"শেষ সপ্তক/ঘট ভরা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
({{BnHeader |title= শেষ সপ্তক |section = ঘট ভরা |previous = মর্মবাণী |next = [[প্রশ্ন (শ... দিয়ে তৈরি পাতা)
 
<div style="padding-left:2em;font-size:1.3em">
<poem>
আমার এই ছোটো কলসখানি
দেহের মধ্যে বন্দী প্রাণের ব্যাকুল চঞ্চলতা
সারা সকাল পেতে রাখি
দেহের দেহলীতে জাগায় দেহের অতীত কথা।
ঝরনাধারার নিচে।
খাঁচার পাখি যে বাণী কয়
বসে থাকি একটি ধারে
সে তো কেবল খাঁচারি নয়,
শেওলাঢাকা পিছল কালো পাথরটাতে।
তারি মধ্যে করুণ ভাষায় সুদূর অগোচর
ঘট ভরে যায় বারে বারে--
বিস্মরণের ছায়ায় আনে অরণ্য মর্মর।
ফেনিয়ে ওঠে, ছাপিয়ে পড়ে কেবলি।
চোখের দেখা নয় তো কেবল দেখারি জালবোনা
সবুজ দিয়ে মিনে-করা
কোন্‌ অলক্ষ্যে ছাড়িয়ে সে যায় সকল দেখাশোনা।
শৈলশ্রেণীর নীল আকাশে
শীতের রৌদ্রে মাঠের শেষে
ঝর্‌ঝরানির শব্দ ওঠে দিনে রাতে।
দেশ-হারানো কোন্‌ সে দেশে
ভোরের ঘুমে ডাক শোনে তার
বসুন্ধরা তাকিয়ে থাকে নিমেষ-হারা চোখে
গাঁয়ের মেয়েরা।
দিগ্বলয়ের ইঙ্গিত-লীন উধাও কল্পলোকে।
জলের শব্দ যায় পেরিয়ে
ভালোমন্দে বিকীর্ণ এই দীর্ঘ পথের বুকে
বেগনি রঙের বনের সীমানা,
রাত্র-দিনের যাত্রা চলে কত দুঃখে সুখে।
পাহাড়তলির রাস্তা ছেড়ে
পথের লক্ষ্য পথ-চলাতেই
যেখানে ঐ হাটের মানুষ
শেষ হবে কি? আর কিছু নেই?
ধীরে ধীরে উঠছে চড়াইপথে,
দিগন্তে যার স্বর্ণ লিখন, সংগীতের আহ্বান,
বলদ দুটোর পিঠে বোঝাই
নিরর্থকের গহ্বরে তার হঠাৎ অবসান?
শুকনো কাঠের আঁটি;
নানা ঋতুর ডাক পড়ে যেই মাটির গহন তলে
রুনুঝুনু ঘণ্টা গলায় বাঁধা।
চৈত্রতাপে, মাঘের হিমে, শ্রাবণ বৃষ্টিজলে
ঝর্‌ঝরানি আকাশ ছাপিয়ে
স্বপ্ন দেখে বীজ সেখানে
ভাবনা আমার ভাসিয়ে নিয়ে কোথায় চলে
অভাবিতের গভীর টানে,
পথহারানো দূর বিদেশে।
অন্ধকারে এই যে ধেয়ান স্বপ্নে কি তার শেষ?
রাঙা ছিল সকালবেলার প্রথম রোদের রং
উষার আলোয় ফুলের প্রকাশ, নাই কি সে উদ্দেশ?
উঠল সাদা হয়ে।
বক উড়ে যায় পাহাড় পেরিয়ে।
বেলা হল ডাক পড়েছে ঘরে।
ওরা আমায় রাগ ক'রে কয়
"দেরি করলি কেন?"
চুপ করে সব শুনি;
ঘট ভরতে হয় না দেরি সবাই জানে,
উপচে-পড়া জলের কথা
বুঝবে না তো কেউ।
 
আশ্বিন, ১৩৪৩
১৫ নভেম্বর, ১৯৩৪
 
</poem>
৫,৩৫২টি

সম্পাদনা