"শেষের কবিতা/ধূমকেতু" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(নতুন পাতা: <center>==শেষের কবিতা - অধ্যায় ১৪== ১৪ ধুমকেতু</center> এতদিন পরে অমিত একটা ক…)
 
{{Header
<center>= |title= [[শেষের কবিতা - অধ্যায় ১৪==]]
 
|section =অধ্যায় ১৪ (ধূমকেতু)
১৪
|previous =[[শেষের কবিতা-১২]] (শেষ সন্ধ্যা)
 
|next =[[শেষের কবিতা-১৫]] (ব্যাঘাত)
ধুমকেতু</center>
|notes =</br>
 
|author =রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
এতদিন পরে অমিত একটা কথা আবিস্কার করেছে যে, লাবণ্যর সঙ্গে তার সম্বন্ধটা শিলঙসুদ্ধ বাঙালি জানে। গভর্মেন্ট অফিসের কেরানিদের প্রধান আলোচ্য বিষয় তাদের জীবিকা ভাগ্যগগনে ‘ কোন গ্রহ রাজার হৈল কেবা মন্ত্রিবর।’ এমন সময় তাদের চোখে পড়ল মানবজীবরেন জ্যোতির্মন্ডলে এক যুগ্মতারার আবর্তন, একেবারে ফাস্ট ম্যাগ্নিট্যুডের আলো। পর্যবেক্ষকদের প্রকৃতি অনুসারে এই দুটি নবদীপ্যমান জ্যোতিস্কের আগ্নেয় নাট্যের নানা প্রকার ব্যাখ্যা চলছে।
<div style="padding-left:2em;font-size:1.3em">
এতদিন পরে অমিত একটা কথা আবিস্কারআবিষ্কার করেছে যে, লাবণ্যরলাবণ্যের সঙ্গে তার সম্বন্ধটা শিলঙসুদ্ধ বাঙালি জানে। গভর্মেন্টগর্ভনমেন্টের অফিসের কেরানিদের প্রধান আলোচ্য বিষয় তাদের জীবিকা ভাগ্যগগনে ‘ কোন গ্রহ রাজার হৈল কেবা মন্ত্রিবর।’ এমন সময় তাদের চোখে পড়ল মানবজীবরেন জ্যোতির্মন্ডলে এক যুগ্মতারার আবর্তন, একেবারে ফাস্ট ম্যাগ্নিট্যুডের আলো। পর্যবেক্ষকদের প্রকৃতি অনুসারে এই দুটি নবদীপ্যমান জ্যোতিস্কের আগ্নেয় নাট্যের নানা প্রকার ব্যাখ্যা চলছে।
পাহাড়ে হাওয়া খেতে এসে এই ব্যাখ্যার মধ্যে পড়েছিল কুমার মুকুজ্জে-অ্যাটর্নি। সঙক্ষেপের কেউ তাকে বলে কুমার মুখো, কেউ বলে মার মুখো। সিসিদের মিত্রাগোষ্ঠীর অন-শ্চর নয় সে, কিন’ জ্ঞাতি, অর্থাৎ জানাশোনার দলে। অমিত তাকে ধুমকেতু মুখো না দিয়েছিল। তার একটা কারণ, সে এদে দলের বাইরে, তবু সে মাঝে মাঝে এদর কক্ষপথে পুচ্ছ বুলিয়ে যায়। সকলেই আন্দাজ করে, যে গ্রহটি তাকে বিশেষ করে টান মারছে তার নাম লিসি। এই নিয়ে সকলেই কৌতুক অনুভব করে, কিন’, সিসি স্বয়ং এতে ক্রুদ্ধ ও লজ্জিত। তাই লিসি প্রায়ই প্রবলবেগে এর পচ্ছমর্দন করে চলে যায়, কিন’ দেখতে পাই, তাতে ধূমকেতুর লেজার বা মুড়োর কোনোই লোকসান হয় না।
অমিত শিলঙের রাস-ায় ঘাটে মাঝে মাঝে কুমার মুখোকে দুর থেকে দেখেছে। তাকে না দেখতে পাওয়া শক্ত। বিলেতে আজো যায় নি বলে তার বিলিতি কায়দা খুব উৎকট ভাবে প্রকাশমান। তার মুখে নিরবচ্ছিন্ন একটা দীর্ঘ মোটা চুরুট থাকে, এইটেই তার ধুমকেতু মুখো নামের প্রধান কারণ। অমিত তাকে দূরে থেকেই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছে এবং নিজেকে ভুলিয়েছে যে ধুমকেতু বুঝি সেটা বঝতে পারে নি। কিন’ দেখেও দেখতে না পাওয়াটা টকেট বড়ো বিদ্যের অন-র্গত। চুরিবিদ্যের মতোই, তার সার্থকতার প্রমাণ হয় যদি না পড়ে ধরা। তাতে প্রত্যক্ষ দৃশ্যটাকে সম্পূর্ণ পার করে খেবার পারদর্শিতা চাই।
বেনামী ব্যবহারকারী