বেহেস্তের বয়ান

বেহেস্তের বয়ান প্রচ্ছদ.jpg

বেহেস্তের বয়ান।

 

 

A DESCRIPTION OF HEAVEN.

 

——    ——

 

মুমন্নিফ্।

শ্রীবিপিন বিহারী শাহ।

 

 

কলিকাতা;
চৌরঙ্গী রোড ২৩ নং ভবনে প্রকাশিত।

C. V. E. S.

মূল্য এক পয়সা।

বেহেস্তের বয়ান।

বেহেস্ত উমদা জগা সব লোকে জানে।
খোদার বসতি সেথা সকলেতে মানে॥
ফেরিস্তা আছয়ে সেথা হাজার হাজার।
কে করে শুমার বল তাকত কাহার্‌॥
খোদাবন্দ আছে বসি তখত্ উপর।
আস্‌মান দুনিয়া চলে তাঁহার নজর॥
কোন চিজ নাহি ছিপা তাঁহার হজুর।
রোশন করিয়া আছে সে জনার নুর॥
পাক বলি খোদাওন্দে সকলেতে জানি।
পাক বলি দুনিয়াতে সকলে বাখানি॥
নাপাকি তাঁহার কাছে পৌঁছিবারে নারে।
জগা নাহি দিবে সেথা আল্লা গুনাগারে॥
কাহারে করিতে গুনা বেহেস্ত মাঝারে।
হুকুম না দিবেক আল্লা মৌতের পরে॥
আদালত পরে মোমিন খুশি হাসিল করে।
গুনাগার পরে গজব আল্লা আসি পড়ে॥
কেহ গুনাহ করতে নারে থাকিয়া সেথায়।
যে করে সে যায় পড়ি খোদার গোসায়॥
ধড়ে থেকে যবে জান জুদা হয়ে যাবে।
কেহ বা বেহেস্তে কেহ দোজাকেতে রবে॥
ইরাদা আপন দিলে সকলেতে করে।
যাইবে ঐ বেহেস্তেতে এ দুনিয়া ছেড়ে॥

 

 

কোরান বেহেস্ত বয়ান যেই তরেহ করে।
মুফস্মিল শুনাইব তোমাদের ঘরে॥
নানান মুস্কিল আদ্‌মি হৈয়ে গিয়া পার।
আখের পৌঁছিবে গিয়া বেহেস্তের দ্বার॥
দ্বারের উপরে আছে নবীর তালাও।
চলিতে ফিরিতে তুমি নজ্‌দিগেতে যাও॥
যত মঞ্জিল আছে দেখ তাহার চওড়াই।
ততই পাইবে তুমি তাহার লম্বাই॥
উল্‌ কাতর দরয়া আছে বেহেস্ত অন্দর।
তাহা হতে আসে পানি তালাও ভিতর॥
খুশবুতে মাত করে তালাবের পানি।
মুসকের খুশবু তাহে আছে নাকি শুনি॥
সেতারা বাহার করে যেমন আস্মান।
কিনারায় তেমনি আছে পেয়ালা সাজান॥
মোমিন যখন গিয়া পৌঁছিবে সেথায়।
হাতে করে লবে বাটি জনায় জনায়॥
সেই পানি পিলে নাকি শুনি একবার।
পেয়াসা না হবে কভি ইন্সান আবার॥
এ হয় আওল খুশি বেহেস্তের দ্বারে।
নানান আছয়ে আরও বলিব তোমারে॥
খেয়ালে চলহ তুমি সাতেতে আমার।
আজব দেখিবে নানা একের পরে আর॥
বহুত বড় ফাটক আছে দুয়ার উপর।
মণি মুক্তা এই সব তাহার পাথর॥
আল্লামিয়া গড়িয়াছে যত ইমারত।
ইট মাটি দেখাইবে কাহার তাকত্‌॥
নীচে পানে নিগা করি দেখ এক বার।
সফেদ গোমের ময়দা মাটি হয় তার॥
থোড়ামাটি তুলে লও আপনার হাতে।
মজার মজার বু পাবে তুমি তাতে॥
দোর ছাড়ি চল যাই বেহেস্ত মাঝার।
ইমারত দেখ সব বানান সোনার॥
এক দরখত আছে দেখ ঠিক বিচ্‌খানা।
তাহার ধড়েতে দেখ সিরফ খাটি সোনা॥
তুবা নামে সেই পেড় আছয়ে মশুর।
ডালি তার পৌঁছিয়াছে বহু বহু দূর॥
হরেক মোমিন তরে আছে একডাল।
তরেহ তরেহ আছে তাহে খাইবার মাল॥
ডালিম আঙ্গুর আছে বড় বড় দানা।
হাজার তরের পাবে ফল তাতে নানা॥
লজ্জত সুন্দর তার আদ্‌মি নাহি জানে।
তাকত কাহার্‌ আছে সে কথা বাখানে॥
আর এক মজা দেখ পেড়ের বাবত।
উঠিতে পেড়েতে নাহি হবে জরুরত॥
নুয়ে ডালি আস্‌বে তবে মোমিনের হাতে।
নানা রকম ফল নিয়া আপনার সাতে॥
তখন মোমিনগণ ভাঙ্গিয়া লইবে।
আপনার মর্জ্জির মত সকলে খাইবে॥
দরখত তুবাতে বাকি যত ফল রবে।
বকতে সকল সেই ফাটিয়া পড়িবে॥
জানোয়ার হবে বাহির সে সকল হতে।
মোমিনগণ ধরে লয়ে চড়িবে তাহাতে॥

লেখা আছে বেহেস্তেতে দাখিল হইলে।
খানা দিবে খোদাতালা মোমিন সকলে॥
বড় খানা হবে ভাই সেখানে তখন।
হাজার হাজার লোক খাইবে যখন॥
কি মজা হইবে তবে সেথা দেখিবারে।
মোমিন বসিবে যবে খানা খাইবারে॥
সবূজ রঙ্গের পোষ পরিয়া সবাই।
বসিবে খাইতে খানা সবে এক ঠাঁই॥
মণি মুক্তা জড়া পোষ কে দেখেছে কবে।
সেরেফ মোমিন ভেস্তে খোদা হতে পাবে॥
চারি পাসে খাদিমগণ করিবে খিদমত।
উদুল করিবে হুকুম কি হয় তাকত্‌॥
এই তরেহ খানা খেতে বসিবে যখন।
আসিবে তাদের মাঝে আল্লাই তখন॥
খুদ সেই খানা তবে আল্লা খাওয়াইবে।
মোমিনের হাতে রুটি খোদা নিজে দিবে॥
খানার বয়ান ভাই এ রকম আছে।
কেমনে তফসির তার করি তব কাছে॥
বড় বড় দু এক বাত বলে যাই শুন।
মছলি হইবে সেথা নাম যার নূন॥
গোস্ত হইবে সেথা বয়েল বালাম।
কেতাবেতে আছে লেখা ঐ তার নাম॥
দুনিয়া হইবে রুটী আল্লা দিবে হাতে।
ভাঙ্গিয়া লইবে মোমিন আপনার পাতে॥
সত্তর হাজার খাবে কলিজা তাহার।
তমাম না হবে তবু বাকি রবে তার॥

খানা খেয়ে সর্ব্ব জনে আসুদা হইলে।
যাইবে হরেক জন আপন বাকুলে॥
নোকর পাইবে সেথা আশিহি হাজার।
যাহারা করিতে থাকে তার ইন্তেজার॥
বাহাত্তর জরু পাবে পৌছিয়া তথায়।
যাহারা হাজির রবে আল্লার কথায়॥
বাহাত্তর জরু রবে বাহাত্তর ঘরে।
তখনি পাইবে তারে দিল চাবে যারে॥

খানা খাবে হররোজ জরুদের সাথে।
সোনার মেজেতে আর ভাল সোনার পাতে॥
সরাবেতে রাত দিন থাকিবে মগন।
সরাবের কমি নাহি হবে কদাচন॥
বেহেস্তের মাঝে দিয়া দরিয়া বহিবে।
যে যত পরিবে সেথা আনিয়া খাইবে॥
আসুদা যে নাহি হবে তুলিয়া খাইয়া।
দরিয়ায় পড়িবে সেই তবে ঝাঁপ দিয়া॥
গোঁতা মেরে মনের সকে খাইবে তখন।
আসুদা না হবে দিল তার যত ক্ষণ॥
এই সব মজা সেথা হর রোজ হইবে।
মোমিন একামে কভি থকে নাহি যাবে॥
হামেশা থাকিবে সেথা জোয়ানি তাহার।
বিমারি না ঘেরিবেক সেখানেতে আর॥

 

 

শুনিলে ভেস্তের কথা কোরাণ যাহা কয়।
ইঞ্জিলে বেহেস্ত বয়ান এই তরেহ হয়॥
পাক বেহেস্তের কথা তবে শুন ভাই।
দিল দিয়া কর ইন্‌সাফ সেরেফ ইহা চাই॥
ধড়ের মাঝেতে রবে যত রোজ জান।
পিয়াসা বা ভূকা হবে জানিবে ইনসান॥
দেহেরে বাঁচাবা তরে যত জরুরত।
শরম ঢাকিবা তরে পোষ খুব্‌সুরত॥
দেহে থেকে জান যবে জুদা হয়ে যাবে।
এ সকল জরুরত তখন নাহি রবে॥
তার গাওয়াহ দেখ যদি খানা নাহি পায়।
দুসরা দিনে জিসম তার শুকাইয়া যায়॥
কমজোর হইলে জিসম জান বাঁচা ভার।
রফ্‌তে রফ্‌তে হয়ে পড়ে আদমি লাচার॥
দেহ থেকে জান যবে জুদা হৈয়ে যাবে।
কে বল খানা খেয়ে জিসম্‌ বাঁচাইবে॥
জানের নাহিক কাম খানা পিনা সাথে।
কে পারে খাইয়া খানা জানেরে আনিতে।
অতএব খানা বিনা জিসম মারে যায়।
যেমনকার জান তেম্‌নি হামেশাতে রয়॥
বেহেস্তেতে এই তরেহ যদি খেতে হয়।
দুনিয়া সে হবে তবে বেহেস্ত তো নয়॥
সেথা যদি খাই মোরা হেথা যথা খাই।
তফাওত বল তবে কিবা হল ভাই॥
দেখহ মোদের জিমস এই দুনিয়াতে।
তৈয়ার হইয়াছে ইহা খুন জিসমেতে॥
অএছা দেহ নাহি যাবে সেথা মোদের সাথে।
বাঁচাইতে কারে তবে হইবে খাইতে॥
তবে কি মোদের জিমস হবে না কখন।
জরুর হইবে বটে আর তরেহ জান॥
রূহানী হইবে জিমস ক্ষয় নাহি যার।
জিন্দিগি যার নহে মকুফ খানার উপর॥
রূহানী হইবে খানা খাইতে পাইব।
যখন খাইব তখন জানিতে পারিব॥
জিসমানি খানা সেথা খাইব না মোরা।
বেহেস্ত জিস্‌মানি নহে জানা আছে সারা॥
দুনিয়াবি জিসম মোদের ক্ষয় হয়ে যায়।
ধড় ছেড়ে জান যবে দেখ জুদা হয়।
বেহেস্তে যাইয়া তার যে জিমস হয়।
আরেক তরের তাহা জানিহ নিশ্চয়॥
আর এক তরের খানা তবে তার চাই।
রূহানী খানা জিমস তারে জান ভাই॥
বেদানা আঙ্গুর তুবা যত বল আর।
কিছুরি হইবে নাক সেখানে দরকার॥
সেরেফ যদি খানা খাওা রংকরা হয়।
জিমস পূজা হয় তারে আক্বেল মন্দে কয়॥
জিমস পূজা হইবে না সেখানে কখন।
রূহদিয়া রূহ আল্লায় ভজিব তখন॥
বেহেস্তেতে জরুরত ফাটকের নাই।
চোর ডাকাইত সেথা পাবে নাক ঠাঁই॥
অথবা দাখিল যারা হইবে সেথায়।
বাহির হইতে তারা কভি নাহি চায়॥
এমন উমদা জগা ছাড়িয়া যাইতে।
কেহ নাহি চাহিবেক আপন দিলেতে॥
ইঞ্জিল বলে বেহেস্তের বার দ্বার আছে।
বড় বড় দুয়ার সে বলি কার কাছে॥
একই সমুচা মতি এক দ্বার হয়।
মেলাও তাহাতে আর কিছু নাহি রয়॥
পথ ঘাট যত তার পাকা সোণা মত।
চমক করিছে তাহে আছে চিজ যত॥
দিনে আলো দিবা তরে সূরজ নাহি চাই।
রাতের আলোর তরে চাঁদ সেথা নাই॥
খোদার বররাহ যিনি মসীহ্‌ যাঁর নাম।
রোশন করিয়া আছে বেহেস্তের ধাম॥
নজাত পাইবে যেতনা দুনিয়া হইতে।
সেই নুরে বেড়াইবে দিনে আর রাতে॥
নগরের ভিত দেখ জওয়াহর হয়।
ভিতে ভিতে নানা মতি সদা চমকায়॥
এই তরেহ নানা বাত ইঞ্জিলেতে কয়।
সচ মুচ তাই কি বেহেস্তেতে হয়॥
এসব তমসিল কথা সকলেতে কয়।
তমসিল এসব কথা জানিহ নিশ্চয়॥
জগার তারিফ বয়ান করিবার তরে।
এই সব লেখা আছে ইঞ্জিল ভিতরে॥
এই সব পাক খুশির শুনহ বচন।
ইঞ্জিলেতে আছে এই সবের বর্ণন॥
নাপাকির কথা তুমি সেথা নাহি পাবে।
মজিবে না আদ্‌মি সেথা হুরে ও সরাবে॥
জিসমানি খাহেশ সেথা পূরা করিবারে।
উমদা ২ ঘরে লোকে রাখিবার তরে॥
বানান হয়েছে ভেস্ত যে জন বলিয়াছে।
আসল বাতে সেই জন গল্‌তি করিয়াছে॥
এক দ্বার আছে যাতে ভেস্তে মোরা যাই।
তাহার বয়ান তবে করি শুন ভাই॥
খোদাওন্দ ঈশা মসীহ্‌ হয় সেই দ্বার।
তাহা দিয়া হয়ে যাই মোরা সবে পার॥
তাহা দিয়া যেই জন সেথা নাহি যায়।
বেহেস্তেতে সেই জন জগা নাহি পায়॥
ভেস্তে যাবার সেই বই দ্বার আর নাই।
যাইতে তোমায় হবে সে জনার ঠাঁই॥
ইমান আনিতে হবে তাহার উপর।
তাহা হলে হবে দাখিল বেহেস্ত অন্দর॥
মারা যাবে বক্তে তুমি যদি ধর আরে।
কেহ নাহি পারে তোমে লয়ে যেতে পারে॥
পাক পাকিজা সে সর্ব্ব লোকে জানে।
খোদাওন্দ বলি তারে ফেরেস্তারা মানে॥
আমাদের বেহেস্তেতে দাখিল করিবারে।
খুলিল নজাতের রাহ দুনিয়া উপরে॥
জিনম ধরিল আসি এহি দুনিয়াতে।
কাটাল অনেক দিন ইন্‌সানের সাতে॥
পাক হবা তরে লোকে নসিহত দিল।
পাক নসিহত তার জবানেতে ছিল॥
আমাদের বহু গুনাহ মিটাবার তরে।
অবশেষে দিল জান গাছের উপরে॥
নজাত দেহিন্দা হল নিজ জান দিয়া।
ইন্‌সানের তাবত্‌ গুনা নিজ পরে লিয়া॥
বেহেস্তে যাবার তরে সেই এক দ্বার।
তাহা দিয়া হতে হবে আমা সবে পার॥
তাহারে ধরহ তুমি বাঁচাইবা জান।
দাখিল হইবা তুমি আখেরে আস্‌মান॥
দোস্তের তরেতে জান অনেকে দিয়াছে।
গুনাগার তরে কবে কেবা মরিয়াছে॥
এমন বেহেস্তে কাম নাহিক আমার।
নেক করে হতে হয় যদি জিনাকার॥
মাতাল বাদশাতে খোদার না পাবে এখ্‌তার।
হায়াত কি পেতে পারে মাতাল জিনেকার॥
পাক পাকিজা খুশি হইবে সেথায়।
কেমন খুশি আছে তথা তাকি বলা যায়॥
খোদার কলামে যেত্না তবে মোরা পাই।
শুনহ দিল দিয়া তোমারে শুনাই॥
খোদা পাক বাদশাহত করিছে সেথায়।
দিন রাত খোদার নুরে সেথা আলো হয়॥
সূরজ নাহিক সেথা নাহিক সেতারা।
খোদার নুরের কাছে তারা গেছে মারা॥
ফেরিস্তারা ফিরিতেছে হাজার হাজার।
তাদের শুমার করে তাকত কাহার॥
গাইতেছে দিন রাতি পাক পাক পাক।
তাদের দেখিলে বান্দার লেগে যায় তাক॥
গায় থোড়াদের ফের করয়ে সিজ্‌দা।
ইসার গুনের বাত কহিতেছে সদা॥
খোদার জলাল তারা করিছে জাহির।
পাকিজা সকলই তার অন্দর বাহির॥
নাপাকির নাম তুমি পাবে না সেথায়।
নাপাক আদমি সেথা জগা নাহি পায়॥
তবে যে বলে হুর শরাব পাওয়া যায়।
আক্কেল হয়েছে খফ্‌ৎ পাগল সে হয়॥
ভাল নেক মরদে যদি হুর সব পায়।
নেক আওরত হলে তবে কি হবে উপায়॥
অওরত তো আছে বহুত নেক কাম করে।
হইবে দাখিল ভেস্তে মোউতের পরে॥
মরদ যদি পায় ভেস্তে বাহাত্তর হুর।
বাহাত্তর খসম পাবে আওরত জরুর॥
লাড়কাবালা হবে তবে আস মান উপর।
আসমানেতে রবে তবে মোউতের ডর॥
তবে সে আসমান নহে দুনিয়া হইবে।
দুনিয়া আসমানে ফরক কিছু নাহি রবে॥
অতএব বলি শুন মুসলমান ভাই।
জিসমানি কোনই চিজ বেহেস্তেতে নাই॥
জিসমের খাহেশ যে পুরা করিবারে।
নানা তরেহ এই খানে কৌশিশ করে॥
দুনিয়াতে বলে থাকে যারে গুনাগার।
তাহার কি হয় জগা বেহেস্ত মাঝার॥
তাহার নফরত যদি মোরা সবে করি।
করিবে না কি আল্লা তালা আসমান উপরি॥
যদি আল্লা হেন লোকে জগা নাহি দেয়।
তবে কি দিবেক করতে গুনাহ সেথায়॥
এ বাত বাওর লায়েক কভি নাহি হয়।
হুর শরাব নাই সেথা জানিহ নিশ্চয়॥
তখত আছয়ে সেথা আল্লাহ তালার।
জওহারতে তৈয়ার আছে সফেদ রং তার॥
তাহার উপরে বসি আছে রূহ আল্লা।
সকলের বড়া সেই সকলের বালা॥
মজমুয়া হইয়া সেথা আছয়ে মোমিন।
জলাল তাহার কভি না দেখে জমিন॥
খুস ও খুর্‌রম আছে পাক জন যত।
আলার বড়াই তাহারা করিতেছে কত॥
করিছে নমাজ ফের সিজদা করিতেছে।
তাহার জালাল তারা জাহির করিছে॥
তাহারই তারিফ তারা গাইছে হাজার।
গাইছে নানান গীত কে করে শুমার॥
নজাত দেহেন্দা যে খোদার ফর্জ্জন্দ।
যাহার দৌলতে মোমিন হয়েছে আনন্দ॥
তাল পাতা লয়ে সবে আপনাদের হাতে।
তাহারই গাইবে তারিফ বহু বহু মতে॥
দুনিয়াতে আছে যত আদ্‌মির ফিকের।
আসিবে না এক বারও তাদের দিলে ফের॥
না থাকিবে মোমিন কভি বিমার সেথায়।
না থাকিবে সেথা কভি মউতের ভয়॥
না থাকিবে সেথা কভি পানির খাহেশ।
না থাকিবে সেথা কভি দুঃখেরও লেশ॥
খোদা তাদের চোকের পানি খুদে মুছাইবে।
দুঃখ বিমারি সেথা আর নাহি হবে॥
মৌত হবে না সেথা ফের কভি আর।
মৌতের হাত তারা হয়ে যাবে পোর॥
খাইবার ফিকের সেথা আর নাহি হবে।
হেথাকার যত কিছু হেথা রয়ে যাবে॥
এই তরেহ বেহেস্তেতে খোদার সেবা হবে।
এই তরেহ বেহেস্তেতে পাক লোক রবে॥
করিবে খোদার সেবা সব জন মিলে।
সেবা বই আর কিছু ভাবিবে না দিলে॥
পাক দিল লয়ে সেবা করিবে তাঁহার।
না হইলে পাক দিল হবে নাক পার॥
যা কিছু করিব সব পাক হওয়া চাই।
নতুবা বেহেস্তে কেহ পাবে নাক ঠাঁই॥
জরা গুনাহ করেছিল ফেরিস্তা এক জন।
হাঁকাইল ভেস্ত হতে তাহারে তখন॥
নাফা আশা রবে নাক সেখানে কখন।
উমদা খানা পাবে নাক সেথা কোন জন॥
জরু খসম ঘর করা সেথা নাহি হয়।
সওারির তরে ঘোড়া সেথা নাহি রয়॥
খোদার বন্দিগি করি নফা উঠাইবে।
এই মত ভাব যার দিলেতে রহিবে॥
মারা গেছে সেই জন জানিহ নিশ্চয়।
তাহার নজাতের আছে অতি বড় ভয়॥
হুর পাব জরু পাব শরাব পাব পিতে।
ভাল ভাল ঘোড়া আছে সেথায় চঢ়িতে॥
ভাল ২ মকান আছে থাকিতে সেথায়।
মোমিন পাইবে যবে বেহেস্তেতে যায়॥
এ সব খুদগরজি কথা বেহেস্তেতে নাই।
খুদগরজি সেথা কভি চলিবে না ভাই॥
খুদগরজি ছেড়ে দিয়া পাক দিল হবে।
তবে ভাই বেহেস্তেতে জগা তুমি পারে॥
যেতে হলে এই ভেস্তে এক রাহা আছে।
খোদাওন্দ ইসা মশীহ চল তাঁর কাছে॥
বড় মেহেরবান সেই দুনিয়া মাঝারে।
আপনার জান দিয়া বাঁচায় গুনাগারে॥
কে এমন করিয়াছে দুনিয়াতে বল।
আপনার করে কাম দেখহ সকল॥
লহু বহাইয়া আর আপন জান দিয়া।
নজাতের চশ্‌মা দিল তোমারে খুলিয়া॥
এখন নজাত সেই লইয়া তোমায়।
ডাকিছে হমেশা দেখ আয় আয় আয়॥
নজাতের পিয়াস যদি লাগিয়াছে তোরে।
আসিয়া আমার কাছে পিও দিল ভরে॥
পয়সা লাগিবে নাক মুফত পাইবে।
যেই জন ইমান আনি তাঁর কাছে যাবে॥
আর যত দেখ তুমি কোন কামের নয়।
ফেরিবি দেখহ তুমি হয় কি না হয়॥
আপনার মতলব সবে হাসিল্‌ করিবারে।
করি গেল নানা কাম দুনিয়া মাঝারে॥
খোদাওন্দ মশীহ যত কাম করিয়াছে।
নজাত দেহেন্দার সাবুত বহুত দিয়াছে॥
মাঙ্গহ নাজাত তুমি আসি তার ঠাঁই।
জরুর জরুর তুমি বাঁচি যাবে ভাই॥

 

 

তামাম সুদ॥

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২১ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬১ সালের পূর্বে প্রকাশিত সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।

বিঃদ্রঃ এই লেখা/রচনা/বইয়ের লেখকের মৃত্যুসাল কোনও তথ্যসূত্র দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়। ভবিষ্যতে কোনো তথ্যসূত্র দ্বারা লেখকের মৃত্যুসাল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে এলে, এই লেখকের রচনার প্রকৃত কপিরাইট অবস্থা যাচাই করা সম্ভব হবে। নতুন তথ্য অনুসারে এই বইটির কপিরাইট অবস্থা ভবিষ্যতে বিচার করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই লেখাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্গত কারণ এই লেখাটি ১লা জানুয়ারি ১৯২৬ সালের আগে প্রকাশিত। এই লেখাটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কপিরাইটেড হতে পারে। (বিস্তারিত জানার জন্য এই সাহায্য পাতা দেখুন)।