丐颈西可 আমরা ইংরেজিজাতিকে কতকটা জানি, এবং আমাদের বিশ্বাস যে, প্রাচীন হিন্দুজাতিকে তার চাইতেও বেশি জানি ; আমরা চিনি নে শুধু নিজেদের। আমরা নিজেদের চেনবার কোনো চেষ্টাও করি নে, কারণ আমাদের বিশ্বাস যে, সে জানার কোনো ফল নেই; তা ছাড়া নিজেদের ভিতর জািনবার মতো কোনো পদার্থ আছে কি না, সে বিষয়েও অনেকের সন্দেহ আছে। বাঙালির নিজস্ব বলে মনে কিংবা চরিত্রে যদি কোনো পদার্থ থাকে, তাকে আমরা ডৱাই ; তাই চোখের আড়াল করে রাখতে চাই। আমাদের ধারণা যে, বাঙালি তার বাঙালিত্ব না হারালে আর মানুষ হয় না। অবশ্য অপরের কাছে তিরস্কৃত হলে আমরা রাগ করে ঘরের ভাত (যদি থাকে তো) বেশি করে খাই; কিন্তু উপেক্ষিত হলেই আমরা বিশেষ ক্ষুন্ন হই। মান এবং অভিমান এক জিনিস নয়। প্রথমটির অভাব হতেই দ্বিতীয়টি জন্মলাভ করে। আমরা যে নিজেদের মান্য করি নে, তার স্পষ্ট প্ৰমাণ এই যে, আমরা উন্নতি অর্থে বুঝি - হয় বর্তমান ইউরোপের দিকে এগানো, নয়। অতীত ভারতবর্ষের দিকে পিছনে। আমরা নিজের পথ জানি নে বলে আজও মনঃস্থির করে উঠতে পারি নি যে, পূর্ব এবং পশ্চিম এই দুটির মধ্যে কোন দিক অবলম্বন করলে আমরা ঠিক গন্তব্য স্থানে গিয়ে পৌছব। কাজেই আমরা ইউরোপীয় সভ্যতার দিকে তিন-পা এগিয়ে আবার ভারতবর্ষের দিকে দু-পা পিছিয়ে আসি, আবার অগ্রসর হই, আবার পিছু হট । এই কুর্নিশ করাটাই আমাদের নব-সভ্যতার ধর্ম ও কর্ম। উক্ত ক্রিয়াটি আমাদের পক্ষে বিশেষ গৌরবসূচক না হলেও মেনে নিতে হবে। যা মনে সত্য বলে জানি, সে-সম্বন্ধে মনকে চােখ ঠেরে কোনো লাভ নেই। আমরা দেটিানার ভিতর পড়েছি- এই সত্যটি সহজে স্বীকার করে নিলে আমাদের উন্নতির পথ পরিষ্কার হয়ে আসবে। যা আজ উভয়সংকট বলে মনে হচ্ছে, তাই আমাদের উন্নতির স্রোতকে একটি নির্দিষ্ট পথে বদ্ধ রাখবার উভয়কূল বলে বুঝতে পারব। আমরা যদি চলতে চাই তো আমাদের একুল-ওকুল দুকূল রক্ষা করেই চলতে হবে। আমরা স্পষ্ট জানি আর না-জানি, আমরা এই উভয় কুল অবলম্বন করেই চলবাৰু চেষ্টা করছি। সকল দেশেরই সকল যুগের একটি বিশেষ ধৰ্ম আছে। সেই যুগধর্ম অনুসারে চলতে পারলেই মানুষ সার্থকতা লাভ করে। আমাদের এ যুগ সত্যযুগও নয় কলিযুগ নয়- শুধু তরজমার যুগ। আমরা শুধু কথায় নয়, কাজেও একেলে 88 বীরবলের হালখাতা বিদেশী এবং সেকেলে স্বদেশী সভ্যতার অনুবাদ করেই দিন কটাই। আমাদের মুখের প্ৰতিবাদও ঐ একই লক্ষণাক্ৰান্ত। আমরা সংস্কৃতের অনুবাদ করে নূতনের প্রতিবাদ করি, এবং ইংরেজির অনুবাদ করে পুরাতনের প্রতিবাদ করি। আসলে রাজনীতি সমাজনীতি ধর্ম শিক্ষা সাহিত্য-সকল ক্ষেত্রেই তরজমা করা ছাড়া আমাদের উপায়ান্তর নেই। সুতরাং আমাদের বর্তমান যুগটি তরজমার যুগ বলে গ্রাহ করে নিয়ে ঐ অনুবাদকার্যটি ষোলো আন ভালোরকম করার উপর আমাদের পুরুষাৰ্থ এবং কৃতিত্ব नेिछैद्ध क द्रgछ । পরের জিনিসকে আপনার করে নেবার নামই তরজমা । সুতরাং ও কাৰ্য করতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই, এবং নিজেদের দৈন্যের পরিচয় দেওয়া হয় মনে করেও লজ্জিত হবার কারণ নেই। কেননা, নিজের ঐশ্বৰ্য না থাকলে লোকে যেমন দান করতে পারে না, তেমনি নেবার যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে লোকে গ্রহণও করতে পারে না । স্মৃতির মতে, দাতা এবং গ্রহীতার পরস্পর যোগ না হলে দানক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। এ কথা সম্পূর্ণ সত্য। মৃত ব্যক্তি দাতাও হতে পারে না, গ্ৰহীতাও হতে পারে না ; কারণ দান এবং গ্ৰহণ উভয়ই জীবনের ধর্ম। বুদ্ধদেব যিশুখৃস্ট মহম্মদ প্রভৃতি মহাপুরুষদের নিকট কোটি কোটি মানব ধর্মের জন্য ঋণী। কিন্তু তঁদের দত্ত অমূল্য রত্ন তঁদের হাত থেকে গ্ৰহণ করবার ক্ষমতা কেবলমাত্র তাদের সমকালবতী জনকতক মহাপুরুষেরই ছিল। এবং শিষ্যপরম্পরায় তাদের মত আজ লক্ষ লক্ষ লোকের ঘরের সামগ্রী হয়ে উঠেছে। পৃথিবীতে গুরু হওয়া বেশি শক্ত, কিংবা শিষ্য হওয়া বেশি শক্ত, বলা কঠিন। র্যাদের বেদান্তশাস্ত্রের সঙ্গে স্বল্পমাত্রও পরিচয় আছে তঁরাই জানেন যে, পুরাকালে গুরুরা কাউকে ব্ৰহ্মবিদ্যা দান করবার পূর্বে শিষ্যের সে বিদ্যা গ্ৰহণ করবার উপযোগিতা সম্বন্ধে কিরূপ কঠিন পরীক্ষা করতেন। উপনিষদকে গুহ্যশাস্ত্র করে রাখবার উদ্দেশ্যই এই যে, যাদের শিষ্য হবার সামর্থ্য নেই, এমন লোকেরা ব্রহ্মবিদ্যা নিয়ে বিদ্যে ফলাতে না পারে। এ কথা সম্পূর্ণ সত্য যে, শক্তিমান গুরু হবার একমাত্র উপায় পূর্বে ভক্তিমান শিষ্য হওয়া। বর্তমান যুগে আমরা ভক্তিপদার্থটি ভুলে গেছি, আমাদের মনে আছে শুধু অভক্তি ও অতিভক্তি। এ দুয়ের একটিও সাধুতার লক্ষণ নয়, তাই ইংরেজি-শিক্ষিত লোকের পক্ষে অপর কাউকে শিক্ষা c\8 अनष्ठत । আমরা কথায় বলি, জ্ঞানলাভ করি ; কিন্তু আসলে জ্ঞান উত্তরাধিকারীস্বত্বে কিংবা প্ৰসাদস্বরূপে লাভ করবার পদার্থ নয়। আমরা সজ্ঞানে জন্মলাভ করি নে, কেবল উজ্ঞান অর্জন করবার ক্ষমতামাত্র নিয়ে ভূমিষ্ঠ হই। জানা-ব্যাপারটি মানসিক চেষ্টার 丐颈百可岗 8t অধীন, জ্ঞান একটি মানসিক ক্রিয়া মাত্র ; এবং সে ক্রিয়া ইচ্ছাশক্তির একটি বিশেষ বিকাশ। মন-পদার্থটি একটি বেওয়ারিশ স্লেট নয়, যার উপর বাহাজগৎ রূপ পেনসিল শুধু হিজিবিজি কেটে যায় ; অথবা ফোটােগ্রাফিক প্লেটও নয়, যা কোনোরূপ অন্তর্গঢ় রাসায়নিক প্রক্রিয়ার দ্বারা বাহ্যজগতের ছায়া ধরে রাখে। ষে প্রক্রিয়ার বলে আমরা জ্ঞাতব্য বিষয়কে নিজের ইচ্ছা এবং ক্ষমতা অনুসারে নিজের অন্তভূতি করে নিতে পারি। তারই নাম জ্ঞান । আমরা মনে-মনে যা তরজমা করে নিতে পারি, তাই আমরা যথার্থ জানি ; যা পারি নে, তার শুধু নামমাত্রের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। ঐ তরজমা করার শক্তির উপরই মানুষের মনুষ্যত্ব নির্ভর করে । সুতরাং একাগ্রভাবে তরজমা-কার্ষে ব্ৰতী হওয়াতে আমাদের পুরুষকার বৃদ্ধি পাবে বৈ ক্ষীণ হবে না। আমি পূর্বে বলেছি যে, আমরা সকলে মিলে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই, হয়। ইউরোপীয় নয় আৰ্য সভ্যতার তরজমা করবার চেষ্টা করছি, কিন্তু ফলে আমরা তরজমা না করে শুধু নকলই করছি। নকল করার মধ্যে কোনোরূপ গৌরব বা মনুষ্যত্ব নেই। মানসিক শক্তির অভাব্যবশতই মানুযে যখন কোনো জিনিস রূপান্তরিত করে নিজের জীবনের উপযোগী করে নিতে পারে না, অথচ লোভাবশত লাভ করতে চায়, তখন তার নকল করে। নকলে বাইরের পদাৰ্থ বাইরেই থাকে, আমাদের অন্তভূত হয় না ; তার দ্বারা আমাদের মনের এবং চরিত্রের কান্তি পুষ্ট হয় না, ফলে মানসিক শক্তির যথেষ্ট চর্চার অভাব্যবশত দিন দিন সে শক্তি হ্রাস হতে থাকে। ইউরোপীয় সভ্যতা আমরা নিজেদের চারিপাশে জড়ো করেও সেটিকে অন্তরঙ্গ করতে পারি নি; তার স্পষ্ট প্ৰমাণ এই যে, আমরা মাঝে মাঝে সেটিকে ঝেড়ে ফেলবার জন্য ছট্‌ফটু করি। মানুযে যা আত্মসাৎ করতে পারে না। তাই ভস্মসাৎ করতে চায়। আমরা মুখে যাই বলি-নে কেন, কাজে পূর্ব সভ্যতা নয়, পশ্চিম সভ্যতারই নকল করি ; তার কারণ ইউরোপীয় সভ্যতা আমাদের চোখের সুমুখে সশরীরে বর্তমান, অপরপক্ষে আৰ্য সভ্যতার প্ৰেতাত্মামাত্র অবশিষ্ট । প্ৰেতাত্মাকে আয়ত্ত করতে হলে বহু সাধনার আবশ্যক। তা ছাড়া প্ৰেতাত্মা নিয়ে র্যারা কারবার করেন। তঁরা সকলেই জানেন যে, দেহমুক্ত আত্মার সম্পর্কে আসতে হলে অপর-একটি দেহতে তাকে আশ্রয় দেওয়া চাই ; একটি প্রাণীর মধ্যস্থত ব্যতীত প্ৰেতাত্মা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না। আমাদের সমাজের প্রাচীন দেহ আছে বটে, কিন্তু প্ৰাণ নেই। শব্ব প্ৰেতাত্মা-কর্তৃক আবিষ্ট হলে মানুষ হয় না, বেতাল হয়। বেতালসিদ্ধ হবার তুরাশা খুব কম লোকেই রাখে ; কাজেই শুধু মন নয়, পঞ্চেন্দ্ৰিয়দ্বারা গ্ৰাহ যে* ইউরোপীয় সভ্যতা আমাদের প্রত্যক্ষ রয়েছে, সাধারণত লোকে তারই অনুকরণ করে } অনুকৰণ ত্যাগ করে যদি আমরা এই নব-সভ্যতার অনুবাদ করতে পারি, তা হলেই সে 8V বীৱবলের হালখাতা সভ্যতা নিজস্ব হয়ে উঠবে, এবং ঐ ক্রিয়ার সাহায্যেই আমরা নিজেদের প্রাণের পরিচয় পাব, এবং বাঙালির বাঙালিত্ব ফুটিয়ে তুলব। তরজমার আবশ্যকত্ব স্থাপনা করে এখন কী উপায়ে আমরা সে বিষয় কৃতকাৰ্য হব সে সম্বন্ধে আমার দু-চারটি কথা বলবার আছে। সাধারণত লোকের বিশ্বাস যে, কথার চাইতে কাজ শ্রেষ্ঠ। এ বিশ্বাস বৈষয়িক হিসাবে সত্য এবং আধ্যাত্মিক হিসাবে মিথ্যা। মানুষমাত্রেই নৈসৰ্গিক প্ৰবৃত্তির বলে সংসারযাত্রার উপযোগী সকল কাৰ্য করতে পারে ; কিন্তু তার অতিরিক্ত কর্ম— যার ফল একে নয়, দশে লাভ করে, তা- করবার জন্য মনোেবল আবশ্যক। সমাজে সাহিত্যে যা-কিছু মহৎকৰ্য অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মূলে মন-পদার্থটি বিদ্যমান। যা মনে ধরা পড়ে তাই প্ৰথমে কথায় প্ৰকাশ পায়, সেই কথা অবশেষে কাৰ্যরূপে পরিণত হয় ; কথার সূক্ষ্মশরীর কার্যরূপ স্থূলদেহ ধারণ করে। আগে দেহটি গড়ে নিয়ে, পরে তার প্রাণপ্ৰতিষ্ঠা করবার চেষ্টাটি একেবারেই বৃথা। কিন্তু আমরা রাজনীতি সমাজ-নীতি ধর্ম সাহিত্য সকল ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় সভ্যতার প্রাণের সন্ধান না করে শুধু তার দেহটি আয়ত্ত করবার চেষ্টা করায় নিত্যই ইতো নষ্টস্ততে ভ্ৰষ্ট হচ্ছি। প্ৰাণ নিজের দেহ নিজের রূপ নিজেই গড়ে নেয়। নিজের অন্তর্নিহিত প্ৰাণশক্তির বলেই বীজ ক্রমে বৃক্ষ-রূপ ধারণ করে। সুতরাং আমরা যদি ইউরোপীয় সভ্যতার প্রাণে প্ৰাণবন্ত হয়ে উঠতে পারি, তা হলেই আমাদের সমাজ নবকলেবর ধারণ করবে। এই নবসভ্যতাকে মনে সম্পূর্ণরূপ পরিপাক করতে পারলেই আমাদের কান্তি পুষ্ট হবে। কিন্তু যতদিন সে সভ্যতা আমাদের মুখস্থ থাকবে কিন্তু উদারস্থ হবে না, ততদিন তার কোনো অংশই আমরা জীৰ্ণ করতে পারব না। আমরা যে ইউরোপীয় সভ্যতা কথাতেও তরজমা করতে পারি নি, তার প্রত্যক্ষ প্ৰমাণ এই যে, আমাদের নূতন শিক্ষালব্ধ মনোভাবসকল শিক্ষিত লোকদেরই রসনা আশ্রয় করে রয়েছে, সমগ্ৰ জাতির মনে স্থান পায় নি। আমরা ইংরেজি ভাব ভাষায় তরজমা করতে পারি নে বলেই, আমাদের কথা দেশের লোকে বোঝে না, বোঝে শুধু ইংরেজি-শিক্ষিত লোক। এদেশের জনসাধারণের নেবার ক্ষমতা কিছু কম নয়, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে তারা যে কিছু পায় না, তার একমাত্র কারণ আমাদের অন্যকে দেবার মতো কিছু নেই; আমাদের নিজস্ব বলে কোনো পদার্থ নেই- আমরা পরের সোনা কানে দিয়ে অহংকারে মাটিতে পা দিই নে। অপরপক্ষে আমাদের পূর্বপুরুষদের দেবার মতো ধন ছিল তাই তাদের মনোভাব নিয়ে আজও সমগ্র জাতি ধনী হয়ে আছে। ঋষিবাক্যসকল লোকমুখে এমনি সুন্দর ভাবে তরজমা হয়ে গেছে যে, তা আর তরজমা বলে কেউ বুঝতে পারেন না। এ দেশের অশিক্ষিত লোকের রচিত বাউলের গান কাউকে আর উপনিষদের ভাষায় অনুবাদ করে VSTU a বোঝাতে হয় না, অথচ একই মনোভাব ভাষান্তরে বাউলের গানে এবং উপনিষদে দেখা দেয়। আত্মা যেমন এক দেহ ত্যাগ করে অপর দেহ গ্ৰহণ করলে পূৰ্বদেহের স্মৃতিমাত্রও রক্ষা করে না, মনোভাবও যদি তেমনি এক ভাষার দেহত্যাগ ক’রে অপর একটি ভাষার দেহ অবলম্বন করে, তা হলেই সেটি যথার্থ অনূদিত হয়। উপযুক্ত তরজমার গুণেই বৈদান্তিক মনোভাবসকল হিন্দুসন্তানমাত্রেরই মনে অল্পবিস্তর জড়িয়ে আছে। এ দেশে এমন লোক বোধ হয় নেই, যার মনটিকে নিৎড়ে নিলে অন্তত এক ফোটাও গৈরিক রঙ না পাওয়া যায়। আৰ্যসভ্যতার প্ৰেতাত্মা উদ্ধার করবার চেষ্টাটা একেবারেই অনর্থক, কারণ তার আত্মাটি আমাদের দেহাভ্যন্তরে সুষুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যদি আবশ্যক হয় তো সেটিকে সহজেই জাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ঠিক কথাটি বলতে পারলে অপরের মনের দ্বার আরব্য-উপন্যাসের দস্যদের ধনভাণ্ডারের দ্বারের মতো। আপনি খুলে যায়। আমরা, ইংরেজি-শিক্ষিত লোকের জনসাধারণের মনের দ্বার খোলবার সংকেত জানি নে, কারণ আমরা তা জানিবার চেষ্টাও করি নে। যে-সকল কথা আমাদের মুখের উপর আলগা হয়ে রয়েছে কিন্তু মনে প্ৰবেশ করে নি, সেগুলি আমাদের মুখ থেকে খসে পড়লেই যে অপরের অন্তরে প্রবেশলাভ করবে, এ আশা বৃথা । আমরা যে আমাদের শিক্ষালব্ধ ভাবগুলি তরজমা করতে অকৃতকাৰ্য হয়েছি, তার প্ৰমাণ তো সাহিত্যে এবং রাজনীতিতে দু বেলাই পাওয়া যায়। যেমন সংস্কৃত-নাটকের প্ৰাকৃত ‘সংস্কৃত-ছায়া’র সাহায্য ব্যতীত বুঝতে পারা যায় না, তেমনি আমাদের নবসাহিত্যের কৃত্রিম প্ৰাকৃত ইংরেজি-ছায়ার সাহায্য ব্যতীত বোঝা যায় না। সমাজে না হোক, সাহিত্যে ‘চুরি বিদ্যে বড়োবিছো যদি না পড়ে ধরা’। কিন্তু আমাদের নব-সাহিত্যের বস্তু যে চোরাই-মাল, তা ইংরেজি-সাহিত্যের পাঠকমাত্রেরই কাছে ধরা পড়ে। আমরা ইংরেজি-সাহিত্যের সোনারুপো যা চুরি করি, তা গলিয়ে নিতেও শিখি নি। এই তো গেল সাহিত্যের কথা । রাজনীতি বিষয়ে আমাদের সকল ব্যাপার যে আগাগোড়াই নকল, এ বিষয়ে বোধ হয়। আর দু-মত নেই, সুতরাং সে সম্বন্ধে বেশি-কিছু বলা নিতান্তই নিম্প্রয়োজন। আমাদের মনে-মনে বিশ্বাস যে, ধর্ম এবং দর্শন এই দুটি জিনিস আমাদের একচেটি ; এবং অন্য কোনো বিষয়ে না হোক, এই দুই বিষয়ে আমাদের সহজ কৃতিত্বকেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ইংরেজি-শিক্ষিত ভারতবাসীদের এ বিশ্বাস যে সম্পূর্ণ অমূলক, তার প্ৰমাণস্বরূপ দেখানো যেতে পারে যে, ঐ শ্রেণীর লোকের হাতে মনুর ধর্ম রিলিজিঅন হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ ভুল তরজমার বলে ব্যবহারশান্ত্র আধ্যাত্মিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ধর্মশাস্ত্র এবং মোক্ষশাস্ত্রের ভেদজ্ঞান আমাদের লুপ্ত হয়েছে। ধর্মের অর্থ ধরে রাখা এবং 3r বারবলের হালখাতা মোক্ষের অর্থ ছেড়ে দেওয়া, সুতরাং এ দুয়ের কাজ যে এক নয়, তা শুধু ইংরেজিনবিশ আৰ্য-সন্তানরাই বুঝতে পারেন না। গীতা আমাদের হাতে পড়বামাত্র তার হরিভক্তি উড়ে যায়। সেই কারণে শ্ৰীযুক্ত হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ‘গীতায় ঈশ্বরবাদ"এর প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নব্য পণ্ডিতসমাজে শুধু বিবাদ-বিসম্বাদের সৃষ্টি করেছিলেন। তার পর গীতার কর্ম ইংরেজি work-রূপ ধারণ করে আমাদের কাছে গ্ৰাহ হয়েছে ; অর্থাৎ কর্মকাণ্ডের কর্ম কাণ্ডহীন হয়েই আমাদের কাছে উচ্চ বলে গণ্য হয়েছে। এই ভুল তরজমার প্রসাদেই, যে কর্মের উদ্দেশ্য পরের হিত এবং নিজের আত্মার উন্নতিসাধন-পরলোকের অভু্যদয়ও নয়, সেই কৰ্ম আজকাল ইহলোকের অভু্যদয়ের জন্য ধর্ম বলে গ্ৰাহ হয়েছে। যে কাজ মানুষে পেটের দায়ে নিত্য করে থাকে, তা করা কর্তব্য- এইটুকু শেখাবার জন্য ভগবানের যে ভোগায়তন দেহ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবার আবশ্যকতা ছিল না-এ সোজা কথাটাও আমরা বুঝতে পারি নে। ফলে আমাদের-কৃত গীতার অনুবাদ বক্তৃতাতেই চলে, জীবনে কোনো कांख लिicों का । এক দিকে আমরা এ দেশের প্রাচীন মতগুলিকে যেমন ইংরেজি পোশাক পরিয়ে তার চেহারা বিলকুল বদলে দিই, তেমনি অপর দিকে ইউরোপীয় দৰ্শন-বিজ্ঞানকেও আমরা সংস্কৃতভাষার ছদ্মবেশ পরিয়ে লোকসমাজে বার করি। নিতাই দেখতে পাই যে, খাটি জার্মান মাল স্বদেশী বলে পাঁচজনে সাহিত্যের বাজারে কাটাতে চেষ্টা করছে । হেগেলের দর্শন শংকরের নামে বেনামি করে অনেকে কতক পরিমাণে অজ্ঞ লোকদের কাছে চালিয়েও দিয়েছেন। আমাদের মুক্তির জন্য হেগেলেরও আবশ্যক আছে, শংকরেরও আবশ্যক আছে ; কিন্তু তাই বলে হেগেলের মস্তক মুণ্ডন করে তঁকে আমাদের স্বহস্তেরচিত শত গ্ৰন্থিময় কন্থা পরিয়ে শংকর বলে সাহিত্যসমাজে পরিচিত করে দেওয়াতে কোনো লাভ নেই। হেগেলকে ফকির না করে যদি শংকরকে গৃহস্থ করতে পারি, তাতে আমাদের উপকার বেশি। বিজ্ঞান সম্বন্ধেও ঐরূপ ভুল তরজমা অনেক অনর্থ ঘটিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ইভলিউশনের কথাটা ধরা যাক। ইভলিউশনের দোহাই না দিয়ে আমরা আজকাল কথাই কইতে পারি নে। আমরা উন্নতিশীল হই। আর স্থিতিশীলই হই আমাদের সকলপ্রকার শীলই ঐ ইভলিউশন আশ্রয় করে রয়েছে। সুতরাং ইভলিউশনের যদি আমরা ভুল অৰ্থ বুঝি, তা হলে আমাদের সকল কাৰ্যই ধে আরম্ভে পর্যবসিত হবে সে তো ধরা কথা। বাংলায় আমরা ইভলিউশন 'ক্রমবিকাশবাদ” ‘ক্রমোন্নতিবাদ’ ইত্যাদি দি শব্দে তরজমা করে থাকি। ঐ রূপ তরজমার ফলে আমাদের মনে এই ধারণা জন্মে গেছে যে, 丐码可M CC) মাসিকপত্রের গল্পের মতো জগৎ-পদার্থটি ক্রমশ প্ৰকাশ্য। সৃষ্টির বইখানি আদ্যোপান্ত লেখা হয়ে গেছে, শুধু প্ৰকৃতির ছাপাখানা থেকে অল্প-অল্প করে বেরিচ্ছে, এবং যে অংশটুকু বেরিয়েছে তার থেকেই তার রচনাপ্ৰণালীর ধরন আমরা জানতে পেরেছি। সে প্ৰণালী হচ্ছে ক্রমোন্নতি, অর্থাৎ যত দিন যাবে তত সমস্ত জগতের এবং তার অন্তভূত জীবজগতের এবং তার অন্তর্ভূত মানবসমাজের এবং তার অন্তভূতি প্ৰতি মানবের উন্নতি আনিবাৰ্য । প্ৰকৃতির ধর্মই হচ্ছে আমাদের উন্নতি সাধন করা । সুতরাং আমাদের তার জন্য নিজের কোনো চেষ্টার আবশ্যক নেই। আমরা শুয়েই থাকি আর ঘুমিয়ে থাকি, জাগতিক নিয়মের বলে আমাদের উন্নতি হবেই। এই কারণেই এই ক্রমোন্নতিবাদ-আকারে ইভলিউশন আমাদের স্বাভাবিক জড়তা এবং নিশ্চেষ্টতার অনুকুল মত হয়ে দাড়িয়েছে। তা ছাড়া এই ‘ক্রম’-শব্দটি আমাদের মনের উপর এমনি আধিপত্য স্থাপন করেছে যে, সেটিকে অতিক্রম করা পাপের মধ্যে গণ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমরা নানা কাজের উপক্ৰমণিকা করেই সন্তুষ্ট থাকি, কোনো বিষয়েরই উপসংহার করাটা কর্তব্যের মধ্যে গণ্য করি নে ; প্ৰস্তাবনাতেই আমাদের জীবন-নাটকের অভিনয় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আসলে ইভলিউশন ক্রমবিকাশও নয় ক্রমোন্নতিও নয়। কোনো পদার্থকে প্ৰকাশ করবার শক্তি জড়প্ৰকৃতির নেই, এবং তার প্রধান কাজই হচ্ছে সকল উন্নতির পথে বাধা দেওয়া । ইভলিউশন জড়াজগতের নিয়ম নয়, জীবজগতের ধর্ম । ইভলিউশনের মধ্যে শুধু ইচ্ছাশক্তিরই বিকাশ পরিস্ফুট। ইভলিউশন-অৰ্থে দৈব নয়, পুরুষকার। তাই ইভলিউশনের জ্ঞান মানুষকে অলস হতে শিক্ষা দেয় না, সচেষ্ট হতে শিক্ষা দেয়। আমরা ভুল তরজমা করে ইভলিউশনকে আমাদের চরিত্র-হীনতার সহায় করে এনেছি। ইউরোপীয় সভ্যতার হয় আমরা তরজমা করতে কৃতকাৰ্য হচ্ছি নে, নয়। ভুল তরজমা করছি, তাই আমাদের সামাজিক জীবনে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় না, বরং অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। অথচ আমাদের বিশ্বাস যে আমরা দু পাতা ইংরেজি পড়ে নব্যব্ৰাহ্মণসম্প্রদায় হয়ে উঠেছি। তাই আমরা নিজেদের শিক্ষার দৌড় কত সে বিষয়ে লক্ষ না করে জনসাধারণকে শিক্ষা দিবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছি। এ সত্য আমরা ভুলে যাই যে, ইউরোপীয় সাহিত্য দর্শন বিজ্ঞান থেকে যদি আমরা নতুন প্ৰাণ লাভ করে থাকতুম তা হলে জনসাধারণের মধ্যে আমরা নবপ্রাণের সঞ্চারও করতে পারতুম। আমরা অধ্যয়ন করে যা লাভ করেছি তা অধ্যাপনার দ্বারা দেশস্কন্ধ লোককে দিতে পারতুম। আমরা আমাদের culture কে nationalize করতে পারি নি বলেই গবর্নমেণ্টকে পরামর্শ দিচ্ছি যে আইনের দ্বারা বাধ্য করে জনসাধারণকে শিক্ষা 8 O বীরবলের হালখাতা দেওয়া হোক। মান্য বর শ্ৰীযুক্ত গোপালকৃষ্ণ গোখলে যে হুজুগটির মুখপাত্র হয়েছেন, তার মূলে ইউরোপের নকল ছাড়া আর কোনো মনোভাব নেই। তাই গবর্নমেণ্টকে BDBBDBBD BDDD DBD DD BBD DBBDDDB BLLBD DBDBYSS BBDSDBDDD Bii শুধু লিখতে ও পড়তে শেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবর্নমেন্টই স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে আমাদের লিখতে পড়তে শিখিয়েছেন। সুতরাং গবর্নমেন্টকে গ্রামে গ্রামে স্কুল স্থাপন করে রাজ্যিসুদ্ধ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাতেই হবে, এই হচ্ছে আমাদের হল রাজনৈতিক আবদার। যতদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের নব-শিক্ষা মজাগতি করতে না পারব ততদিন জনসাধারণকে পড়তে শিখিয়ে তাদের যে কী বিশেষ উপকার করা হবে তা ঠিক বোঝা যায় না। আমরা আজ পর্যন্ত ছোটাে ছেলেদের উপযুক্ত একখানিও পাঠ্যপুস্তক রচনা করতে পারি নি। পড়তে শিখলে এবং পড়বার অবসর থাকলে এবং বই কেনবার সংগতি থাকলে প্ৰাইমারি স্কুলে শিক্ষাপ্রাপ্ত চাঘার ছেলেরা সেই রামায়ণDDBDDBDD BBDDJS DDBBBDB DDtBBD DK DBBD DBS BDB DS SBDBEYS মহাভারতের কথা যে বইয়ে পড়ার চাইতে মুখে শোনা অনেক বেশি শিক্ষাপ্ৰদ, তা নব্যশিক্ষিত ভারতবাসী ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করবেন না। মুখের বাক্যে প্ৰাণ আছে, লেখার ধ্বনিহীন বাক্য আধমরা । সে যাই হোক, আমাদের দেশের লৌকিক শিক্ষার জ্ঞান যদি আমাদের থাকত এবং সেই শিক্ষার প্রতি অযথা অবজ্ঞা যদি আমাদের মনে না। স্থান পেত, তা হলে না-ভেবেচিন্তে, লোকশিক্ষার দোহাই দিয়ে, সেই চিরাগত লৌকিক শিক্ষা নষ্ট করতে আমরা উদ্যত হাতুম না। সংস্কৃতসাহিত্যের সঙ্গে যাৱ পরিচয় আছে তিনিই জানেন যে, আমাদের পূর্বপুরুষেরালোকাচার, লৌকিক ধৰ্ম, লৌকিক ন্যায় এবং লৌকিক বিদ্যাকে কিরূপ মান্য করতেন। কেবলমাত্র বর্ণপরিচয় হলেই লোকে শিক্ষিত হয় না ; কিন্তু ঐ পরিচয় লাভ করতে গিয়ে যে বর্ণধর্ম হারানো অসম্ভব নয়, তা সকলেই জানেন। মাসিক পাচটাকা বেতনের গুরু-নামক গোরুর দ্বারা তাড়িত হওয়া অপেক্ষা চাষার ছেলের পক্ষে গোরু--তাড়ানো শ্ৰেয়। ‘ক’-অক্ষর যে-কোনো লোকের YBB BDDD BD BD DOOTD DBDSSig DD BDBBD BBDBBBD Dt SS DDSuuSiuDDDYS LB আমাদের রক্তমাংস হওয়া উচিত, এ ধারণা সকলের নেই। কেবল স্বাক্ষর করতে শেখার চাইতে নিরক্ষর থাকাও ভালো, কারণ পৃথিবীতে আঙুলের ছাপ রেখে যাওয়াতেই মানবজীবনের সার্থকতা। আমাদের আহার পরিচ্ছদ গৃহ মন্দির- সব জিনিসেই আমাদের নিরক্ষর লোকদের আঙুলের ছাপ রয়েছে। শুধু আমরা শিক্ষিতসম্প্রদােয়ই ভারতমাতাকে পরিষ্কার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে যাচ্ছি। পতিতের উদ্ধারকার্যটি খুব ভালো ; ওর একমাত্র দোষ এই যে, যারা পরকে উদ্ধার করবার জন্য ব্যন্ত তাৱা Včko (S নিজদের উদ্ধার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন। আমরা যতদিন শুধু ইংরেজির নীচে স্বাক্ষর দিয়েই ক্ষান্ত থাকিব, কিন্তু সাহিত্যে আমাদের আঙুলের ছাপ कूट् न, ऊऊबि एiशद्म নিজেরাই যথার্থ শিক্ষিত হব না, পরকে শিক্ষা দেওয়া তো দূবের কথা। আমি জানি যে, আমাদের জাতিকে খাড়া করবার জন্য অসংখ্য সংস্কারের দরকার আছে। কিন্তু আর যে-কোনো সংস্করণের আবশ্যক থাক-না কেন, শিক্ষিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার বটতলার সংস্করণের আবশ্যক নেই। AE ?\)) I বইয়ের ব্যাবসা সাধারণত লোকের একটা বিশ্বাস আছে যে, বই-জিনিসটে পড়া সহজ কিন্তু লেখা কঠিন। অপর দেশে যাই হোক, এ দেশে কিন্তু নিজে বই লেখার চাইতে অপরকে পড়ানো ঢের বেশি শক্ত । শুনতে পাই যে, কোনো বইয়ের এক হাজার কপি ছাপালে এক বৎসরে তার একশোও বিক্রি হয় না। সাধারণ লেখকের কথা ছেড়ে দিলেও, নামজাদা লেখকদেরও বই বাজারে কাটে কম, কাটে বেশি পোকায় । বাংলাদেশে লেখকের সংখ্যা বেশি কিংবা পাঠকের সংখ্যা বেশি, বলা কঠিন। এ বিষয়ে যখন কোনো স্ট্যাটিসটিকস পাওয়া যায় না, তখন ধরে নেওয়া যেতে পারে যে মোটামুটি দুই সমান। কেউ-কেউ এমন কথাও বলে থাকেন যে, লেখা ও পড়া এ দুটি কাজ অনেক স্থলে একই লোকে করে থাকেন। এ কথা যদি সত্য হয়, তা হলে অধিকাংশ লেখকের পক্ষে নিজের লেখা নিজে পড়া ছাড়া উপায়ান্তর নেই। কেননা, পরের বই কিনতে পয়সা লাগে, কিন্তু নিজের বই বিনে-পয়সায় পাওয়া যায়। অবশ্য কখনো-কখনো কোনো-কোনো বই উপহারস্বরূপে পাওয়া যায়, কিন্তু সে-সব বই প্ৰায়ই অপাঠ্য। এরূপ অবস্থায় বঙ্গসাহিত্যের ঘূর্তি হওয়া প্ৰায় একরূপ অসম্ভব। কারণ, সাহিত্য-পদার্থটি যাই হোক-না কেন, বই হচ্ছে শুধু BDDD BBS TDBDB DBDS DgL DDD BB DD BB D SKBBDB পাতার মতো বইয়ের পাতাও বেশি দিন টেকে না, এবং একবার ঝরে গেলে উনুন ধরানো ছাড়া অন্য কোনো কাজে লাগে না । এ অবস্থা যে সাহিত্যের পক্ষে শোচনীয় সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কার দোষে যে এরূপ অবস্থা ঘটেছে, লেখকের কি পাঠকের, সে কথা বলা কঠিন। অবশ্য লেখকের পক্ষে এই বলবার আছে যে, এক টাকা দিয়ে একখানি বই কেনার চাইতে, একশো টাকা দিয়ে একখানি বই ছাপানো ঢের বেশি কষ্টসাধা । অপর পক্ষে পাঠক বলতে পারেন যে, একশোটি টাকা অন্তত ধার করেও যে-সে। বাংলা বই ছাপানো যেতে পারে, কিন্তু নিজের বুদ্ধি অপরকে ধার না দিয়ে যে-সে। বাংলা বই পড়া যেতে পারে না। অর্থকষ্ট্রের চাইতে মনঃকষ্ট অধিক অসহ্য। আমার মতে দু পক্ষের মত এক হিসেবে সত্য হলেও আর-এক হিসেবে মিথ্যা। বই লিখলেই যে ছাপাতে হবে, এইটি হচ্ছে লেখকদের ভুল ; আর বই কিনলেই যে পড়তে হবে, এইটি হচ্ছে পাঠকদের ভুল। বই-লেখাজিনিসটে একটা শাখমাত্র হওয়া উচিত নয়, কিন্তু বই-কোেনাটা শখ ছাড়া আর-কিছু श्eद्मा छैप्लिङ बश्न । " ংলাদেশে বাংলাসাহিত্যের শ্ৰীবৃদ্ধি হওয়া উচিত কি না, সে-বিষয়ে আমি কোনো বইয়ের ব্যাবসা C আলোচনা করতে চাই নে। কারণ, সাহিত্য-শব্দ উচ্চারণ করবমাত্র নানা তর্কবিতৰ্ক উপস্থিত হয়। আমনি চার ধার থেকে এই-সব দার্শনিক প্রশ্ন ওঠে, সাহিত্য কাকে বলে, সাহিত্যে কার কী ক্ষতি হয় এবং কার কী উপকার হয় ? তার পর সাহিত্যকে সমাজের শাসনাধীন করে তার শাস্তির জন্য সমালোচনার দণ্ডবিধি-আইন গড়বার কথা হয় । সমালোচকেরা একাধারে ফরিয়াদি উকিল বিচারক এবং জল্লাদ হয়ে ওঠেন। সুতরাং কথাটা দাড়াচ্ছে এই যে, সাহিত্য যে কী সে সম্বন্ধে যখন এখনো একটা জাতীয় ধারণা জন্মে যায় নি, তখন এ বিষয়ে এক কথা বললে হাজার কথা শুনতে হয়। কিন্তু বইজিনিসটে কী, তা সকলেই জানেন। এবং বাংলা বই যে বাজারে চলা উচিত সে বিষয়ে বোধ হয়। দু-মত নেই, কারণ ও-জিনিসটে স্বদেশী শিল্প। যদি কারো এ বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তা হলে তা ভাঙবার জন্যে দেখিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, নব্য স্বদেশী শিল্পের যে দুটি প্ৰধান লক্ষণ সে দুটিই এতে বর্তমান। প্ৰথমত নব্যসাহিত্য-পদার্থটা স্বদেশী নয়, দ্বিতীয়ত তাতে শিল্পের কোনো পরিচয় নেই। BESDELLBB DDBD DDBBDDBB BBD KB BDt BBB D DD DLDDD শখ হিসেবে দেখব, ততদিন বইয়ের ব্যাবসা ভালো করে চলবে না। সুতরাং বঙ্গসাহিত্যের উন্নতি, অর্থাৎ বিস্তার, করতে হলে আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, এ যুগে সাহিত্য প্ৰধানত লেখাপড়ার জিনিস নয়, কেনাবেচার জিনিস। কোনো রচনাকে যদি আপরে অমূল্য বলে তা হলে রচয়িতার রাগ করা উচিত, কারণ সে পদার্থের মূল্য নেই, তা যত্ন করে পড়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যাবসার দুটি দিক আছে : প্ৰথম, প্রোডাকশন ( তৈরি করা ), দ্বিতীয়ত, ডিসট্রিবিউশন ( কাটানো ) । মানবজীবনের এবং মালের জীবনের একই ইতিহাস, তার একটা আরম্ভ আছে একটা শেষ আছে। যে তৈরি করে তার হাতে মালের জন্ম এবং যে কেনে তার হাতে তার মৃত্যু। জন্ম-মৃত্যু পৰ্যন্ত কোনো-একটি মালকে দশ হাত ফিরিয়ে নিয়ে বেড়ানোর নাম হচ্ছে ডিসট্রিবিউশন। সুতরাং বইয়ের জন্মবৃত্তান্ত এবং ভ্ৰমণবৃত্তান্ত দুটির প্রতিই আমাদের সমান লক্ষ্য রাখতে হবে। এ স্থলে বলে রাখা আবশ্যক যে, আমি সাহিত্যব্যবসায়ী নই ; অর্থাৎ অন্যাবধি বই আমিই কিনেই আসছি, কখনো বেচি নি। সুতরাং কী কী উপায় অবলম্বন করলে বই বাজারে কাটানো যেতে পারে, সে বিষয়ে আমি ক্রেতার দিক থেকে যা বলবার আছে তাই বলতে পারি, বিক্রেতা হিসেবে কোনো কথাই বলতে পারি নে। সচরাচরদেখতে পাই যে, বই বিক্রি করবার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া, অর্থমূল্যে কিংবা সিকিমূল্যে বিক্রি করা, ফাউ দেওয়া এবং উপহার দেওয়া প্রভৃতি উপায় অবলম্বন করা