পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১২৬: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

আফতাব বট (আলোচনা | অবদান)
পাইউইকিবট স্পর্শ সম্পাদনা
Ahad.a007 (আলোচনা | অবদান)
পাতার অবস্থাপাতার অবস্থা
-
মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি
+
মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে
শীর্ষক (অন্তর্ভুক্ত হবে না):শীর্ষক (অন্তর্ভুক্ত হবে না):
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
{{rh|৬৩৬|গল্পগুচ্ছ|}}
পাতার প্রধান অংশ (পরিলিখিত হবে):পাতার প্রধান অংশ (পরিলিখিত হবে):
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
চোর, সে মনিবের টাকা ভাঙিয়া নিজের পেট ভরিতেছে। কথাটার কোনাে প্রমাণ
もやも গল্পগুচ্ছ ।
নাই এবং তাহা সত্যও নহে। নীলকণ্ঠের দ্বারা বিষয়ের উন্নতি হইয়াছে, এবং সে
চোর, সে মনিবের টাকা ভাঙিয়া নিজের পেট ভরিতেছে। কথাটার কোনো প্রমাণ নাই এবং তাহা সত্যও নহে। নীলকণ্ঠের দ্বারা বিষয়ের উন্নতি হইয়াছে, এবং সে চুরিও করে না। বনোয়ারি মনে করিয়াছিল, নীলকণ্ঠের সৎস্বভাবের প্রতি অটল বিশ্বাস আছে বলিয়াই কতা সকল বিষয়েই তাহার পরে এমন চোখ বজিয়া নিভর করেন। এটা তাহার ভ্রম। মনোহরলালের মনে নিশ্চয় ধারণা যে, নীলকন্ঠ সযোগ পাইলে চুরি করিয়া থাকে। কিন্তু, সেজন্য তাহার প্রতি তাঁহার কোনো অশ্রদ্ধা নাই। কারণ, আবহমান কাল এমনি ভাবেই সংসার চলিয়া আসিতেছে। অনচরগণের চুরির উচ্ছিটেই তো চিরকাল বড়োঘর পালিত। চুরি করিবার চাতুরী যাহার নাই, মনিবের বিষয়রক্ষা করিবার বৃদ্ধিই বা তাহার জোগাইবে কোথা হইতে । ধমপত্র যুধিষ্ঠিরকে দিয়া তো জমিদারির কাজ চলে না। মনোহর অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া উঠিয়া কহিলেন, “আচ্ছা, আচ্ছা, নীলকন্ঠ কী করে না-করে সে কথা তোমাকে ভাবিতে হইবে না।” সেই সঙ্গে ইহাও বলিলেন, “দেখো দেখি, বংশীর তো কোনো বালাই নাই। সে কেমন পড়াশনা করিতেছে! ঐ ছেলেটা তব একটা মানুষের মতো।”
চুরিও করে না। বনােয়ারি মনে করিয়াছিল, নীলকণ্ঠের সৎস্বভাবের প্রতি অটল
ইহার পরে অখিল মজুমদারের দাগতিকাহিনীতে আর রস জমিল না। সুতরাং, মনোহরলালের পক্ষে সেদিন বসন্তের বাতাস ব্যথা বহিল এবং দিঘির কালো জলের উপর চাঁদের আলোর ঝকঝকা করিয়া উঠিবার কোনো উপযোগিতা রহিল না। সেদিন সন্ধ্যাটা কেবল ব্যথা হয় নাই বংশী এবং নীলকণ্ঠের কাছে। জানলা বন্ধ করিয়া বংশী অনেক রাত পৰ্যন্ত পড়িল এবং উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করিয়া নীলকন্ঠ অধোঁক রাত কাটাইয়া দিল।
বিশ্বাস আছে বলিয়াই কর্তা সকল বিষয়েই তাহার ’পরে এমন চোখ বুজিয়া
কিরণ ঘরের প্রদীপ নিবাইয়া দিয়া জানলার কাছে বসিয়া। কাজকম আজ সে সকাল-সকাল সারিয়া লইয়াছে। রাত্রের আহার বাকি, কিন্তু এখনো বনোয়ারি খায় নাই, তাই সে অপেক্ষা করিতেছে। মধকৈবতের কথা তাহার মনেও নাই। বনোয়ারি ষে মধর দঃখের কোনো প্রতিকার করিতে পারে না, এ সম্বন্ধে কিরণের মনে ক্ষোভের লেশমাত্র ছিল না। তাহার স্বামীর কাছ হইতে কোনোদিন সে কোনো বিশেষ ক্ষমতার পরিচয় পাইবার জন্য উৎসকে নহে। পরিবারের গৌরবেই তাহার স্বামীর গৌরব। তাহার স্বামী তাহার শ্বশুরের বড়ো ছেলে, ইহার চেয়ে তাহাকে যে আরও বড়ো হইতে হইবে, এমন কথা কোনোদিন তাহার মনেও হয় নাই । ই’হারা যে গোঁসাইগঞ্জের সুবিখ্যাত হালদার-বংশ !
নির্ভর করেন। এটা তাহার ভ্রম। মনােহরলালের মনে নিশ্চয় ধারণা যে, নীলকণ্ঠ
বনোয়ারি অনেক রাত্রি পর্যন্ত বাহিরের বারান্ডায় পায়চারি সমাধা করিয়া ঘরে আসিল । সে ভুলিয়া গিয়াছে যে, তাহার খাওয়া হয় নাই। কিরণ যে তাহার অপেক্ষায় না-খাইয়া বসিয়া আছে এই ঘটনাটা সেদিন যেন তাহাকে বিশেষ করিয়া আঘাত করিল। কিরণের এই কটকীকারের সঙ্গে তাহার নিজের অকমণ্যতা যেন খাপ খাইল না। অন্নের গ্রাস তাহার গলায় বাধিয়া যাইবার জো হইল। বনোয়ারি অত্যন্ত উত্তেজনার সহিত সন্ত্রীকে বলিল, “যেমন করিয়া পারি মধকৈবতীকে আমি রক্ষা করিব।” কিরণ তাহার এই অনাবশ্যক উগ্রতায় বিস্মিত হইয়া কহিল, "শোনো একবার ! তুমি তাহাকে বাঁচাইবে কেমন করিয়া।”
সুযোগ পাইলে চুরি করিয়া থাকে। কিন্তু, সেজন্য তাহার প্রতি তাঁহার কোনাে
মধরে দেনা বনোয়ারি নিজে শোধ করিয়া দিবে এই তাহার পণ, কিন্তু বনোয়ারির
অশ্রদ্ধা নাই। কারণ, আবহমান কাল এমনি ভাবেই সংসার চলিয়া আসিতেছে।
অনুচরগণের চুরির উচ্ছিষ্টেই তাে চিরকাল বড়ােঘর পালিত। চুরি করিবার চাতুরী
যাহার নাই, মনিবের বিষয়রক্ষা করিবার বুদ্ধিই বা তাহার জোগাইবে কোথা হইতে।
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরকে দিয়া তাে জমিদারির কাজ চলে না। মনােহর অত্যন্ত বিরক্ত
হইয়া উঠিয়া কহিলেন, “আচ্ছা, আচ্ছা, নীলকণ্ঠ কী করে না-করে সে কথা তােমাকে
ভাবিতে হইবে না।” সেই সঙ্গে ইহাও বলিলেন, “দেখাে দেখি, বংশীর তাে কোনো
বালাই নাই। সে কেমন পড়াশুনা করিতেছে! ঐ ছেলেটা তবু একটু মানুষের
মতাে।”
<br>
{{gap}}ইহার পরে অখিল মজুমদারের দুর্গতিকাহিনীতে আর রস জমিল না। সুতরাং,
মনােহরলালের পক্ষে সেদিন বসন্তের বাতাস বৃথা বহিল এবং দিঘির কালাে জলের
উপর চাঁদের আলাের ঝক্ঝক্ করিয়া উঠিবার কোনাে উপযােগিতা রহিল না। সেদিন
সন্ধ্যাটা কেবল বৃথা হয় নাই বংশী এবং নীলকণ্ঠের কাছে। জানলা বন্ধ করিয়া
বংশী অনেক রাত পর্যন্ত পড়িল এবং উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করিয়া নীলকণ্ঠ
অর্ধেক রাত কাটাইয়া দিল।
<br>
{{gap}}কিরণ ঘরের প্রদীপ নিবাইয়া দিয়া জানলার কাছে বসিয়া। কাজকর্ম আজ সে
সকাল-সকাল সারিয়া লইয়াছে। রাত্রের আহার বাকি, কিন্তু এখনাে বনােয়ারি খায়
নাই, তাই সে অপেক্ষা করিতেছে। মধুকৈবর্তের কথা তাহার মনেও নাই। বনােয়ারি
যে মধুর দুঃখের কোনাে প্রতিকার করিতে পারে না, এ সম্বন্ধে কিরণের মনে ক্ষোভের
লেশমাত্র ছিল না। তাহার স্বামীর কাছ হইতে কোনদিন সে কোনাে বিশেষ ক্ষমতার
পরিচয় পাইবার জন্য উৎসুক নহে। পরিবারের গৌরবেই তাহার স্বামীর গৌরব।
তাহার স্বামী তাহার শ্বশুরের বড়াে ছেলে, ইহার চেয়ে তাহাকে যে আরও বড়াে
হইতে হইবে, এমন কথা কোনােদিন তাহার মনেও হয় নাই। ইঁহারা যে গোঁসাই-গঞ্জের সুবিখ্যাত হালদার-বংশ!
<br>
{{gap}}বনােয়ারি অনেক রাত্রি পর্যন্ত বাহিরের বারান্ডায় পায়চারি সমাধা করিয়া ঘরে
আসিল। সে ভুলিয়া গিয়াছে যে, তাহার খাওয়া হয় নাই। কিরণ যে তাহার অপেক্ষায়
না-খাইয়া বসিয়া আছে এই ঘটনাটা সেদিন যেন তাহাকে বিশেষ করিয়া আঘাত
করিল। কিরণের এই কষ্টস্বীকারের সঙ্গে তাহার নিজের অকর্মণ্যতা যেন খাপ
খাইল না। অন্নের গ্রাস তাহার গলায় বাধিয়া যাইবার জো হইল। বনােয়ারি অত্যন্ত
উত্তেজনার সহিত স্ত্রীকে বলিল, “যেমন করিয়া পারি মধুকৈবর্তকে আমি রক্ষা
করিব।” কিরণ তাহার এই অনাবশ্যক উগ্রতায় বিস্মিত হইয়া কহিল, “শােনো
একবার! তুমি তাহাকে বাঁচাইবে কেমন করিয়া।”
<br>
{{gap}} মধুর দেনা বনােয়ারি নিজে শােধ করিয়া দিবে এই তাহার পণ, কিন্তু বনােয়ারির