"পাতা:গল্পগুচ্ছ (প্রথম খণ্ড).djvu/২৩০" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(পাইউইকিবট স্পর্শ সম্পাদনা)
পাতার অবস্থাপাতার অবস্থা
-
মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি
+
মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে
শীর্ষক (অন্তর্ভুক্ত হবে না):শীর্ষক (অন্তর্ভুক্ত হবে না):
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
  +
দানপ্রতিদান
পাতার প্রধান অংশ (পরিলিখিত হবে):পাতার প্রধান অংশ (পরিলিখিত হবে):
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
 
মন্দ নহে, কারণ পূর্বেই বলিয়াছি, শশিভূষণ স্নেহবশে এবং নানা বিবেচনায় রাসমণিকে বরঞ্চ অনেক সময় অধিক পক্ষপাত দেখাইতেন।
গল্পগুচ্ছ _ واRR
 
  +
মন্দ নহে, কারণ পূর্বেই সিদ্ধি শিল্প ತ್ಗ এবং নানা বিবেচনায় রাসমণিকে বরঞ্চ অনেক সময় অধিক পক্ষপাতু দেখাইছেন।
 
শশিভূষণের মুখে যদিও ভাৰ্য্যসূত্র গ্রী ইস্তের বিরাম ছিল না কিন্তু গোপন অসুখে তিনি প্রতিদিন কৃশ হইয়া যাইতেছিলেন । আর-কেহ তাহা ততটা লক্ষ্য করে নাই, কেবল o দেখিয়া রাধার চক্ষে নিদ্রা ছিল না। আন সূত্র গভীর রাত্রে রাসমণি স্থাগ্রত হইয়া দেখিত, গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলি। অশান্তভাবে রাধা এপাশ ওপাশ করিতেছে।
+
{{gap}}শশিভূষণের মুখে যদিও তাঁহার সহজ প্রফুল্ল হাস্যের বিরাম ছিল না কিন্তু গোপন অসুখে তিনি প্রতিদিন কৃশ হইয়া যাইতেছিলেন। আর-কেহ তাহা ততটা লক্ষ্য করে নাই, কেবল দাদার মুখ দেখিয়া রাধার চক্ষে নিদ্রা ছিল না। অনেকসময় গভীর রাত্রে রাসমণি জাগ্রত হইয়া দেখিত, গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া অশান্তভাবে রাধা এ-পাশ ও-পাশ করিতেছে।
  +
রাধামুকুন্দ অনেক সময় শশিভূষণকে গিয়া আশ্বাস দিত, “তোমার কোনো ভাবনা নাই, দাদা। তোমার পৈতৃক বিষয় আমি ফিরাইয়া আনিব— কিছুতেই ছাড়িয়া দিব না । বেশি দিন দেরিও নাই ।”
+
{{gap}}রাধামুকুন্দ অনেকসময় শশিভূষণকে গিয়া আশ্বাস দিত, "তোমার কোনো ভাবনা নাই দাদা। তোমার পৈতৃক বিষয় আমি ফিরাইয়া আনিব— কিছুতেই ছাড়িয়া দিব না। বেশিদিন দেরিও নাই।"
বাস্তবিক বেশি দিন দেরিও হইল না । শশিভূষণের সম্পত্তি যে ব্যক্তি নিলামে খরিদ করিয়াছিল সে ব্যবসায়ী লোক, জমিদারির কাজে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। সম্মানের প্রত্যাশায় কিনিয়াছিল, কিন্তু ঘর হইতে সদর-খাজনা দিতে হইত— এক পয়সা মুনফ{ পাইত না । রাধামুকুন্দ বৎসরের মধ্যে দুইএকবার ಗfಾ লষ্টয়া লুটপাট বুড়ি খান আদা করিয়া অগনিত । প্রজারাও তাহার বাঁধ্য ছিল। অপেক্ষাকৃত নিৰ্মজাতীয় ব্যবসাজীবী জমিদারকে তাহারা মনে মনে ঘৃণা করিত এবং রাধামুকুনের পরামর্শে ও সাহায্যে সর্বপ্রকারেই তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিতে লাগিল ।
+
বাস্তবিক বেশিদিন দেরিও হইল না। শশিভূষণের সম্পত্তি যে ব্যক্তি নিলামে খরিদ করিয়াছিল সে ব্যবসায়ী লোক, জমিদারির কাজে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। সম্মানের প্রত্যাশায় কিনিয়াছিল, কিন্তু ঘর হইতে সদর-খাজনা দিতে হইত— একপয়সা মুনাফা পাইত না। রাধামুকুন্দ বৎসরের মধ্যে দুই-একবার লাঠিয়াল লইয়া লুটপাট করিয়া খাজনা আদায় করিয়া আনিত। প্রজারাও তাহার বাধ্য ছিল। অপেক্ষাকৃত নিম্নজাতীয় ব্যাবসাজীবী জমিদারকে তাহারা মনে মনে ঘৃণা করিত এবং রাধামুকুন্দের পরামর্শে ও সাহায্যে সর্বপ্রকারেই তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিতে লাগিল।
অবশেষে সে বেচার বিস্তর মকদম-মামলা করিয়া বারবার অকৃতকার্য হইয়া এই ঝঞ্ঝাট হাত হইতে ঝাড়িয়া ফেলিবার জন্ত উংস্থক হইয়া উঠিল। সামান্ত মূল্যে রাধামুকুন্দ সেই পূর্ব সম্পত্তি পুনর্বার কিনিয়া লইলেন।
 
  +
লেখায় যত অল্প দিন মনে হইল আসলে ততটা নয়। ইতিমধ্যে প্রায় দশ বৎসর উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছে। দশ বৎসর পূর্বে শশিভূষণ যৌবনের সর্বপ্রান্তে গ্রেটবর্গের আরম্ভভাগে ছিলেন, কিন্তু এই আট-দশ বৎসবের মধ্যেই তিনি যেন অন্তরক্ষদ্ধ মানসিক উত্তাপের বাস্প্যানে চড়িয়া একেবারে সবেগে বাধক্যের মাঝখানে আসিয়া পৌছিয়াছেন। পৈতৃক সম্পত্তি যখন ফিলিপাইনে তখন কী সানি কেন আর তেমন গ্ৰন্থর হইত্বে পারিলেন
 
 
{{gap}}অবশেষে সে বেচারা বিস্তর মকদ্দমা-মামলা করিয়া বারবার অকৃতকার্য হইয়া এই ঝঞ্ঝাট হাত হইতে ঝাড়িয়া ফেলিবার জন্য উৎসুক হইয়া উঠিল। সামান্য মূল্যে রাধামুকুন্দ সেই পূর্ব সম্পত্তি পুনর্বার কিনিয়া লইলেন।
R
 
  +
না। ইনি"ব্যবহারে ধীরে বীণাৰ বোধ করি বিকল হইয়া গিয়াছে,
 
 
{{gap}}লেখায় যত অল্পদিন মনে হইল আসলে ততটা নয়। ইতিমধ্যে প্রায় দশ বৎসর উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছে। দশ বৎসর পূর্বে শশিভূষণ যৌবনের সর্বপ্রান্তে প্রৌঢ়বয়সের আরম্ভভাগে ছিলেন, কিন্তু এই আট-দশ বৎসরের মধ্যেই তিনি যেন অন্তররুদ্ধ মানসিক উত্তাপের বাষ্পযানে চড়িয়া একেবারে সবেগে বার্ধক্যের মাঝখানে আসিয়া পৌঁছিয়াছেন। পৈতৃক সম্পত্তি যখন ফিরিয়া পাইলেন তখন কী জানি কেন আর তেমন প্রফুল্ল হইতে পারিলেন না। বহুদিন অব্যবহারে হৃদয়ের বীণাযন্ত্র বোধ করি বিফল হইয়া গিয়াছে,
১৪২টি

সম্পাদনা