপায় কারিয়া দিলে উক্ত কালের মধ্যে কেবল বিংশতি ভাগের এক ভাগ মাত্ৰ কাল প্রাপ্ত হইতে লাগিল । তৃীয়ত: । শরীরের সমুদায় অঙ্গ, যথানিয়মে চালনা করা আবশ্যক। এ নিয়ম প্রতিপালন করিলে শরীর স্বাচ্ছদে ধাকে, অঙ্গ চালনার সময়েই দেহের ক্ষপ্তি বোধ হয়, এবং অষ্টাত বিবিধ প্রকার উপকাৰ উদ্ভাবিত হয়। আর তাহা লঙঘন করিলে শরীরের মনুষ্যের শারীরিক গ্রকৃতি । ৪৩ সু স্থত ভঙ্গ, গ্লানি বোধ, এবং সর্বদা অসুখ ও ক্লেশ । ঘটনা হয়, সুতরাং শরীর ও মনের শক্তি সমুদায়। নিস্তেজ হুইতে থাকে । বাঙ্গালা দেশের লোক এই ত্ৰিবিধ শারীরিক নিয়ম ভঙ্গ বিষয়ের যেমন উদাহরণ-স্কুল, এমন আর দ্বিতীয় নাই। এ দেশের লোক কি নিমিত্ত এরূপ ভুর্বল ও নিবীৰ্য্য হইল ? কি নিমিত্ত ভিন্ন জাতীয় রাজার অধীন হইয়। এ প্রকার হেয় হইল । ? এ সমস্ত প্রশ্নের এক মাত্র সিদ্ধান্ত এই যে বিশ্বনিয়ন্তার নিয়মাবলীর অবহেলনই ঊাহাদের দুরবস্থা ঘটনার বলবৎ কারণ। জগদীশ্বর মনুষ্য ভিন্ন অন্য কোন জন্তুকে কৃষিশক্তি প্রদান করেন নাই, কিন্তু তৎপরিবর্তে বাহ্য বস্তুর সহিত তাহাদের প্রকৃতির এ প্রকার সম্বন্ধ করির দিয়াছেন যে, তাহাদের তৃণাদি ভোজ্য বস্তু বিন । যত্নে উৎপন্ন হইয়া । । থাকে । বসুমতী আপনা হইতেই অনবরত তাহাদের । খাদ্য সামগ্ৰী প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন। সেইরূপ, পরমেশ্বর তাহাদিগকে গাত্রাচ্ছাদন নির্মাণ করিবার কৌশলজ্ঞান প্রদান করেন নাই, কিন্তু তদ্বিনিময়ে পক্ষ লোমাদি দ্বারা তাহাদের শরীর আবৃত ও সুশো ভিত করিয়া দিয়াছেন। জগদীশ্বর যখন পশু, পক্ষী পভঙ্গাদির বিষয়ে এইরুপ অচিন্ত্য জ্ঞান ও বিচিত্ৰ শক্তি প্রকাশ করিয়াছেন, তখন ইচ্ছা করিলে মনুষ্যের বিধ য়েও এরুপ করিতে পারিতেন, যে ঔহার শষ্য ফলাদি সমস্ত. ভোজ, দ্রব্য বিনা:আায়াসে আপনাহইতেই উৎপম হুইত, এবং, wাহার যাত্রাচ্ছাদনও স্বভাবতই ৪৪ মমুষ্যের শারীরিক প্রকৃতি । ঢাহার শরীরে জমিতে পারিত। কিন্তু জগদীশ্বর । জামাদিগের হিতাভিপ্ৰায়েই তাহ করেন নাই। bাহার এই অখণ্ডনীয় অনুমতি আছে যে ভূমি কর্ষণ, বীজ বপন, শস্য ছেদন ও বস্ত্ৰ বয়নাদি ব্যতিরেকে কখনই লোকযাত্রা নির্বাহ হইবে না। কিন্তু জগদী স্বর যেমন আমাদিগকে অযত্নসম্ভড অন্ন বস্ত্র প্রদান করেন নাই, ডেমন তৎসমুদায় সম্পাদনাৰ্থে আন দিগকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি সমুদায় প্রদান করিয়াছেন। আর তিনি যেমন মানসিক ও শারী রিক শক্তি প্রদান করিয়াছেন, । তদুপযোগী উরা । ভূমি সমুদায়ও চতুর্দিকে বিস্তার করিয়া রাখিয়াছেন। ও বহু-গুণোৎপাদক বীজ সকল সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি আগাদিগকে রচনাশক্তি প্রদান করিয়াছেন, ও বিবিধ প্রকার বন্ধুবয়নোপযোণী দ্রব্যের সৃজন করি য়াছেন, আমরা বুদ্ধি-বলে তদ্বারা উত্তমোত্তম বিচিত্র বসন প্রস্তুত। করিয়া শীত নিবায়ণ ও শোভা বর্ধন। করিতে পারি। পরমেশ্বর আমাদিগকে অযত্নসভূত অন্ন বস্ত্র না দিয়াও সকল দিয়া রাখিয়াছেন । আপা তত: পশুদিগকে মনুষ্যের অপেক্ষা সুখী ও ভাগ্যধর বোধ হয়, কিন্তু সবিশেষ বিবেচনাপূর্বক মনুষ্যেৰ স্বভাব ও বাহ বস্তুতে তাহার উপযোগিতার বিষয় পৰ্য্যালোচনা করিয়া দেখিলে নিশ্চয় হুইবে, ভূমণ্ডনে মনুষ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ। অৱ ৰত্ৰ আাহরণের নিমিত তাহাকে যে কায়িক ও মানমিক পরিশ্রম করিতে হয়, তাহাতে [াহার এরপ মহত্ব হইয়াছে। জগদী সমুষোর শারীরিক প্র কতি।। ৪৫ স্বর লোকের অন্ন বস্ত্রের প্রয়োজনের সস্থিত ভূমির উৎপাদকতাগুণের যে প্রকার শুভকর নম্বন্ধ নিবপিত করিয়া দিয়াছেন, তাহাতে পৃথিবীর কর্মক্ষম ব্যক্তিরা প্রতিদিন কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ পরিশ্রম করিলেই, সকল লোকের আহার, ব্যবহার ও মুখমােগোপযোগী যথেষ্ট দ্রব্য প্রস্তুত হয় । এক জন ইউরোপীয় পণ্ডিত গণনা করিয়া দেখিয়াছিলেন, যদি প্রত্যেক স্ত্রী ও পুৰুষ প্রতিদিন দশ দণ্ড মাত্র কৰ্ম্ম-বিশেষে নিযুক্ত থাকে, তবে লোকযাত্র-নির্বাহোপযোগী সমুদায়। অবশ্যক। ও মুখে{ৎপাদক সামগ্রী প্রাপ্ত হওয়া যায়, এবং তাহা হইলে দুঃখ ও দরিদ্রতা পৃথিবী হইতে নিৰ্বাসিত হয় ; অবশিফ ৫• দও কেবল অবকাশ ও আমোদ প্রমে। দের কাল থাকে । উৰু দেশীয় লোক স্বভাবতঃ তুৰ্বল, এ নিমিত পর- মেশ্বর তথা কার ভূমিও উর্বর করিয়াছেন। অতএব তাহাদের অল্প পরিশ্রমে লোক-যাত্রা নির্বাহ হয়, সুতরাং সে দেশের লোকের যেমন বল, সেইরূপ অল্প অমেরই প্রয়োজন । প্রখর সূৰ্য্য-কিরণে। দক্ষ হও- য়াতে এদেশের লোক অত্যন্ত ক্ষীণ ও নিবীৰ্য্য, সুত রাং অধিক পরিশ্রমে সমর্থ নহে। কিন্তু ঈশ্বরের কি আশ্চৰ্য্য কৌশন! তিনি এ দেশের ভূমি এরূপ উর্বর করিয়া দিয়াছেন, যে অল্প পরিশ্রমেই অধিক ফলোঃ পত্তি হয়। আর উষ্ণদেশীয় লোকের বস্ত্ৰ বয়ন ও গৃহ নিৰ্ম্মাণার্থেও অধিক অমের প্রয়োজন নাই। কিন্তু স্নীতলদেশের ভূমি অনুর্বর ; তাহাতে হাবার তথাস ৪৬ মস্য্যের শারীরিক প্রকৃতি । শীল ও নীহার নিবারণার্থ ঘনতর গাৰাচ্ছাদন আব শুক, এ প্রযুক্ত । পরমেশ্বর । তত্তদ্দেশের লোকদিগকে সবল শরীর দিয়াযথাপ্রয়োজন অমক্ষম করিয়াছেন। প্রত্যেক দেশে তত্তর্দেশীয় লোকের সুস্থতাসম্পা দক, ধাতু পোষক ও প্রয়োজনোপযোগি-বলোৎপাদক দ্রব্যের উৎপত্তি হইয়া থাকে । ভারতবর্ষের উষ্ণ ভূমিতে যবগোধূম ও তগু লাদি শষ্য ও অন্যান্য বিবিধ-প্রকার ফল মূল অপৰ্য্যাপ্ত উৎপন্ন হয়, কিন্তু আশ্চৰ্য্য দেখ, মাংস অপেক্ষ শষ্য ও ফল মূল অধিক ভক্ষণ করিলেই ভারতবর্ষীয় লোকের শরীর সুস্থ ও সবল থাকে, এবং নিরবচ্ছিন্ন মাংস আহার করিলে অসুস্থ হয়। । অন্ন ব্যঞ্জন ভোজন করিলে আমাদের দেশীয় লোকের যেমন তৃপ্তি জন্মে, এমন আর কিছু তেই নহে । তবে উফ দেশের লোক শীতল দেশীয় লোক অপেক্ষ ) ছকল বটে, তেমন । অল্প পরিশ্রমেই তাহাদের যথেষ্ট ভোজ্য ভোগ্য সামগ্ৰী লব্ধ হইতে পারে। ইংরাজদিগের দেশ। এখানকার অপেক্ষা শীতল, তথায় শস্য অপেক্ষ হৃষ্ট পুষ্ট গো, মেষাদি পশুই অধিক জন্মে, তদনুসারে মাংস ভাহাদিগের প্রধান ধাগ্য। ফরাশিশদের দেশ তদপেক্ষা উষ্ণ তর, তখায় যেমন শক্ত জন্মে তেমন পশু পালন হয়। না । তদনুসারে তথাকার লোকে ইংরাজ ও স্বাছ লোকের অপেক্ষ অল্প মাংস আহার করিলেই সতেজ ও সূ-কায় থাকে। এক জন ক্লষিতত্ৰত পণ্ডিত গণনা করিয়া দেখিয়াছিলেন, ইংরাজের বহু ‘মাংস মনুষ্যের শারীরিক প্রকৃতি । ৪৭ অ্যাহার করে, ফরাশিশের • তাহার ষষ্ঠ অংশের অধিক ভক্ষণ করে না। উত্তর মহাসাগরের তীরবর্তী অত্যন্ত শীতল দেশ সমুদায়ে এবং ঐ মহাসাগরের দ্বীপ বিশেষে ধান্যাদি শস্ত উৎপন্ন হয় না ; তথাকার । লোকেরা কেবল মাংস ও মেদ ভক্ষণ করিয়া প্রাণ ধারণ করে। তথায় যেমন ফল মূলাদি জমে না, সেইপশীতের প্রভাবে লোকের তাহাতে ৰুচিও হয় না। অপেক্ষাকৃত উষ্ণ দেশীয় অনেকানেক বাতি তধায় গমন করিয়াছিলেন, ঢাহাদিগকে নিত্য-ভক্ষা ফল মূল ও শষ্য পরিত্যাগ করিয়া কেবল ষেদ যাংম আহার করিয়া থাকিতে হইয়াছিল। ঐ সকল হিম প্রধান জনপদে গ্রীষ্মকালে অপৰ্য্যাপ্ত পশু, পক্ষী ও মৎস্য প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহাতেই লোকের সংবৎ সরের । আহারের সংস্থান হয় । তাহারা ঐ সমস্ত । জন্তুর মেদ ও মাংস শুষ্ক করিয়া রাখে, এবং শীত কালে তাহা অতু পাদেয় জান করিয়া ভোজন করে । * পূর্বোক্ত সমস্ত বৃতান্ত পাঠ করিলে, ইহা সুস্পষ্ট প্রকাশ পায়, যে, জগদীশ্বর মনুষ্যের শারীরিক প্রতি ও তৎসম্বদ্ধ বাহ বস্তু সমুদায়কে পরস্পর উপযোগী করিয়া দিয়াছেন। তিনি অতি সুচাৰুরপে পৃথিবীকে • কুম্ব সাহেবের এই প্রকার মত । কিন্তু একপে ইউয়োপ ও আমেরিকা এদেশীয় যে নকল পিছ প%িও মৎস্য মাংস ভক্ষণে বিগুর দৌৰ প্ৰদৰ্শন সূৰ্যক ভ:া নিষিত ৰসিরা উল্লেখ করিতেছেন, জীeাদেzও জeিাম্ব বিবেচনা করিয়া দেখা উচিত । ৫০। মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । প্রয়োজন হইলে যুদ্ধেতে প্রবৃত্তি হয়, ও বিপৎপাত । ছইলে ধৈর্যা ও তিতিক্ষার সঞ্চার হয়। মানসিক বৃত্তি সমুদায়ের পরস্পর শুভাশুভ সম্বন্ধ নুসারে বিবিধপ্রকার সদসৎ কার্য্যের উৎপত্তি হয় । প্রথমতঃ যদি তামাদিগের নিকৃষ্ট 'প্রবৃত্তি সকল বুদ্ধি- বৃত্তি ও ধর্মপ্রবৃত্তি সমুদারের বিৰুদ্ধকারিণী না হইয়া স্ব স্ব: ‘ব্যাপারে প্রবৃত্ত থাকে, তবে তাহা কদাপি অগার কার্য্য বলা যায় । না, এবং তgৎপন্ন মুখও গস্থিত সুখ নছে। ধন উপার্জন করা, পান ভোজন কর, পুত্রোৎপাদন করাএ সমস্ত কাৰ্য্য-প্রৱত্তি স্বভাবতঃ কুপ্রধ্বত্তি নহে । ৰথন তাহার বুদ্ধি ও ধৰ্ম্ম প্রবৃত্তির তাtয়ত্ত ন থাকিয়া তদ্বিকদ্ধ পথে সঞ্চরণ করে, তখনই তাহাদিগকে কুপথগামী বলা যায় । যদি কোন বণিক ক্রেতার নিকট মিথ্যা কহিরা অপনার পণ বস্তুর দোষ গোপন করে, এবং আরোপিত করিয়। তাহার খণ্ডণ ব্যাখ্যা করে, ও অন্যান্য বণিকের , পণ্য দ্রব্যের নিন্দা করে, তবে এ কর্মকে গহিত কৰ্ম্ম বলিতে হয় ; কারণ এস্থলে সে ব্যক্তি ধনলুব্ধ হইয়া বুদ্ধিবৃত্তি ও স্বপ্ন- প্রবৃত্তির শাসন অবহেলন কয়িল। এরূপ ব্যবহা য়ের ফলাফল বিবেচনকরিয়া দেখিলে প্রতীত হর, যদিও আপাততঃ ঐ চুরাশয় বণিকের ইস্ট লাভ হইতে পারে, কিন্তু চরমে তাহার বিস্তর অনিষ্ট ঘটনা হয় ; কারণ সে ব্যক্তি সকলের নিন্দনীয় ও অবিশ্বস্ত হয়, এবং আপনি ধৰ্মোৎ পাদ্য বিশুদ্ধ সুখে ৰঞ্চিত হয়। প্রন্থরূপ, একধৰ্ম্মাসক্ত হইয়। অন্য ধর্মের, অতিক্রম মন্তব্যের মানসিক প্রকৃতি । । ৫১ করাও দোয । রাজাযদি বিচার-স্থলে দয়াসক্ত হইয়া দণ্ডাহু ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন , ও ধনাঢ্য ব্যক্তি অপাত্রে দান করিয়া অলস বা কুকর্ষে উৎসাছ প্রদান করেন, তথৰা তাপরিমিত ব্যয় করিয়া সর্বস্ব নকষ্ট করেন। এব। যদি কেহ সাতিশয় ভক্তিরস পরায়ণ হইয়া ঈশ্বরের শ্ৰবণ মননেই সমস্ত কাল হরণ পূৰ্বক ভর তার কর্তব্য কর্ম সাধনে পরাব্থ থাকেন , তবে তা হাদৈর এ সমস্ত ব্যবহারকে কখ ”ই সুব্যবহার বলা যায় না । এক বৃত্তিকে চরিতার্থ করিতে মিয়া তান্য বৃত্তির বিরু দ্ধাচরণ করা কৰ্ত্তব্য নছে । পরমেশ্বর বখন মাদি গকে অর্জন”গ দিয়াছেন, তখন উপার্জন করা । উচিত, যখন কাম রিপু দিয়ছেন, তখন জীব-প্রবাহ রক্ষা কর। উচিত ; যখন জিজবিব৷ দিয়াছেন, তখন জীবন রক্ষার বহূ করা উচিত ; যখন বুভুক্ষা দিয়াছেন। তখন অন্ন পানদ্বার দেহ রক্ষা করা উচিত, বখন উপ- চিীণ৷ দিয়াছেন, তখন উপকার কর। । উচিত ; যখন । ভক্তি দিয়াছেন. তখন ভক্তি কর! উচিত , কিন্তু এক ত্তির প্ররোজনানুরোধে তান্য বৃত্তির তাতিক্রম কবা কখনই উচিত নছে। অতএব, কৰ্ত্তব্যাকৰ্ত্তব্য জাবধায়ণ। বিবয়ে এই নিয়ম নিরুপিত ছইল, যে, যে কাৰ্য্য কোন বৃত্তির বিৰূদ্ধ নহে, সেই কৰ্ত্তব্য । যে স্থলে কোন কাবোর এক বৃত্তির প্রবৃত্তি থাকে, আর অন্য কোন বৃত্তি তাহার প্রতিকুল হর, সে স্থলে বুদ্ধিবৃত্তি ও ধর্ম প্রবৃত্তির অগামী হইরা কৰ্ম্ম করিবে, কারণ আমাদিগের বুৰি ও ধৰ্ম-প্ৰয়োজক বৃত্তি সমুদারই সর্বপ্রধান। কিন্তু ৫২ মমুষ্যের মানমিক প্রতি । সকলের মন সমান নছে ; কাহারও অধিক বুদ্ধি, কা ছা! রও অল্প বুদ্ধি, কাহারও অধিক দয়াকাহারও অল্প দয়া, কাহারও এ রিপু প্রবল. কাহারও অন্য রিপু, প্রবল, । অতএব, যদি মনোবৃত্তি সমুদায় স্ব ভাবত: তেজ স্বিনী ও পরস্পর সমনীভূত থাকে এবং বিবিধ প্রকার ভোfতক ও মানসিক বিছানুশীলন দ্বারা উত্তমরূপ মা- জি ও হয়, তবে তৎসমত কার্যই সৎকার্য । যে স্থলে আনাদিগোর কি ঈ প্রত্ন ত্তির সহিত কোন ধৰ্ম্মপ্রবৃত্তির বা বুদ্ধিবৃত্তির বিরোধ জযে, সে স্থলে বুদ্ধিবৃত্তি ও ধর্ম প্রবৃত্তির প্রামাণ্য স্বীকার করিয়৷ তদনুবায়ী ব্যবহার করিবে। যিনি এইরূপ অনুষ্ঠান করেন, তিনিই সাধু । আমাদিগের কৰ্ত্তব্যাকৰ্ত্তব্য নিরপণ করিতে হইলে মানসিক বৃত্তি সমুদায়ের গুণাগুণ ও কার্য্যাকাৰ্য্য বিচার। করা আবশ্যক। অগ্রে কামাদি নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি, এবং তৎপয়ে ভস্কি উপকিীর্ঘাদি ধর্মপ্রবৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির বিষয় আলোচনা করা যাইবে। আমদিগের নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি ও ধর্ম প্ররতি এ উভয়ের পরস্পর বিশেষ বিভি ন্নতা এই যে, কেবম আত্মরক্ষ ও পরিবারাদি প্রতি পালনই নিকৃষ্ট প্রবৃত্তির মুখ্য বিষয়, আর পরমারাধ্য পরমেশ্বরের প্রতি ভক্তি অস্কা প্রকাশপূর্বক সধারণের স্থিত চেষ্টা কৰ্ম সমুদায় ধর্ম প্রবৃত্তির প্রয়োজম । তদি । শেষ পশ্চাৎ প্রদর্শিত হইবে। জগদীশ্বর অনাদিগকে নানা বিষয়ের ভার দিয়াছেন, ও নানা প্রকার মুখ ভোগের অধিকারী করিয়াছেন, এবং তদুপযোগী পৃথক পৃথক মানসিক বৃত্তি প্রদান করিয়া অভ্যর্ঘ্য মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি। ৫৩ অনির্বচনীয় কৌশল প্রকাশ করিয়াছেন। ক্রমে ক্রমে তাহার বিবরণ করিরা র্তাহার অপার মহিমা কীৰ্ত্তন করিতেছি। জিজীৱিষা ও বুভুক্ষ! —-পরমেশ্বর আমাদিগকে স্ব স্ব জীবন রক্ষার্থে যত্নশীল । করিবার নিমিত্ত জিজীবিষা দিয়াছেন, এবং জীবন রক্ষণার্থে অন্ন গ্রহণ করা। আবশ্যক, এ প্রযুক্ত বুভুক্ষার সৃষ্টি করিয়াছেন । আমাদিগের এই উভয় বৃত্তিই অ্যাত্ম-সম্বন্ধীয় । কাম, অপত্যস্নেহ ও আসঙ্গলিষ্মা এ তিনও আত্ম বি বয়ক। পরমেশ্বর জীব-প্রবাহ রক্ষার্থে স্ত্রী পুরুষ দ্বিপ্রকার জাতি সৃষ্টি করিয়া তড়পযোগী কাম রিপু সৃ জন করিয়াছেনপুত্ৰ দিয়া তদ্রুপযোগী অপত্যস্নেই দিয়াছেন, এবং মিত্রমণ্ডলীর মিত্রতা সম্পাদনাৰ্থে অসঙ্গলিসা প্রদান করিয়াছেন। কামের বিষয় স্ত্রী বা স্বামী, মেহের বিষয় সন্তান, ও অসঙ্গলি ঠাৱ বিষয় মিত্র । এই সমস্ত বিবয় প্রাপ্ত হইলেই তাহারা চরিতার্থ হয়, কিন্তু ঐ স্ত্রী ব! স্বামিপ্রভৃতির শুভ কামনা করা কামাদির ধৰ্ম্ম নহে। যে ব্যাক্তি কেবল । কাম রিপুর বশীভূত হইয়া স্ত্রী বা স্বামীর প্রতি অনু রাগ প্রকাশ করে, সে ব্যক্তি নিতান্ত ইন্দ্রিয়পরায়ণ ও অনুরাগ গশূন্য, প্রীতি-ভাজমের স্থিতানুষ্ঠানের বিষয়ে তাহার কখনই যত্ন হয় না। কিন্তু যে প্রেমানুরাগী ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তি, উপচিকীৰ্বা, ন্যায়পরতা ইত্যাদি প্রধান স্বস্তি সমুদায়ের বশবর্তী হইয়া চলে, সে ব্যক্তি । নিঃস্বার্থ হইয়া আপন প্ৰেমাস্পদের মঙ্গল চেক করে, ৫৪ । মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । এবং তৎফল স্বরূপ অপূর্ব মুধ সম্ভোগ করে। যদি দেশ বিশেষের কোন ইন্দ্রিয়সুখাসক ব্যক্তি কোন অধৰ্ম্মশীলা পূর্ণযৌবনা রমণীর অসামান্য রূপ লাবণ্য : সনদর্শনে বিমোহিত হুইয়া তাহার পাণিগ্রহণ করে, তবে উত্তরকালে সে ব্যক্তিকে অবশুই অনুতাপে তাপিত হইতে হয়। কারণ, যদিও তাহার রূপ লাবণ্য মনোহর বটে, কিন্তু জুশ্চরিত্রা স্ত্রীর পাণিগ্রহণ করা আমাদিগের বুদ্ধিবৃত্তি ও স্বপ্নপ্রবৃত্তির অনুমত নহে । অপত্যমেই বশ ড সস্তানে অনুরাগ জন্মে, কিন্তু সন্তানের শুভানুধ্যায়ী হওয়া অপতামেহের কার্ল মছে, সে কেবল উপচিকীৰ্যারই কর্তব্য। পিতা মাতার স্নেহ যদি বুদ্ধিবৃত্তি ও উপচিকীৰ্যার আয়ত্ত ন থাকে, তবে ভূরি ভূরি স্থলে প্তাহার আপনারাই স্বীয় সন্তানের জনিক উৎপাদন করিয়। ধানে । কত শত বালকের পিতা মাতা সাতিশয় পুত্রানুরাগ বশতঃ বিgাভ্যাস শ্রম সাধ্য বলিয়া আপন পুত্রকে ভাহা হইতে পরাভূখ রাখেন । অনেকে পুন্দ্রকে পাপাসক্ত দেখিয়াও তাহর কুপ্রবৃত্তি নিবারণ করেন না, ও পুত্রের মস্থিত বিচ্ছেদ হওয়া দুঃসহ যাতনার বিষয় ডাবিয় তা ছাকে সঁকি বহি ভূত করিতে চাচ্ছেন না, এবং অত্যাবশ্যক কাৰ্য্যেও দূরদেশে গমন অনু মতি প্রদান করেন না। প্রগাঢ় অপতjমেই তাই- দিগের অস্তকরণ আচ্ছন্ন করিয়া রাধে। এইরূপ জাসগলিজা গুগন্নার মিত্র লাভের ইচ্ছা হয়। কিন্তু মিত্রের ই চিন্তা করা অসঙ্গলিসার কার্য্য নহে। = মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । । ৫৫ যে ব্যক্তির আসঙ্গলিধা ও উপচিকীর্ষ উভয় বৃতি উত্তম অাছে, সেই ব্যক্তিই মিত্রের শুভাকাঙক্ষী হইয়। মিত্রের দুঃখে দুঃখী ও মিত্রের মুখে সুখী হয়, নতুব। কেবল আসঙ্গলিসা মাত্ৰ থাকিলে যেমন এক মেষ অন্য মেষের সংসর্গে থাকিতে ভাল বাসে, সেইরূপ এক মনুষ্য অষ্ট মনুষ্যের সংসৰ্গ করিতে পারিলেই চরিতার্থ হয়। যদি দুই ধনাঢ্য মিত্রের আসঞ্জ- লিপসাআম্মাদর এবং লোকানুরাগপ্রিরতা এ তিন বৃ;ি প্রবল থাকে ; আর তাদৃশ উপচিকীৰ্যা ও হ্যায় পরতা না থাকে, তবে যাবৎ তাহাদিগের উভয়ের অব স্থার ফ্ৰা নাধিক্য না হয়, তাবৎ iাহাদিগের । মিত্ৰত৷ থাকিতে পারে, কারণ ধনাঢ্য ও সম্রাপ্ত ব্যক্তির সহিত সো হাদ্দ থাকাতে উভয়েরই আত্মাভিমান বৃক্ষ ।। পায়, ও লোকানুরাগপ্রিয়তা বৃত্তিও চরিতার্থ হয় । কিন্তু তন্মধ্যে যদি এক জন দৈবাৎ সম্রমুদ্রত ও দারি সুদশা প্রাপ্ত হন, তবে ওঁাহার সহিত মিত্ৰতা রাখিনে মানহানি হইবে এবং হীনের । সহিত মিত্ৰতা রাখিলে লোকে ছীন ৰোধ করিবে, এই বিবেচনায় অপর ব্যক্তির আত্নাদর ও লোকানুরাগপ্রিয়তা বৃত্তি চরিতার্থ | হয় না । সুতরাং এমত স্থলে অবিলম্বেই মুছদ্ভেদ হইয়া উঠেএবং ঐ ধনাঢ্য ব্যক্তি আপনার পূর্ব মিত্র পরিত্যাগ পুরঃসর অপর কোন আত্মসদৃশ ব্যক্তিকে মিত্ররাপে বরণ করিতে প্রবৃত্ত হন। সংসারে সর্বদাই এ প্রকার ঘটনা ঘটিয়া থাকে, এই নিমিত সব দেশে এই প্রাচীন নীতি প্রচলিত অাছে, যে বিপংকালেই ৫৬ ষ্যের মানসিক প্রকৃতি। সুহৃদ্ভেদ হয় । যেমন বসন্ত কালের নব-পল্লব-শোভিত। কুসুমিত তৰুশাখ সকল গ্রীষ্ম ঋতুর প্রবল বায়ু বেগে । ছিন্ন হয়, সেই রূপ সৌভাগ্য কালের মিত্ৰতা দুর্ভাগ্য কালে লয় প্রাপ্ত হয় । । বস্তুতঃএরূপ মিত্রতার মুলেই দোষ থাকে, কারণ, স্বার্থপরতাই যে মিত্রতার মূলী ভূতস্বার্থস্থানি হইলেই স্বভাবতঃ তাহার ভেদ হইবে, ইহাতে। আলুর্থ কি ; যদি আসদলিপারপ বীজ, ধৰ্ম্মরূপ বারিসেচনদ্বারা অকুরিত হইয়া মিত্ৰতারূপ মনোহর তৰু উৎপাদন করে, তবেই তাহা সুখ স্বরূপ কুসুমসৌরভে পরিপূর্ণ হুইয়া চতুর্দিক আমোদিত করিতে থাকে। এইরূপ মিত্রতাই যথার্থ মিত্রতা । প্রতিবিধিৎসা ও জিঘাংসা ।–-সংসারে বিস্তর। আপদ বিপদ আছে ও সকল বিষয়েরই নানা প্রকার প্রতিবন্ধক ঘটিয়া থাকে, তন্নিবারণার্থ পরমেশ্বর অমাদিগকে প্রতিবিধিৎসা অর্থাৎ প্রতিবিধানের ইচ্ছা প্রদান করিয়াছেন। আতচারী নিবারণে অপরাধূপ । হওয়া, বিপত্নদ্ধারার্থে অপ্রতিহত চিত্তে যত্ন করা এবং আর আর অভীষ্ট সাধনের প্রতিবন্ধক মোচনার্থে সাহস ও উৎসাহ প্রকাশ করা এ সমুদায়ই প্রতিবিধি সার কার্য । আমাদিগের এরূপ কোন মনোবৃত্তি না ধাকিলে এ দুঃখময় সংসারে বাস করা অসাধ্য হইত। জিঘাংসা বৃত্তি এ পৃথিবীতে নিতান্ত আবশ্যক। জিঘাংসাতেই ক্রোধের উদ্রেক হয়, এবং ক্ৰোধদ্বার পশুর আক্রমণ ও মনুষ্যের অত্যাচার নিবারিত হয় । অতএব, যে পৃথিবীতে ছুঃখ ও বিপদ আছে, যে পৃদ্ধি মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি। ৫৭ বীতে লোকে পরানিস্ট চেষ্টা করে, যে পৃথিবীতে এক জীবের অহারার্থে অনা জীবের প্রণ লক্ট হয়, ও যে পৃথিবীর বহুতর শোভা ও সুখ কেবল জন্ম মৃতুর উপর নির্ভর করে : জিঘাংসা ও প্রতিবিধিংসা এ জুই মনোবৃত্তি সে পৃথিবীর সম্যক উপযুক্ত। যদিও পরের দুঃখ মোচন ও বিপদ উদ্ধারার্থে এই উভয় বৃত্তিকে নিয়োজন করা যাইতে পারে, কিন্তু পরের হিত ভিলাষ করা তাহাদের কার্য্য নহে ; সে কেবল উপচিকীষয়ই কাৰ্য্য। নির্মিস। ।-আমাদিগের দেহ রক্ষণ ও লোকযত্র । নিৰ্বাহার্থে গৃহ, বস্ত্র, অস্ত্রাদি বিবিধ দ্রব্যের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সংসারে ইহার কিছুই তা যত্ব:সস্তৃত রক্ষ গিরি-গুহা বা এ-লোমের যায়। তারপন হইতে উৎপন্ন হয় না। অতএব বাহাতে ঐ সকল সামগ্ৰী প্রস্তুত হইতে পাবে, জগদীশ্বর তদপযুক্ত অশেষ । প্র কর বস্তু সৃজন করির সঞ্চত্র বিস্তার করিয়া রাখি য়াছেন, এবং তদ্বিষয়ে তামাদিগকে প্রবৃত্ত করিবার নিমিত্ত নিৰ্ম্মিৎসা অর্থাৎ নির্মাণের ইচ্ছা প্রদান করি। য়াছেন । যধন বাতিরে মৃৎ প্রস্তৱাদি অসংখ্য দ্রব্য চতুর্দিকে বিস্তৃত রহিয়াছে, এবং অন্ত:করণে । ও বুদ্ধি আচে, তখন মনোহর অট্টালিকা, মহো জয়স্তম্ভ, এবং সুকৌশল-সম্পন্ন প্রবল বেগবাণ বাস্পীয়। পোত কেন না প্রস্তুত হইবে ? এস্থলে বা বস্তুর সহিত মমের কি আশ্চৰ্য্য সম্বন্ধ প্রতীত হইতেছে। জুগে!fপথ। ।- মন্তঃকরণে মুহমূহঃ কত কত ভাবের ৫৮ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । উদয় হইতেছে, ও মনে মনে কত শত বিষয়ের মন্ত্রণা করিতে হইতেছে, তাহা বচনাতীত । তাহ কাৰ্য্য , কালেই প্রকাশ করা উচিত, নতুবা তা সময়ে ব্যক্ত করিলে আপনার ও পরের কার্য্য হানি ও অনিষ্ট ঘটনার সম্ভাবনা । অতএব, জগদীশ্বর অামাদিগকে জুগোপিষবৃত্তি অর্থাৎ গোপন করিবার ইচ্ছ! প্রদান করিয়াছেন। ৰিবৎস। ।-“পুনঃ পুনঃ বাস পরিবর্তন করিলে গাছ স্থা কর্মের সুরীতি, রাজশাসনের সুশৃঙলা, আচার ব্যব মারের সুমিয়ম, বিদ্যা বৃদ্ধি ও সভ্যতার উন্নতি এ সমু দায়ের কিছুই হয় না। অতএব, পরমেশ্বর সামা- দিগকে বিবৎসা বৃতি তার্থাৎ এক স্থানে স্থিতি করিবার ইচ্ছ। প্রদান করিয়াছেন। জন্ম ভূমি যে পরম রুলগীর । বোধ হয়, তা যার কারণ এই । এই সমুদায় স্ব ক্ষম। বৃত্তিতেও পরম কাৰুণিক পরমেশ্বরের পরমাশ্চৰ্য্য কৌশল প্রকাশ পাইতেছে। আত্মাদর । -পয়মেশ্বর অামাদিগকে স্বকীয় জীবন রক্ষায় যত্নবান করিবার মিমিত্ত ঘেরূপ জিজীবিবা। বৃত্তি প্রদান করিয়াছেন, সেইরূপ অমাদিগের আয়ু । বিষয়ে যত্ন, আগ্রগোরব বোধ, ও স্বাধীনতার অনুরাগ ইত্যাদি নাম বিষয় সম্পাদনাৰ্থে । আত্মাদর নামক বৃত্তি সৃষ্টি করি য়াছেন। নিৰ্ম্মিৎসাজুথোপিবাবিবৎসা ও আত্ম:দর এ চারি বৃত্তি যে পরের হিত চোয় চেষ্টিত নছে, তাহা স্পষ্টই বোধ হইতেছে। অর্মমর্শ ।-এই কৃতি ধাকাতে ধনাধিকারে মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি। ৫৯ অভিলাষ, সঞ্চয়ে সুখ বোধ, ‘ও সঞ্চিত বিষয় ক্ষয়ে হুঃখোৎপত্তি হয় । জগদীশ্বর সংসারে বিবিধ প্রকার । ভোজ্য ভোগ্য সামগ্ৰী সর্বত্র বিস্তার করিয়া রাখিয়া ছেন, এবং আমাদিগকে তৎ সমুদায় সংগ্রহ করণে। । প্রবৃত্ত করিবার নিমিত্ত এই প্রবৃত্তি প্রদান করিরা ছেন । আমাদিগের অন্যান্য প্রধ্বত্তির. ম্যায় অৰ্জনস্ হাও বহুপকারিণী ; উপার্লনশীল না হইলে দামশীল ও হওয়৷ যায় না। কিন্তু স্বতঃ পরোপকার কর এ এর ত্তির ধৰ্ম্ম নহে। . বে সকল বাণিজ্য-ব্যবমারী লোক উপাজ: বাসন। পরবশ হইয়া পরস্পর প্রণয় প্রদর্শন ¥ করে, তাহাদের একের কুটিল ব্যবহারে অন্যের উপা জুনের ব্যাক্তি ক্ৰম ঘটিলেই তৎ ক্ষ৭:ৎ বিচ্ছেদের সঞ্চার হয় এবং প্রণরামৃত-সঞ্চারের পরিবর্তে অবিলম্বে শাত্র বানল প্ৰজ্বলি ত হই উঠে । তাহাদিগের মিত্ৰতা ম।লা অৰ্জনগৃস্থারূপ সূত্রদ্বরা গ্রথিত থাকে, যখন । সেই জুত্ৰ-চ্ছেদ হয়, তখন আর কি প্রকারে তাস্থা দিগের সেছিাৰ্ধরক্ষ। পাইতে পারে। তাগর অর্থ- লিঙ্গ, হইয়া মিত্ৰতা করে, সুতরাং তাহার অন্যথা হলেই প্রণয় ভঙ্গ হয় । সংসারে এপ্রকার ঘটন। অহরহ ঘাটতেছে। তাহারা যদি পক্ষপাত পরিত্যাগ পূরঃসর আপনাদিগের মনোগত ভাব অালোচনা। করিরা দেখে, .তবে ইহা অবশ্য জানিতে পারে, যে ধনাকাউকাই তাহাদিগের মিলন হইবার মূলীভূত কারণ, সুতরাং সে আকাঙক্ষণ পূণ হইবার প্রতিবন্ধকতা মাটিলে যে, বিচ্ছেন হয়, ইহ কোন রূপেই. অসঙ্গত ৬ ? মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । নছে। যাহার। । কেবল নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি চরিতার্থ করিয়া সুধ লাভের বাসন করেতহাদিগের ধর্ম-বৃক্ষে এই প্রকার ফল সর্বদাই ফলে । লোকানুরাগপ্রিয়ত৷ –আমাদিগের লোকানুরাগ প্রিয়ত। অর্থাৎ লোকের নিকট অনুরাগ প্রাপ্তির অভি- লাষ জ!ছে, এবং লোকেও প্রশংসাদ্বারা সে অভিলাৰ পূর্ণ করে। জগদীশ্বর । আমাদের অন্তঃকরণের সহিত । লোকের এই শুভকর সম্বন্ধ নিরূপিত করিয়া আমাদি- গের যশস্কর কাৰ্য্যে উৎসাহৱদ্ধির সুন্দর উপায় করিয়া দিয়াছেন। এই যশোবাসনাবশে ভূপতিগণ যত্বপূৰ্ব্বক প্রজা-পাদন করেন, একতারা কত কত স্যুপদেশ জনক পরম হিতকর গ্রন্থ রচনা করেন, ও অন্যান্য কত ব্যক্তি অশেষ ক্লেশ স্বীকার করিয়াও লোকের কল্যাণকর কাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হয়। যদিও যশ স্কর কার্য্য দ্বারা দোকের ২ঙ্গলোন্নতি হওয়া সম্যক সস্তাবিত বটে, কিন্তু মঙ্গল কামন। করা এ বক্তর কার্য্য নছে । লোকের নিকট মুথ্যাতি ও সমাদর লাভই এ কৃত্তির এক মাত্র। বিষয়। যখন আমরা যশোভিলাষ-পরবশ হইয়া। কাহারও হিতানুষ্ঠানে অনুরাগী হই, তখন লোকের নিকট সুখ্যাতি-বাদ এবণপূর্বক আত্মসত্তোব লাভই । আমাদিগের মনোগত । থাকে। বরঞ্চ যদি কাহারও হিত করিড়ে গেলে তাহার অনুরাগ জ্বাস হইবার সম্ভাবনা থাকে, তবে যশোলোভী ব্যক্তি তাছাহইতে বিরত হন । যদি স্বামাদিগের । কোন শাস্ত্রীয় ব্যক্তি কোন পুষ্য বৰ্ম্ম করে, তবে তাহার দোষ সপ্রমাণ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি।। ৬১ করিয়া তাহার ডুপ্রবৃত্তি দমনের চেষ্টা পাওয়া উচিত । কিন্তু যদি অমাদিগের লোকানুরাগপ্রিয়তা অত্যন্ত বলবতী হয়, এবং উপচিকীৰ্যাদি ধর্ম প্রবৃত্তি তাহার নিকট পরাভূত থাকে, তবে, কি জানি সে রক্তি । আমাদিগের প্রতি ৰুষ্ট হইয়া ক্রোধ প্রকাশ করে এই আশঙ্কায় আমরা তাহার দোষ পরিহার বিষয়ে চে । পাই না, বরং তাহার সম্ভোবার্থে গুক দোষকে । লঘু করিয়া বৰ্ণনা করি। ঘশোলোভীর কাব্য যে সাত্বিক নহে ইহা প্রসিদ্ধই আছে। তিনি যদি কোন পুণ্যজনক কনুষ্ঠান করেন, আর লোকে জানিতে পারে, কেবল যশোলোভে সেই কৰ্ম্ম করিতেছেন, তাহ৷ হইলে তাহার। ওঁাহার প্রতিষ্ঠা করে না। তাহার । । কছে, অমুক সাত্ত্বিকভাবে এ কৰ্ম্ম করে নাই, এবং তনু তাছার সম্যক ফলভোগও হুইবে ন৷ । পরম কাকণিক পরমেশ্বরের কি অনির্বচনীর মহিমা! মনুষ্য খ্যাতি-লাভৱপ স্বার্থ সাধনে তৎপর হইয়া কাৰ্য্য করে। অথচ তদ্দারা পৃথিবীর অশেষ উপকার হয়। এগত পরম-সুন্দর কৌশল অার কাহাকর্তৃক উদ্ভাবিত হইতে পারে। । সাবধানত । -আমাদিগের সাবধানতা বৃত্তি এই রোগশোকজু:খমরী পৃথিবীর সম্যক উপযুক্ত। মানব- দেহ অগ্নিতে দগ্ধ হইতে পারে, জলে মগ্ন হইতে পারে, প্রহারে ভষ্ম হইতে পারে, অত্যন্ত হিম ও প্রচও রোদ্ৰে ৰুগ্ন হইতে পারে, ইত্যাদি বিবিধ প্রকাশ ৱৈ আহত ও নষ্ট হইতে পারে ; অ5এব জগদীশ্বর ৬২ মনুষ্যের মানসিক প্রঐতি । আমাদিগকে সাবধানতা গুণ প্রদান করিয়াছেন, এবং ভদ্বারা ঊাহার এই উপদেশ দেওয়া হইয়াছে, যে সদা সাবধান থাক। এই বৃত্তি থাকাতে আমরা ভাবী বিপৎ, পাত, নিব'রণ করিতে যত্নবান্ হই, এবং তৎসাধ নর্থ অ্যানা অনেক বৃত্তিকে নিয়োজন করি। যে ব্যক্তির সম্যক সাবধানতা না থাকে, তাহার পদে পদে ভ্রম ও পুনঃ পুনঃ বিপদ ঘটনা হয় । সাবধ নতা মনুষ্যের স্বাভাবিক গুণ ; সুতরাং আদিম মনুষ্য দিগেরও এ গুণ ছিল, তাহার সংশয় নাই । অতএব এক্ষণকার ন্যয় তৎ কালের লোকেরও নানাপ্রকার বিপদ ঘটনার সম্ভাবনা ছিল ; নতুবা তাহাদের সাব- ধানতা গুণ থাকিবার নিতান্ত বৈয়খ্য হয়, এবং মান সিক প্রকৃতি ও বাহ্য বস্তুর পরস্পর উপযোগিতাও থাকে ন । । অতএব, বসুমতী এক্ষণকার ন্যায় তখনও দুঃখশালিনী ছিলেন। সর্বজাতীয় লোকেরকহিয়া । থাকেন, আদৌ ভূমণ্ডল নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ-ধাম ছিল, পৃথিবীতে দুঃখের লেশও ছিল না, এবং তখন রোগ, শোক, জরা, মৃত্যুর সঞ্চারও হয় নাই। এ সকল ভাব । মনে করিলে পরম সুখোদয় হয় বটে, কিন্তু বিচারে তাহ রক্ষা পায় না । যখন জিঘাংসা, প্রতিবিধিৎসা, সাবধানত। এ সমুদায় মনুষ্যের স্বাভাবিক বৃত্তি, তার্থাৎ জাহ-কালীন মনুষ্যদিগেরও যখন এ সমস্ত গুণ ছিল। তখন ইহ৷ অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে, যে তৎকা লেও পশ্বাদি হনন ও আততায়ী নিবারণ করিবার এবং বিপৎপাত ভয়ে সাবধান হইবার প্রয়োজন মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি। ৬৩ = ছিল। সাবধানতা বৃত্তিও যে মন্তব্যের আত্মসম্বন্ধিনী, তাহা স্পষ্টই প্রতীয়মান হইতেছে। মানব জাতির যে সমস্ত নিকট প্রবৃত্তি অাছে, তা- হার অধিকাংশের বিবরণ কর। গেল । যাবৎ । এই সমুদার বৃত্তি ধৰ্মপ্রশ্নতির আরও না হয়, তাবৎ আত্ম রক্ষা ও আা আসন্তে বই মন্তব্যের সমুদায় কার্যের প্রয়োজন বনিীয়। বোধ থাকে। আমরা এই সমস্ত বৃত্তিদ্বারা আঙুরক্ষন ও অত্হিত সাধন করিব, জগ দীশ্বর এই অভিপ্রারে ইহাদের সৃষ্টি করিয়াছেন। ইহারা প্রত্যেকে যদি অন্য অষ্য বৃত্তির বিৰূদ্ধকারী না হইয়। স্ব স্ব ব্যাপারে নিযুক্ত থাকে, তবে তদ্বারা অমঙ্গল ঘটনা ন হইরা পরম মঙ্গল স্বরূপের মঙ্গল- ভিপ্রায়ই নিদ্ধ হয় । কিন্তু যদি ইহার কোন বৃত্তি । বুদ্ধিরতি ও ধর্মপ্রবৃত্তি সমুদায়কে পরাভব করিয়৷ । স্বপ্রধান হইয়া উঠে, এবং আমাদিগের তাবৎ কর্মের প্রবর্তক স্বরূপ হয়, তবে তদ্দারা বিস্তর অনিষ্ট ঘটি বার সন্তাবনা । এদেশীয় লোকের চরিত্র বিবেচন। করিয়া দেখিলে এবিষয়ের ভুরি ভূরি উদাহরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। লোকঘ:ত্রা । নির্বাদ্ধার্থ অর্থ উপার্জন করা আবশ্যক, এ প্রযুক্ত পরমেশ্বর আমাদিগকে উপা জনের প্রবৃত্তি প্রদান করিয়াছেন ; কিন্তু লোকে বুদ্ধির মন্ত্রণা ও ধর্মের শাসন পরিত্যাগ পুরঃসর ধনলুব্ধ। হইয়া অর্থাপহরণ ও উৎকোচ গ্রহণে অনুরক্ত হয়। পরমেশ্বর জীব-প্রবাহ রক্ষার্থে কাম রিপুর সৃজন করি আছেন; লোকে প্লাহার এই তাৎপৰ্য্য অবহেলন ৬৪ মনুণোর মানসিক প্রকৃতি । পূৰ্ব্বক তদ্বিষয়ে যথেষ্টাচারী হইয়। পাপ-পক্ষে মগ্ন হয় । আমাদিগের তা আমবাদ। বোধ, তা ।ত্ন বিষয়ের যত্ন ও স্বাধীনতাতে অনুরাগ সঞ্চার ইত্যাদি বিষয় সাধনাৰ্থ । পরমেশ্বর তামাদিগকে তা আদর প্রদান করিয়াছেন ; এক্ষণকার বিদ্যাভিমানী যুবকসম্প্রদায় এই প্রবৃত্তি- কে বুদ্ধি ও ধর্মের তারত্ত না করিয়াবিস্তামকে গর্বিত হইয়। প্রাচীন লোকদিগকে অনাদর ও অবজ্ঞা । করিয়া থাকেন । শরীর পোবণর্থে ভোজন-শক্তি ও পান-শক্তি প্রদান করিয়াছেন ; অনেকে অপরিমিত । ভোজন ও কেহ কেহ নদিয় পান দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নিয়ম ল জস ; ভগ্ন-কায়, নিবীৰ্য্যও হত-জ্ঞান হয় এবং পাপাসক্ত হইয়৷ নানাবিধ ড্র সহ। য ন্ত্রণা ভোগ করে, ও অকাল-বাৰ্ধক্য প্রাপ্ত হুইয়া । কাল-গ্রাসে পতিত হয়। অতএব, আপন প্রকৃতি ও বাহা বস্তুর সহিত তাহার সম্বন্ধ নিরূপণ করিয়া অর্থাৎ পরমেশ্বরের নিয়ম সমুদায় অবগত হইয়৷ তদনু বারী । ব্যবহার না করিলে কখনই সুখ-লাভ হইবার সম্ভাবনা নই। এক্ষণে আমাদের উৎকৃষ্ট বৃত্তি সমুদয়ের বিবরণ করা যাইতেছে । উপচিকীৰ্য । ।-অমাদিগের যেমন উপচিকীৰ্যা । । অর্থাৎ জীবের উপকার করিবার বাসনা অাছে, সেই রূপ উপকারের সমূহ প্রাত্ৰও সস্থানে প্রাপ্ত হওয়া। যায়। এই পরম পবিত্র প্রবৃত্তি কোন তাংশে স্বার্থ প্রত্নত না হইয়া কেবল পরের শতামূধ্যানেই বঙ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৬৫ থাকে। অন্যকে সুখ বিতরণ করা, তাপিত হৃদয়ে । কৰুণামৃত বর্ষণ করা, ও সুখাদ্ৰচিত্তেরও আনন্দ-প্রবাহ প্রবল করা, এই প্রবৃত্তির কার্য্য। এই মনোবৃত্তি । বাহার শুভ সাধনাৰ্থ সঞ্চরণ করে, তাহার মুখারবিন্দ যংপরিমাণে প্রফ টত হয়, স্থিতৈষী ব্যক্তির অন্তঃ করণও তত প্রফুল্ল হইতে থাকে । জনসমাজে সুখ বিস্তার করিতে পারিলেই ওঁাহার পরম আক্কাদ । হয় এবং তং কাৰ্য্য সম্পাদনাৰ্থে র্দাহার পদদ্বয় দ্রুত গমন করে। ; ও হস্তদ্বয় সতত প্রসারিত থাকে। প্তাহার নিরাল গ্য চিও পরের হিতচিন্তাতেই সুৰী থাকে এবং প্লাহার রসনা পরেয় মঙ্গল কীৰ্ত্তনেই । পরম পরিতোব প্রাপ্ত হয়। তার যখন ৬াহার কোন কুশলাভিপ্রায় সম্পন্ন হয়, প্লাহার তৎকালের তাবস্থর কথা কি কহিব । । তিনি সে সময়ে সুখার্ণবে মগ্ন হন। যিনি আমাদের এমত । উৎ কু স্বভাব করিয়াছেন, যে, পরের মঙ্গল করিতে গেলে তাহার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার মঙ্গল হইতে । থাকে, প্তাহার অপার মহিলা ও অনির্বচনীয় মঙ্গল স্বরূপ আলোচনা করিলে অন্তঃকরণ প্রেক্ষামৃতরসে। একবারে অস্ত্র ইইয়া যায় । । ভক্তি।—পরমেশ্বর অনেকনেক গুৰু লোক ও অন্যান্য মহৎ মহৎ ব্যক্তির সহিত অপমাদিগের গুৰু তর সম্বন্ধ নিরপিত করিয়া দিয়াছেন, এবং প্লাহ দিগের সহিত আমাদিগের তমুচিত ব্যবহার সম্পাদ নার্থে আমাদিগকে ভক্তিরূপ পরম পবিত্র প্রৱতি ২৬ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । প্রদান করিয়াছেন। ‘মহৎ ও উত্তম গুণ মনে হুই লেই ভক্তির উদয় হয় । যাহাকে কখনও দেখি নাই, র্যাহার কথা কখন শুনি নাই, যিনি সহস্র সহস্র বৎ সর পূর্বে মানব-লীলা সম্বরণ করিয়াছেন, ঔহারও অসাধারণ ক্ষমতা ও অতি প্রশংসনীয় গুণ শ্ৰবণ করিলে অনিবার্য্য ভক্তিরস প্রকটিত হইতে থাকে । ভক্তি প্রভাবে বোধ হয়, যেন ওঁাহার পরমারাধ্য মূর্তি । সমক্ষে বিদ্যমান দেখিতেছি। কিন্তু পরমেশ্বর পরা য়ণ ভক্তিমান্ ব্যক্তির প্রতীতি করেন, পরমেশ্বর যেমন ভক্তির বিষয়, এমন আর দ্বিতীয় নাই । যিনি এই প্রত্যক্ষ পরিদৃশ্যমান জগতের সৃজনকওঁ, এই অপরিসীম বিশ্ব-কার্যো দ্বাহার অচিন্ত) জ্ঞান, মহীয়সী। শক্তি ও পরম কল্যাণকর অভিপ্রায় দেদীপ্যমান রহি য়াছে, সংসারের প্রত্যেক নিয়ম পর্যালোচনায় ঘাঁহার অপরিবর্তনীয় শুভকর কৌশল সম্যক প্রতীত হইতেছে, iাহার ্যায় প্রেমের আম্পদ ও ভক্তির ভাজন আর কে হইতে পারে ? ভক্তিমান ব্যক্তি সর্ব স্থানে ও সর্বকালে ওঁাহার অপার মহিমার নিদর্শন সমূহ প্রত্যক্ষ করিয়া প্রীতিরসে অভিষিক্ত হন। ঘন বিজন কানন বা তৰুশূন্য মৰুদেশ, গভীর। সিন্ধু-গর্ভ বা জনাকীর্ণ রাজধানী, প্রখর-রশ্বি-প্রদীপ্ত মধ্যাহ্ন সময় বা ঘোর দ্বিপ্রহরা তামসী বিস্তাবরী সুশীতল সমীরৰছ প্ৰডাত সময় বা বিহঙ্গকোলাহল কলিত জাতির সায়ংকাল, এবং মূললিত উকণ। যৌৱন বা পরিপক প্রবীণকাল, সৰ্বছানে সর্বকাকে। মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৬৭ ও সর্বাবস্থায় পরা পর পরমেশ্বরের অপার মহিমার অশেষ নিদশন দৰ্শন করিয়! ওঁাহার চিত্ত ভক্তিভাবে দ্রবীভূত হইয়া যায় ! আশা ।-আশারুক্তি কেবল ভবিষ্যৎ স্থান্বেষণে । সতত তৎপর। যে পৃথিবীতে কাল বিলম্বে মনোরথ পূর্ণ হয়. যে পৃথিবীতে উপাৰ্জন করিয়া উদরান্ন আহ রণ করিতে হয়, যে পৃথিবীতে ভবিধ্যৎ সুখ-লাভের প্রতীক্ষায় বর্তমান ডঃখানুভবের হ্রাস করিতে হয়, এই আশ"বৃত্তি সে পৃথিবীর সম্যক উপযুক্ত। যখন হৃদয়াকাশ, বিষয় বিপত্তিরূপ মেঘদ্বারা ঘোরতর আচ্ছন্ন স্বর, তখন কেবল প্রবল -বায়ু প্রবাহিত 'হ ইয়। তাহাকে পরিত্নত করিতে থাকে। । যখন অশার সহিত কোন নিক্লষ্ট প্রবৃত্তির সংবোগ হয়, তখন অন্তঃকরণ স্বার্থ-পরায়ণ হইয়া তাত্ম-সুখ সাধনেই ব্যগ্র থাকে। আর যখন কোন ধৰ্ম্ম প্রবৃত্তির সহযোগ হয়। তখনই ইচ্ছা হয়, বিশ্ব সংসার আনন্দে পরিপূর্ণ স্থউক। ইহলোকে পরমেশ্বর প্রতিষ্ঠিত অপরিবর্তনীয় অখণ্ড নীয় নিয়মানুসারে কার্য্য করিলে অবশ্যই ইষ্টলাভ হয় এইরূপ বিশ্বাস রাখিয়। আশাবৃত্তি চালিত ও চরি তার্থ করা কর্তব্য। কিন্তু কেবল ইহকাল ও ভূম ওল মাত্র আশার বিষর মছে। জিজীবিষ। বৃত্তির মহিত তাহার সংযোগ হইলে শত বৰ আয়ুর্ভোগ করিয়াও তৃপ্তি হয় না। তখন এই শত বৎসরকে অতি অল্প কাদ বোধ হয়, এবং এ জীবন অতি অকিঞ্চিৎ কর অান হয়। তখন মনে হয়, অনন্ত কালই শু৮ । মমুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । আমার পরমায়ু, এবং অখিল সংসারই আমার নিত্য স্বাম। জামি এই জঘ্য দেহ-পঙর হইতে উডডীর মান হইব, লোক লোকান্তর গমন করিব, সৰ্ব্বত্ৰ বিচরণ করিব, জান-তৃষ্ণ। শান্তি করিবএবং পূর্ণকাম হইয়া অপৰ্য্যাপ্ত সুখ সম্ভোগ করিব। । যদি কোন ভয়ঙ্কর। কাল উপস্থিত হইরা ভূমণ্ডল বিনাশ পার, চন্দ্ৰ সূৰ্য্য একবারে অস্তস্থিত হর, এবং ঐ সকল প্রকাও প্রকাও এহ নক্ষত্র স্ব স্ব স্থাম হইতে চুত হইয়া দিঘিদিক ঘূর্ণায়মান হইয়া ভগ্ন ও চর্ণ হয়,“এই জাজ্বল্যমান জগৎ যদি অসৎ হইয়া যায়, তথাপি আমি বর্তমান । থাকিব। আশা ঋত্তি মৰ্ত্ত্য লোকের বিষয়োপভোগে পরিতৃপ্ত না হইয়া অলৌকিক সুখাশরে এইরূপ সঞ্চরণ করিতে থাকে । তাহাকে সম্পূর্ণ চরিতার্থ করিতে পারে । এমত পদার্থ ব্রহ্মাণ্ডে নাই । শোভানুভাষকত।—-পরমেশ্বর আমাদিগকে শোভ। প্রিয় করিয়াতদুপযোগী অশেষ প্রকার রমণীয় পদার্থ দ্বারা সমস্ত সংসার বিভূষিত করিয়া রাখি রাছেন ; তৎসমুদায়ের দর্শন, এবণ ও মননে অন্তঃকরণ পরম পুলকিত হয় । সুন্দর চিত্ৰ , সুশোভন পাষাণময় । মূর্তি, মনোহর অষ্টালিকা, ও সুদৃষ্ঠ ভূমিখণ্ড দৰ্শন করিলে যে অস্তঃকরণ প্রফুল হয়, এবং কাহারও মনোমন্দির জ্ঞান ও ধৰ্ম্মে সুশোভিত দেখিলে যে পবিত্র প্রীতি সঞ্চার হয়, তাহার কারণ এই নিজেরই হউক বা অন্থেরই হউক লুদার বন্ধু প্রত্যক্ষ করিলেই মুখো দয় হয়। স্তেএব, সগন্ত বিশ্বই এই শুভকরী কৃতিত্ব মনুষ্যৈর মানসিক গ্র কৃতি । ৩১ উপভোগ, এবং যিনি আমাদের হৃদয়-রাজ্যে এমন । সুখের অাকর সৃজন করিয়াছেন, তিনিই ইহার সর্বোৎ কট বিষয় । আশ্চৰ্ঘ্য ।-এই বৃত্তির গুণে, অদ্ভুত, তা সাধারণ ও তাভিনব বস্তু প্রত্যক্ষ হইলে হর্যোদয় হয় । বে পৃথি- বীর সকল বস্তুই পুরাতন বেশ পরিত্যগপূৰ্বক নিয়ত নবীন রূপ ধারণ করিতেছে, নাশ ও উৎপত্তি যে পৃগি বার . এই প্রবৃত্ত কৃত্তি তাগার সম্যকু উপযুক্ত। যখন তামাদিগের পরমেশ্বরের সত্ত উপলব্ধি করি বার শক্তি আছে, ও ৬াহার আশ্চৰ্য্য কাব্যের বিষয় পর্যালোচনা করিয়া তাহার যথার্থ তত্ত্ব জানিবার | ক্ষমতা আছে, তখন এই পরম সুখদায়িকা বৃত্তির উপভোগ্য বস্তুর আার অ'ভাব কি? যত অনুসন্ধান করা যায়, ততই অভিনব ব্যাপার ও অস্তৃত বেশিল প্রকাশ পায়। । পরমেশ্বর প্রসাদে এই বৃত্তি সৰ্ব্বত্ৰ অপৰ্য্য বিষয় প্রাপ্ত হইয়া সর্বদ চরিতার্থ হইতেছে, ও ইহাকে চরিতার্থ করিবার নিমিত্ত আপনার অনেক মনো বৃত্তিও স্ব স্ব বিষয়ে সঞ্চারিত হইয়া তৃপ্তি লাভ করি- তেছে। স্বার্থপ্রাপ্তি এ প্রবৃত্তির মুখ্য প্ৰয়োজন না । হইলেও তদ্দার। প্রচুর মুখের উদ্ভব হয়। অধ্যবসায় (-সপ্রতিভ হইয়া কৰ্ম্ম ন করিলে, সং সারের কার্য সম্পন্ন করা সুকঠিন, এ নিমিত্ত পরমে শ্বর অামাদিগকে অধ্যবসায় বৃত্তি প্রদান করিয়াছেন । যে স্থানে অনেক বিষয়ের পরের উপর নির্ভর করিতে , হয়, যে স্থানে অভীষ্ট সাধনের নানা প্রকার প্রতি ৭৬ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । বন্ধক ঘটে, এবং যেখানে কাল বিলম্ব ব্যাতীত প্রায় কোন অভিলাষ পূর্ণ হয় না, অধ্যবনায় বৃত্তি সে স্থানের সম্যক উপযুক্ত তাহার সন্দেহ নাই । অনুচিকীৰ্য ।- যাহাদিগের সহিত আমাদিগকে সহ বাস করিতে হয়, আমরা তাহাদিগের আচরণ দৃষ্টে আচার ব্যবহার শিক্ষা করিব এই অভিপ্ৰায়ে জগদী শ্বর আমাদিগকে অনুচিকীৰ্ষা বৃত্তি অর্থাৎ অনুকরণের ইচ্ছা প্রদান করিয়াছেন। সকল বিষয়ের অনুকরণ। কর এ কৃত্তির কার্য্য। বাল্যাবস্থার এই বৃত্তিই আমা দিগের প্রধান গুৰু । তৎকালে অমরা চতুঃপার্থ বৰ্তী ব্যক্তিদিগের যে প্রকার ব্যবহার দেখি, সেই প্রকার অভ্যাস করিতে থাকি । এই বৃত্তি থাকাতে । এক প্রদেশস্থ সমস্ত লোক অনায়ামে একরূপ ব্যবস্থার করিতে সমর্থ হয় । পরমেশ্বর নানা প্রকার বুদ্ধিবৃত্তি প্রদান করিয়াও ক্ষান্ত হন নাই, তিনি আমাদের জ্ঞান শিক্ষা ও কার্য-সাধন সুগম ও সু সাধ্য করিবার নিমিত্ত এই পরম শুভকরী বৃত্তি সৃষ্টি করিয়াছেন। পরিহানপ্রবৃত্তি ।-কৰুণাময় পরমেশ্বর আমাদি গকে অন্য অন্য বিবিধ প্রকার সুখকরী বৃত্তি প্রদান করিয়াও তৃপ্ত হন নাই, তিনি আদিগের অন্তঃকরণ নিরন্তর প্রমোদিত ও অস্ত্যমণ্ডল সতত সহ্য রাখি বার অভিপ্রায়ে পরিহাসপ্রবৃত্তির সৃজন করিয়াছেন । নিরবচ্ছিন্ন অমোদ উদ্ভাবনই এ প্রবৃত্তির প্রধান উদ্দেশষ্ঠ । অতএব প্রণয়-পবিত্র মিত্ৰযগুলীমধ্যে উপবেশন পুর সর পরিহাস-প্রকৃতি পরিচালন করিয়া দোষবডি মনুষ্যের মানমিক প্রকৃতি । ৭১ আমোদ প্রমোদে কাল যাপন কর বিস্থিত ব্যতিরেকে কদাপি গহিত নহে । তাহাতে অস্তঃকরণ সুখী থাকে, পরিপাক শক্তি প্রবল হয় এবং শরীর সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ থাকে। । পরিহাস সহকারে মিষ্ট বচমে লোকের দোষও সংশোধন করা যাইতে পারে, কিন্তু গরলবৎ ক্লেশকর পরিহাসদ্বারা কাহার মনঃপীড়া উপস্থিত করা নিতান্ত দৃষণীয় তাহার সন্দেহ নাই হ্যায়পরতা ।- যখন মনুষ্যের কামাদি কতকগুলি। প্রবৃত্তি কেবল স্বার্থ সাধনে তৎপর এবং উপচিকীৰ্যাদি অন্য কতকগুলি প্রবৃত্তি কেবল পরানুরক্ত, তখন এই উভয় জাতীয় প্রবৃত্তি সমুদায়ের আতিশয্য নিবারণার্থে ও ভাহাদিগকে যথানিয়মে চালনা করিরার নিমিত্তে কোন স্বতন্ত্র শক্তি অাবশ্যক ; পরমেশ্বর এই ন্যায়প রতা বৃত্তিকে সেই শক্তি দিয়াছেন। এই শুভকরী বৃত্তি মার্জির্জত বুদ্ধি সহকারে, যাহাতে পীরের অনিষ্ট ও অকারণে আত্মসুখের হানি না হয়, এইমপে সমুদায়। প্রবৃত্তিকে স্ব স্ব বিষয়ে নিয়োজন করে। সকল ব্যক্তি ও• কে আত্মবৎ জান করিবে, এই প্রসিদ্ধ পরম ধৰ্মও এই মহতী বৃত্তির উপদেশ দ্বারা অবগত হওয়া যায়। পরম গায়বান । পরমেশ্বর আমাদিগকে কৰ্ত্তব্যাকৰ্ত্ত- ব্যের উপদেশ প্রদানার্থে এই -প্রতিনিধি স্বরূপ বৃত্তিকে আমাদের হৃদয় দধ্যে স্থাপনা । করিয়াছেন। তাহার অনুবর্তী হইয়া চলিলে সকল কর্মেই সুখোদয় আর তাহার উপদেশ অবহেলন করিয়া। অবিহিত কর্মে প্রত্নত হইলে তৎক্ষণাৎ তাহার হুঃখরপ দও ৭২ মনুষ্যের মানসিক প্রস্তৃতি। উপস্থিত হয় । ঘিনি অমাদিগের পরম্পর অস্থায় ব্যবস্থার নিবারণার্থে এত শুভকারী বৃত্তি সৃ জন করি য়াছেন, প্লাহার মান হ্যায়বান আর কে আছে ? যে সমস্ত ধৰ্ম্ম-প্রবৃত্তির বিষর বিবরণ করা গেল, তাহার। স্ব স্ব বিষয় ভোগের নির্দিষ্ট সীমা উদ্ভজঘন করিলে অর্থাৎ মার্জিত বুদ্ধি সহকারে যথানিয়মে নিরোজিত না হইলে বিস্তর অনিষ্ট ঘটনার সম্ভাবনা । যদি বুদ্ধি পরিপাক না হইয়া ভক্তি উপচিকীৰ্যাদির আতিশয্য হয়, তবে কাল্পনিক ধৰ্ম্মে শ্ৰদ্ধা ও অতি ব্যয়শীলতাদি নানা দোষ উপস্থিত হয়। অতএব, । বুদ্ধিবৃত্তিকে মার্জিত করা সর্বতোভাবে কৰ্ত্তব্য। বুদ্ধিবৃত্তি । -বুদ্ধি অতি প্রখর অস্ত্র স্বরূপ । উহাকে যে বিষয়ে চালনা করা যার, তাহাতেই নৈপুণ্য হয় । যে • উপচিশীর্ঘ, ভক্তি ও ন্যায়ণরত। এই তিনটি প্রধান ধর্ম প্ররতি । অাশা, অ :্যবসায় প্রভৃতি কয়েকটি বৃত্তিকে ভ1ছাদের অনুকূল রতি বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে। বুদ্ধত্ব ’মুদায়কে চাপয় শ্রেণীতে বিভাগ কয়া যায় । তন্মধ্যে চফুঃতে।ত্র।fদ পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্ৰিয় প্ৰথম -নিবিষ্ট ; ব্যক্তি প্রাঙ , আকারাতৃভাবকতা: গুরুত্বাভাৰক ত, প্রভৃfত্ত যে সমস্ত বৃত্তি দ্বার। ধTহ্য বস্তুর সড ও ও৭ জ্ঞাত ওয়৷ যায়, তৎসমুদায় দ্বিীয়শ্রেণীনিষ্টি। কালাহ্র ভাবকতাঘটনাগু ভl ব কড, সংখ্যা ও ভ। ধাশক্তি প্রভৃতি যে সমস্ত রতিস্বার। বাহ্য বস্তু সকলের পর "স্পর সম্বন্ধ জান1 যায়, ও ৎ2 মুদার তৃতীঃ-প্রেণী fনবিষ্ট । আর উপমিতি, ও অনুমিতি অর্থাৎ কাৰ্য্য কারণ জ্ঞান, চতুর্থশ্রেণী মিষ্টি। এই মুদয় বৃতির সংজ্ঞা দ্বারাই ইহুদিগের fবষয় ও মমুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৭৩ বুদ্ধি সম্ম-নৃতি, মিত্ৰ-দ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা ও নর বধ সম্পাদনের উপায় চিন্তা করে, সেই বুদ্ৰিই এই ভূলোককে স্বর্গলোক সমান মুখ-খাম করিবারও মন্ত্রণ। করিতে পারে । কিন্ত যাবতীয় বস্তুর সত্তা 'ও গুণ। জানল, তাহাদের পরস্পর সম্বন্ধ নিরূপণ করা এবং অামাদের নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি ও ধর্মপ্রবৃত্তি সমুদায়কে যধানিয়মে নিয়োজন করা বুদ্ধিবৃত্তির প্রকৃত কার্য। অঙএব, সমস্ত সংসারই উহার উপভোগ্য বিষয় ; সুত- লং বিহিত বিধানে উহ চালনা করিলে অ্যামাদিগের চিত্ৰ-ভূষি অপর্যাপ্ত সুখ-সলিলে প্লাবিত হইতে পারে । জগদীশ্বর অতি অদ্ভুত কৌশল প্রকাশপূর্বক আসা- দিগের মানসিক প্রক তির সহিত বাহ ব সমুদায়ের এইরূপ সম্বন্ধ নিরূপিণ্ড করিয়া দিয়াছেন, যে আযা দিগের নিকট প্রবৃত্তির যে সকল কাৰ্য্য সমন্ত বুদ্ধি বৃত্তি ও ধর্মপ্রবৃত্তির অনুমত, তাহ আমাদের যথার্থ উপকারক ও মুখদায়ক ; যার যে সকল কাৰ্য্য তাহা দের অনুমোদিত নহে, তাহা পরিণামে অপকারক ও দুঃখদায়ক হইয়া উঠে। যে ধর্মশীল সুবোধ ব্যক্তির কাৰ্য্য অবগত হওয়া যাইছেছে, তা য়ে বৃত্তিধারা একটি বস্তুর সভা' উপসৰ হয়, তাeায় মাগ বfতdivভা, যে বৃথিৱীয়া জা রায়ের অন্তু তব হয়, তাeার নাম জাকারাহতাৰক৷ ইত্যাদি। গরমেশ্বর মস্য্যকে হত বুদ্ধিবৃত্বি প্রদান করিয়াছেন, জগতে ইহুপযোগী জণেৰ একার বিষয় সৃষ্টি করিয়া এার খেয় পৰ্ব সম্ভ করিয়৷ মাখিরাৱে । ৭৪ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ধর্মপ্রবৃত্তি সকল মার্জিত বুদ্ধি দ্বারা নিয়োজিত হইয়া পরস্পর ঐক্যভাবে সঞ্চরণ করে, যদিও পরের শুভ সাধনই ঢাহার মুখ্য প্রয়োজন, কিন্তু গেীণ কপে উদ্দার আপনারও পরম সুখ সত্তোগ হয়। । এইরূপে মনুষ্যদিগের পাপ পুণ্যের পুরস্কার অবাধে হইয়া আসিতেছে । আমাদিগের নিকৃষ্ট প্রবৃত্তির ও ধর্মপ্রবৃত্তির পর স্পর যেরূপ বিভিন্ন দৃষ্টি করা গেল, তাহা সবিশেষ পর্যালোচনা করিয়া দেখিলে এই পশ্চাল্লিখিত তিনটি বিষয় প্রতিপন্ন হয় । । প্রথমতঃ । আমাদিগের যে প্রকার মানসিক প্রকৃতি, ও বাহ বস্তুর যেরূপ স্বভাব, তাহাতে অন্তঃ করণের কোন বৃত্তি অতি প্রবল হইলে তাহার তার একবারে নিবৃত্তি হয় না । বিষয়োপভোগদ্বারা । ক্ষণিক নিবৃত্তি হইতে পারে, কিন্তু অত্যন্দকাল পরেই পুনর্বার প্রাচুর্ভাব হইতে থাকে । অন্ন পান- দ্বারা বুভুক্ষ। বত্তির শাত্তি হয়, কোন বিষয় ব্যাপারে কৃতকাৰ্য্য হইলে অর্জনগৃহা ক্ষণকালের নিমিত্ত। নিশ্চেষ্ণ থাকে, বিষয় বিশেষে জয় লাভ হইলে তৎ কালে আত্মাদর ও লোকানুরাণপ্রিয়তা চরিতার্থ হয়, অবিচ্ছেদে বুদ্ধি চালনা করিলে কিঞ্চিৎকাল বিচার শক্তির মান্দ্য হয়, কিন্তু তাহার কিয়কাল বিশ্রামের পরেই পুনৰুদীপ্ত হইয়া স্ব স্ব বিষয় লাভাগে ব্যত্র ছনুয়া উঠে। অতএব, অামাদিগের মনোবৃত্তি সকল। যখাবৎ নিয়মিত না হইলে । উত্তরোত্তর প্রবল ও অপ্রম । খনুষ্যের মানসিক প্রঙ্কতি।। ৭৫ শান্ত হইতে থাকে। বিশেষতঃ, জুর্দান্ত নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি সকল নিতান্ত স্বার্থ-পরায়ণ ও সদসৎ--বিবেক-রহিত, এপ্রযুক্ত তাহার পরিমিত বিষয়োপভোগ করিয়া ক্ষান্ত থাকিতে পারে না। যদি অামাদিগের নিকৃষ্ট প্রধ্বত্তি সমুদায় বুদ্ধিবৃত্তি ও ধর্ম প্রবৃত্তির শাসন অব হে লন পুরঃ সর তন্নিৰ্দিষ্ট নিয়ম লঙঘন করিয়া অনবরত বিষয়ে: পভোগে রত থাকে, তবে তদ্দার। আপনা ও পরের বিস্তর অনিষ্ট ঘটনার সম্ভাবনা । যদি লোকানুরাগ । লাভ মাত্র অামাদিগের সমস্ত কর্মের উদ্দেশ্য থাকে, তবে স্থল বিশেষে কুকৰ্ম্মার মনস্তুষ্টির নিমিত্ত কুকৰ্মও করিতে হয় ও তাহার প্রতিফলরূপ দুঃখও প্রাপ্ত হইতে হয়, এবং যে সকল যশস্কর বিষয় সাধনের ক্ষমতা নাই, অতিশয় যশোলোভবশতঃ তাহাতেও প্রবৃত্ত হইয়া হতাশ ও ভগ্নোৎসাহ হইতে হয় । । সবি। শেষ জ্ঞানাভাব বা ধর্মপ্রবৃত্তির ক্ষীণতাবশতঃ রিপু পরতন্ত্র হইয়া অল্প বয়সে, অথবা শরীর ও মনের অস্বাস্থ্য সময়ে, সন্তান উৎপাদন করিলে, সে সস্তান দুর্বল ও ব্যাধিযুক্ত বা রিপুপ্রধান হইয়া পিতা মাতার অশেষ যাতনার কারণ হয়। এইরূপ, অামাদিগের । অর্জনই থাকাতে অর্থ | আহরণে ও ধন সঞ্চয়ে প্রবৃতি হয়, কিন্তু ব্রহ্মাণ্ডপতির অধস্তনীয় নিয়মক্রমে বন্ধর সস্বৎসরকালে পরিমিত ধন দান করেন ; আর মনুষ্যেয়ও বুদ্ধি-শক্তি ও কায়িক পরিশ্রমের নির্দিষ্ট সীমা অাছে, সুতরাং সকলেই ধনাঢ়া হইতে চাহিলে অনেককে নিরাশ হইতে হয় । যাহার নিকট প্রত্ন ৭৬ মনুষ্যের মানসিক প্রভৃতি। ত্তির বশীভূত হইয়া কেবধ বিষয়-পখে সঞ্চরণ করেন, iাহার। এই অকম্পিত কথা মনে রাখিবেন। নিকৃষ্ণ- প্রবৃত্তি সকল বুদ্ধিবৃত্তি ও ধর্মপ্রবৃত্তিদ্বারা নিয়মিত না’ হইলে যে অশেষ । প্রকার অনিষ্ট উপস্থিত হয়, ইহাও প্তাহাদের সর্বদা স্মরণ রাখা বিধেয় । দ্বিতীয়তঃ। আমাদিগের বুদ্ধিবৃত্তি ও ধর্মপ্রকৃতি সমুদায়ই সর্বাপেক্ষা প্রধান বৃত্তি, এপ্রযুক্ত আমাদের নিকৃষ্ট প্রবৃত্তির কোন কাৰ্য্য তাহাদের অনুমোদিত না। হইলে অঞ্জঃকরণ অপ্রসন্ন ও গ্লানিযুক্ত থাকে। বোধ হয়, যেন আমাদের মনের শ্রেষ্ঠ বৃত্তি সমুদায় ইডর বৃত্তির অনুচিত ভোগাতিশয়ে অসম্মত হইয় তিরস্কার করিতেছে। যে তৰুণ যুবার সুকোমল সরল চিত্ত এখনও পাপ-রসে পূষিত হয় নাই, যাহার সাধুচিন্তা এখনও সংসারের কুটিল পথে সঞ্চরণ করে নাই, অধ- স্মের কঠোর স্থত যাহার মুকুমার নিৰ্ম্মল মতি এখনও স্পৰ্শ করিতে পারে না, সে যদি জুৰ্বিপাকবশতঃ ভুপ্রবৃত্তিরূপ পিশাচের বশীভূত হইয়া মোহহ্রদে মগ্ন হয়, তবে ধর্মের শাসন অবহেলন করিয়া নিকৃষ্ট প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করিলে কি প্রকার যাতন ভোগ করিতে হয়, তাহা বিলক্ষণ জানিতে পারে। তখন আার তাহার অনুতাপতাপিত হৃদয় শাস্তিরসে অার্চ ছর না, এবং মনের aানির অর পরিসীমা থাকে না ; তাহার আপনার অস্তঃকরণই গরলময় নরক সমান হয়, ও প্রাণঘাতিনী জুশ্চিন্তা তাহার চিত্তকে অহৰ্নিশ পেষণ করিতে থাকে। যদি কোন বিষয়াৰী মমু ষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৭৭ ব্যক্তি তৰুণ বয়স অবধিই ধনসঞ্চয় ও মান সম্রম উপা জর্জনে একাগ্ৰচিত্ত হইয়া সমস্ত কাল হরণ করেন, এবং প্রাতঃকালাবধি সায়ংকাল পর্যন্ত কেবল ক্রয়, বিক্রয়, ও আয় ব্যয় নিরূপণা দি বৈষয়িক ব্যাপারে অনবরত ব্যাপৃত থাকিয়া মনের বীর্ঘ ক্ষয় করেন, আর সুত রাং ভক্তি উপচিকীর্ষ ও ায়পরতা বৃত্তিকে সঞ্চালিত ও চরিতার্থ না করিয়া তদ্বিৰূন্ধ ব্যবহার করিয়া মাই 'সেনএবং যদি বার্ধক্যদশা উপস্থিত হইলে তাপ নার গত জীবনের তাবৎ কার্য। পর্যালোচনা করিয়া দেখেন, তবে তিনি দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যপুরঃসর এ কথা অবশ্য বলিবেন যে “কেবল কলহ, উত্ত্যক্তি, মিথ্যাভিমান প্রকাশেই আমার সমস্ত আয়ুঃ গত জুই য়াছে। আমার উংকক মনোকৃত্তি সমুদায়কে চরি তাৰ্থ করি নাই, এবং তন্নিমিত্ত জান-ধর্মোৎপাত বিশুদ্ধ সুখভোগে অধিকারী হুইতে পারি নাই। বুদ্ধি বৃত্তি ও ধর্ম প্রবৃত্তি সমুদায়ের অনুশাসনক্রমে আর সমস্ত মনোবৃত্তিকে যথানিয়মে চালনা করিলে যে প্রচুর সুধোৎপত্তি হয়, আমি তা লাভ করিতে সমর্থ হই নাই। কেবল কৰ্ম্ম ভোগ করিয়া সমুদায়। জীবন ক্ষেপণ করিলাম ।” শেষ দশায় এ প্রকার অনু- তাপিত হওয়া দুঃসহ যন্ত্রণার বিষয় । তৃতীয়তঃ । আমাদিগের প্রধান প্রবৃত্তি সমুদায়। যদি পরস্পর মিলিত থাকিয়া মার্জিত বুদ্ধিম্বার। নিয়োজিত হয়, তবে তাহার স্ব স্ব বিষয়োপভোগের অশেষ স্থল প্রাপ্ত হয়। এই সকল স্বস্তির যুৎকিঞ্চিৎ ৭৮ । মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ক্ষত্তি হইলেও আনন্দ লাভ হয়, আর তাহাদিগকে অতিশয় প্রবল রাখিয়া সম্যক চরিতার্থ করিতে পারিলে অন্তঃকরণ মুখার্ণবে মগ্ন হয়। এই সমস্ত ধৰ্মপ্র বৃত্তির অনুবর্তী হইয়া চলিলে পশ্চাত্তাপে তাপিত হইতে হয় না, এবং মুখোপভোগের পুন: পুনঃ বিচ্ছেদও ঘটে না। তদ্দারা আমরা যাবজ্জীবন শান্তি রসার্চ ও স্থির-সুখসম্পন্ন হইয়া কাল যাপন করিতে পারি। বিশেষতঃঐ সকল প্রধান প্রবৃত্তির অনুগামী হইয়া কাৰ্য্য করিলে নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি সকলও স্বসাধ্য সমুদায় সুধ উৎপাদন করিতে পারে। তার যেমন আমাদিগের ধর্মপ্রবৃত্তি মার্জিত বুদ্ধি দ্বারা নিয়োজিত ন হইলে বহুপ্রকার অমঙ্গল ঘটনার সম্ভাবন, সেইরূপ বুদ্ধিও তামাদিগের প্রবৃত্তি সকলের স্বভাব বিচার ও প্রয়োজন রক্ষা করিয়া না চলিলে জম-শূৰ্য্য হইতে পারে না। বস্তুতঃ, বুদ্ধিবৃত্তি ধর্মপ্রবৃত্তির প্রাধাঠ্য স্বীকার করিয়া সমস্ত মনোবৃত্তির প্রয়োজন রক্ষা করিয়া। চলিতে পারেন, এইরূপ অপ্রাকৃত ব্যক্তিকেই যথার্থ সাধু বলা বার, এবং এইরূপ ব্যক্তিই চিরকাল মুখ সম্ভোগ করিতে পারেন। পশ্চাৎ এ বিষয়ের উদাহ রণ প্রদর্শন কর৷ যাইতেছে। যদি কোন । ব্যক্তি পুর্বোক্ত প্রকারে আপন কৰ্ত্তব্যা কৰ্ত্তব্য মিপণ করিয়া সংক্সার-পথে পদার্পণ করেন, তবে উপচিকীৰ্যার গুণে তাহার এইরূপ বোধ হইবে, যে অপরাপর মনুষ্যও আমার ন্যায় পরমেশ্বরের প্রিয়। পাত্র ও শিল্পোগের অধিকারী ; মানার ইফসাধক, মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৭৯ কাৰ্য্য যদি তাহাদের অনিষ্টজনক হয়, তবে তাছার অনুষ্ঠান করা কখনই উচিত নহে, বরং আমার । সাধ্যানুসারে তাহাদের উপকার করাই কৰ্ত্তব্য ; ভক্তি গুণে পরমেশ্বরের নিয়ম প্রতিপালনে দৃঢ় শ্রদ্ধা হইবে, । এবং র্তাহার অচিন্ত্য জ্ঞান, বিচিত্ৰ শক্তি, ও অপার। মঙ্গল স্বরূপের উপর নির্ভর করিয়া এপ্রকার বিশ্বাস করিতে হইবে, যে এরপ ব্যবহার দ্বারা সমুদায় মনো বৃত্তি চরিতার্থ হইয়া পরিণামে অত্যন্ত মুখ সম্পাদন করিবে, এবং মনুষ্যবৰ্গকে সম্যক । আদরণীয়। বোধ হইয়া যথা শক্তি তাহাদিগের উপকার করিতে তাহার অনুরাগ জঘিবে ; আর যায়পরতার বশবর্তী হইয়া। তিনি সকলের সহিত ন্যায়বৎ ব্যবহার করণে ও অন্যায় ব্যবহার পরিত্যাগে প্রবৃত্ত থাকিবেন । তিনি এই প্রকার কৰ্ত্তব্যাকৰ্ত্তব্য নিরূপণপূর্বক তদনুসারে যে কাৰ্য করিবেন. তাহাতেই লোককে পরম মুখী করি বেন, ও আপনিও পরম সুখী হইবেন। পরম রমণীয় অনন্দজ্যোতিঃ প্লাহার অস্তরে সতত প্ৰকাশ পাইতে থাকিবে। এরূপ সুশীল ব্যক্তি কাহারও সহিত মিত্ৰতা করিলে। উপচিকীৰ্ব গুণে সকল স্বার্থ পরিত্যাগ করিয়া কেবল মিত্রের কল্যাণ । কামনা করেন । ভক্তি প্রভাবে প্লাহার এইরূপ ৰোধ হয়, যে, উক্তরূপ মিত্ৰতা যখন পরলে স্বরের নিয়মানুগত, তখন উহ যন্ত্ৰপূৰক পালন করা সৰ্বতোভাবে বিধেয়। অতএব মিত্রের প্রতি প্লাহার প্ৰীতি স্বছি হয়, এবং তদ্বারা নিরের অনুরাগ করা। ৮৩ মনুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ও তাহার সকল কার্যে সুখানুভব করা এক প্রকার। অভ্যাস পাইরা যায়। যারপরতা থাকাতে, তাহার । প্রতীতি হয়, মিত্রের সহিত পরস্পর প্রণয়ের বিনিময়, শীনতার বিনিময়, ও উপকারের বিনিময় করাই কর্তব্য। তদ্ভিন্ন, অনুচিত প্রার্থনাদি কোন কঠোর ব্যবহার । কয় কোন ক্রমেই উচিত নয়। আর তিনি প্রণয় । সঞ্চার কালে বিবেচনা করিয়া দেখেন, ঊাহার মিত্র স্বৰ্ম্মাংশে হীন না হন, কারণ, দান্তিক, স্বার্থপর ও অধার্মিক ব্যক্তির সহিত যথার্থ প্রণয় হওর সন্তাবিত নয় ; তুঃশীল ব্যক্তির প্রতি কৃপা হইতে পারে, কিন্ত তাহার সহিত কখন প্রীতি হইতে পারে না। এ প্রকার মৈত্রী লাও হইলে আমাদিগের অনেকা নেক নিকৃষ্ট প্রবৃত্তিও সম্যক চরিতার্থ হইয়া পরম সুখ প্রদান করে। যদি বুদ্ধিতে নিশ্চয় হয়, অামার মিত্র ধৰ্ম্মপরায়ণ, কেবল ধর্ম প্রবৃত্তির । প্রাধান্য স্বীকার করিয়া তমুযায়ী ব্যবহার করেন, তাহা হইলে । তামার অসঙ্গলিষ্মা মহোৎসাহ সহকারে অমূল্য নিধি স্বরূপ প্রিয় মিত্ররত্নে প্রগাঢ়নপে আসক্ত হয় । এরূপ ্যার বালু, পরহিতৈষী, ভক্তিশীল মিত্র কখনই মিত্রের অনিষ্ট করেন না, এবং সসম্ভ ম অাদর অপেক্ষা পরিত্যাগ করিয়া অত্যালাপ ও ইতর ব্যবহারেও প্ররত হন না । এগত প্রণয়ের স্থলে অপমান, প্রব- ধন ও অপরাপর অনিষ্ট ঘটনার অসম্ভাবনা জানিয়া হৃদয়-পদ্ম সদা বিকসিত থাকে। আমঙ্গলিস্রাতে অয়াপ্ত নিকক প্রকৃতির সাহায্য ধাকিলে অন্তঃকরণে। মমুষ্যের মানসিক প্রকৃতি । ৮১ কখনই তাদৃশ প্রণরামৃত সঞ্চার ও আনন্দবারি নি:স্ত্র বণ হইতে পারে না। এমত মৈত্ৰীলাভদ্বারা আমা দিগের লোকানুরাগপ্রিয়তাও চরিতার্থ হয়। কারণ। এরূপ পরহিতৈষী ্যায়বান, মৰ্য্যদক মিত্রের প্রিয় সস্তা স্বণ আদরোক্তি ও সৌহার্দ প্রকাশ অপেক্ষা অধিক অনুরাগ আর কাহার নিকটে প্রাপ্ত হওয়া যাইতে পারে? এরপ দুর্লভ মিত্রের বাহে সৌহার্দ প্রকাশ ও অন্তরে দ্বেষানল প্রদীপন, সমক্ষে মধুরালাপ ও পরোক্ষে নিন্দাবাদ, কথায় পরমোপকার ও কাৰ্য্যে' অবহেলা, এ সমুদায়ের কিছুই করা সম্ভব নহে। ফলতঃ বুদ্ধি ও ধর্ম । যাহার মূলভূত, এমত প্রগর হইলে, অন্তঃকরণ সতত। প্রফুল্প ধাকে, সুধাকরকিরণ-সম পরম রমণীয় প্রেমামৃত তদুপরি অবিশ্ৰান্ত বর্ষণ হইতে থাকে, এবং বুদ্ধিবৃত্তি, ধৰ্ম্মপ্রবৃত্তি ও আার অার সমস্ত মনোবৃত্তি পরস্পর ঐক্যভাবাপন্ন থাকিয়া অপর্যাপ্ত আনন্দ উদ্ভাবন করে। আমাদিগের মনোবৃত্তি সমুদায়ের কি প্রকার সাম ঐ্য হইতে পারে, এবং তাহার ফলই বা কি, ডাহা উক্ত উদাহরণস্থার স্পষ্ট প্রতীত দুইতেছে। যে সকল স্বার্থপর ব্যক্তি : বুদ্ধি ও ধর্ম প্রবৃত্তির অনুবর্তী হইয়া ন চলে, ইতঃপূর্বে তাহাদিগের মিত্রতার বিষয় লিখিত হইয়াছে, এবং ধৰ্ম্মোপেত মিত্ৰতার বিষয় এ স্থলে বিবরণ করা গেল। এই উভয়ের ফল-তারতম্য ও তাদৃশ অন্যান্য নিক্লক প্রবৃতি জনিত সুখের বিষয় পর্যালোচনা করিয়া দেখিলে ইহা নিশ্চিত অবধায়িত হয়, যে অামাদের সমন্ত মনোবৃত্তির পরস্পর সামযিাই । ৮২ মনুষ্যের মানসিক একতি। সুখের কারণ ; যে স্থলে কোন তৃত্তির সহিত অণ্ড কোন দৃতির বিরোধ উপৰিত হয়, সে স্থলে বুদ্ধিৰ্ব্বন্তির ও ধর্মপ্ৰতির প্রাধান্ত স্বীকার করিয়৷ ভানুযায়ী প্রাচরণ করা কর্তব্য। যে সাধু ব্যক্তি এই নিয়মানুসারে কার্য করেন, যার মৃত্যুও ঊাহার বিশেষ ক্লেশকর হয়। না। যিনি ঘুঘুশয্যায় শয়ান হইয়া এরপ বলিতে পায়েন, যে আমি যাবজ্জীবন যথাসাধ্য পরোপকায় করিয়াছি, লোকের সহিত যথোচিত ব্যবহার করিয়াছি, মনের সহিত পরমেশ্বরের আরাধনা করিয়াছি, এই ক্ষণেও সেই সকলমঙ্গলালয় অানন্দ-স্বরপে চিত্ত সম পণ করিলাম, তিনি প্রাকৃত মনুষ্য নহেন! ঊাহার। মৃত্যুকালও দুধের কান, ও মৃত্যুশয্যাও মুখ শয্যা।